
কসম করার বিধানের মধ্যে রয়েছেঃ
.
প্রথমত, আল্লাহ্ ছাড়া অন্য কারো নামে শপথ করা বা কসম করা শিরক ও কুফর। তাই কখনো শপথ করলে একমাত্র আল্লাহর নামেই করতে হবে। নিজের মাথা, বুকে বা শরীর ছুঁয়ে, সন্তানদের কসম করে, বিদ্যা, মাটির নামে বা এইগুলো ছুঁয়ে কসম করা – এইসবগুলো কাজ সম্পূর্ণ হারাম।
দ্বিতীয়ত, কসম করলে অবশ্যই জায়েজ কোনো কাজের জন্য করতে হবে। হারাম কোনো কাজের জন্য কসম করা জায়েজ নয়, আর করলেও সেই কসম রক্ষা করা যাবেনা। বরং হারাম কসম ভংগ করে কাফফারা দিতে হবে।
.
এখন কেউ যদি কোনো কসম করেন এবং সেটা ভেঙ্গে ফেলেন এর পরিবর্তে তাকে কাফফারা দিতে হবে। আর কাফফারা দিলে তিনি কসম করার আগের অবস্থায় ফিরে যাবেন। যেমন, কেউ যদি কসম করে বলেন, আল্লাহর কসম আমি অমুক জায়গায় যাবো। কিন্তু তিনি পরে আর যেতে চাচ্ছেন না, অথবা যাওয়া তার পক্ষে সম্ভব হচ্ছেনা। তখন তিনি যদি কসম ভেঙ্গে ফেলন (ইচ্ছাকৃত অথবা অনিচ্ছাকৃত) – তাহলে তিনি কসম ভাঙ্গার জন্য কাফফারা দেবেন। আর কাফফারা দেওয়ার পর না গেলেও কোনো সমস্যা নেই।
.
কসম ভাঙ্গার জন্য কাফফারা দেওয়ার তিনটা উপায় আছে। যার সামর্থ আছে তার পছন্দ অনুযায়ী যেকোনো একটাকে বেছে নিবেন। আর এই তিনটা না পারলে চতুর্থ আরেকটা আছে সেটা করতে হবে। কিন্তু তিনটার সামর্থ থাকলে তার মধ্য থেকে যেকোনো একটাকেই বেছে নিতে হবে।
___
১. দশজন মিসকীনকে খাবার দিতে হবে। খাবার এমন মানের দিতে হবে যা তার পরিবারের জন্য ব্যয় করে থাকেন।
২. অথবা দশজন মিসকীনকে পোশাক দিতে হবে
৩. অথবা একজন দাস মুক্ত করতে হবে
৪. কারো পক্ষে যদি উপরের তিনটা কাজ করার মতো আর্থিক সামর্থ্য না থাকে তাহলে তিনদিন রোজা রাখতে হবে।
___
এই সম্পর্কে আল্লাহ্ বলেনঃ “আল্লাহ তোমাদেরকে পাকড়াও করেন না তোমাদের অনর্থক শপথের জন্যে; কিন্তু পাকড়াও করেন ঐ শপথের জন্যে যা তোমরা মজবুত করে বাধ। অতএব, এর কাফফরা এই যে, দশজন দরিদ্রকে খাদ্য প্রদান করবে; মধ্যম শ্রেনীর খাদ্য যা তোমরা স্বীয় পরিবারকে দিয়ে থাক। অথবা, তাদেরকে বস্ত্র প্রদান করবে অথবা, একজন ক্রীতদাস কিংবা দাসী মুক্ত করে দিবে। যে ব্যক্তি সামর্থ্য রাখে না, সে তিন দিন রোযা রাখবে। এটা কাফফরা তোমাদের শপথের, যখন শপথ করবে। তোমরা স্বীয় শপথসমূহ রক্ষা কর এমনিভাবে আল্লাহ তোমাদের জন্য স্বীয় নির্দেশ বর্ণনা করেন, যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা স্বীকার কর।” সুরা আল-মায়িদাহ, আয়াত ৮৯।
উল্লেখ্যঃ কাফফারা টাকা দিলে হবেনা। যেটা দিয়ে কাফফারা আদায় করতে চাচ্ছেন (খাবার অথবা পোশাক) ঠিক সেটাই দিতে হবে, তার মূল্য দেওয়া জায়েজ নয়।
একজন মিসকীনের জন্য খাবার দিতে হবেঃ
অর্ধ সা বা প্রায় দেড় কেজি খাদ্য দ্রব্য যেমন - দেড় কেজি চাল।
আর বড় কোনো বিষয় ছাড়া কসম করা উচিত না। আর কথায় কথায় কসম করে কিছু বলার অভ্যাস ছেড়ে দেওয়া উচিত।
________________________
আল্লাহ ছাড়া অন্য যে কোনো কিছুর নামে কসম বা শপথ করা শিরক :
___
রাসুল (সা.) বলেছেন, "যে ব্যক্তি আল্লাহ ব্যতীত অন্যের নামে কসম খেল, সে যেন (আল্লাহর সঙ্গে) শিরক করলো।" [ সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং-৩২৩৬ ]
___
কসম সম্পর্কিত কিছু শিরকের নমুনা :
১) নিজের, ছেলেমেয়ের, বা অন্য কারো গা ছুয়ে কোনো কিছু বলা (অর্থাত কসম করা)
২) পিতা মাতা বা সন্তানের নামে কসম করা
৩) নবী (সা.) বা কাবার নামে শপথ করা
৪) বিদ্যা বা বই ছুয়ে শপথ করা
৫) দেশের বা মাটির শপথ করা
বিঃদ্রঃ সম্মানিত ওলামায়ে কেরাম এই শিরককে শিরকে আসগার বা ছোটো শিরক বলে আখ্যায়িত করেছেন। অর্থাৎ এইটা মারাত্মক একটা কবীরা গুনাহ, তোওবা না করলে জাহান্নামে শাস্তি হবেই নিশ্চিত। কিন্তু, এই শিরক করে ফেললে সে কাফের হয়ে যায় না, ইসলাম থেকে বের হয়ে চির জাহান্নামী হয়না। জাহান্নামে পাপের ফলে কঠিন শাস্তি পাওয়ার পরে জান্নাতে যেতে পারে।
No comments:
Post a Comment