Sunday, December 30, 2018

বর্ষবরণঃ



No automatic alt text available.


মুসলিমদের দিবসবরণ আছে একটি দুআ বলার মাধ্যমে,
(( اَللَّهُمَّ بِكَ أَصْبَحْنَا ، وَبِكَ أَمْسَيْنَا ، وَبِكَ نَحْيَا ، وَبِكَ نَمُوْتُ ، وَإِلَيْكَ النُّشُورُ )) . 
`আল্লাহুম্মা বিকা আসবাহনা ওয়া বিকা আমসাইনা ওয়া বিকা নাহয়া ওয়া বিকা নামুত, ওয়া ইলাইকান নুশুর।' 
“হে আল্লাহ্‌! তোমার অনুগ্রহে আমরা ভোরে উপনীত হই, সন্ধ্যায় উপনীত হই এবং বাঁচি ও মরি। আর তোমার দিকেই আমাদের প্রত্যাবর্তন”। (আবুদাউদ ৫০৭০, তিরমিজী ৩৩৯১নং) 
মাসবরণ আছে নতুন চাঁদ দর্শন করে নিরাপত্তা ও শান্তি কামনার দুআ পড়ার মাধ্যমে,
(( اللَّهُمَّ أَهِلَّهُ عَلَيْنَا بِالأَمْنِ وَالإيمانِ ، وَالسَّلاَمَةِ وَالإسْلاَمِ ، رَبِّي وَرَبُّكَ اللهُ )). 
`আল্লাহুম্মা আহিল্লাহু আলাইনা বিল-আমনি ওয়াল-ঈমান, ওয়াস-সালামাতি ওয়াল-ইসলাম, রাব্বী ওয়া রাব্বুকাল্লাহ'.
“হে আল্লাহ! আমাদের জন্য চাঁদটিকে বরকতময় (নিরাপদ), ঈমান, নিরাপত্তা ও শান্তির বাহন করে উদিত করো। হে নতুন চাঁদ আল্লাহ তা'আলা আমারও প্রভু, তোমারও প্রভু।'' (তিরমিজী ৩৪৫১নং)
কিন্তু বর্ষবরণের কোন দুআ নেই, কোন রীতি নেই। ইসলামী হিজরী বর্ষবরণ পালন করার কোন নির্দেশ নেই ইসলামে। তাহলে ইংরেজি, ফারসি বা বাংলা বর্ষ বরণ করার রীতি কিভাবে মুসলিমদের গ্রহণযোগ্য হতে পারে?
যদি বলেন, `নতুন বছরে শুভ কামনা করা হয়।' তাহলে ঈশ্বরের কাছে কামনা ও দুআ কি নেচে-গেয়ে ফুর্তি করে করা যায়?
তাছাড়া মুসলিমের শুভ ও শান্তি কামনা তো প্রত্যেক দিন ও প্রত্যেক মাসে হয়। দিনের পাঁচওয়াক্ত প্রত্যেক স্বলাতের মাধ্যমে হয়। তাহলে কেন এই বাড়তি ঘটা?
আসলে এই ঘটা, এই আড়ম্বর কেবল আনন্দ-ফুর্তি করার জন্য। আসলে বর্ষবরণ একটি স্ফূর্তি করার মাধ্যম। 
মাদক খেয়ে বাদ্য বাজিয়ে যুবক-যুবতী অবাধে মিশে নেচে-গেয়ে উল্লাস করার মাধ্যম। 
বর্ষবরণের প্রথা বিজাতীয় প্রথা, বড় প্রাচীন। অগ্নিপূজক মাজুসীরা নওরোজ পালন করতো, এখনো করে। জানা যায় খ্রিস্টপূর্ব ৮০০ সালে সম্রাট জামশেদ এর প্রবর্তন করেন। 
খ্রিস্টপূর্ব ৪৬ সালে সম্রাট জুলিয়াস ইংরেজি নববর্ষ পালন করা শুরু করেন।
পরবর্তীতে ১৫৮২ সালে গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার অনুসারে পহেলা জানুয়ারি নববর্ষ পালনের দিন হিসাবে স্থির হয়।
অবশ্য পারস্য দেশে ফারসী নববর্ষ (নওরোজ) অন্য দিনে পালিত হয়ে থাকে।
ইংরেজি নববর্ষ কেবল খ্রিস্টানদের পালন করার কথা। কিন্তু পাশ্চাত্য-মুগ্ধ ও ফুর্তি-সন্ধানী হিন্দু-মুসলিম ইত্যাদি জাতির লোকেরাও অধুনা কালে তা পালন করতে শুরু করে।
বলাই বাহুল্য যে, এ উত্সব ইসলামের কিছু নয়, মুসলিমদের পালনীয় নয়। এ উত্সব বিজাতীয় উত্সব। আর ইসলামের নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
« مَنْ تَشَبَّهَ بِقَوْمٍ فَهُوَ مِنْهُمْ ».
`যে ব্যক্তি যে জাতির সাদৃশ্য অবলম্বন করবে, সে তাদেরই একজন।' (আবুদাউদ ৪০৩৩, স: জামে ৬১৪৯নং)
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে বর্ষবরণের উত্সবে যা করা হয়, তাতেও ইসলামের সমর্থন নেই। 
গান-বাজনা করা, নাচন-কোদন করা, ম্যাসেজের মাধ্যমে পরস্পরকে অভিবাদন জানানো, গ্রিটিং কার্ড বিনিময় করা, যুবক-যুবতীর অবাধ মিলামিশা করা, মেয়েদের শরীর প্রদর্শন করা, প্রেমিক-প্রেমিকার প্রেম ঝালানো, আতশবাজি করা, নানা বিনোদনমূলক পার্টির আয়োজন করা, সাজসজ্জা করা, ভালো খাওয়া-দাওয়া করা, মাদকদ্রব্য সেবন করা, রং মাখা, আরো কত বিজাতীয় সংস্কৃতির ঘটা দেখা যায় এই উত্সবে। যা ইসলামে করা বৈধ নয়।
এই উত্সবের ফাঁকে কত অঘটন ও দুর্ঘটনা ঘটে। ইভটিজিং হয়, ধর্ষণ ও ব্যভিচার হয়, মেয়েদের কত শ্লীলতাহানি হয়। 
মহান আল্লাহ বলেছেন,
{قُلْ إِنَّمَا حَرَّمَ رَبِّيَ الْفَوَاحِشَ مَا ظَهَرَ مِنْهَا وَمَا بَطَنَ وَالإِثْمَ وَالْبَغْيَ بِغَيْرِ الْحَقِّ وَأَن تُشْرِكُواْ بِاللّهِ مَا لَمْ يُنَزِّلْ بِهِ سُلْطَانًا وَأَن تَقُولُواْ عَلَى اللّهِ مَا لاَ تَعْلَمُونَ} (33) سورة الأعراف
`হে মুহাম্মাদ! তাদেরকে বলে দাও, আল্লাহ যেসব জিনিস হারাম করেছেন সেগুলো হচ্ছেঃ প্রকাশ্য ও গোপন অশ্লীলতা, পাপাচার, অন্যায় বিদ্রোহাচরণ, আল্লাহর সাথে তোমাদের কাউকে শরীক করা যার সপক্ষে তিনি কোন সনদ পাঠাননি এবং আল্লাহর নামে তোমাদের এমন কোন কথা বলা, যা মূলত তিনি বলেছেন বলে তোমাদের জানা নেই৷' (আরাফ ৩৩ আয়াত) 
`ইসলামে তুমি দিয়ে কবর
মুসলিম ব’লে কর ফখর!
মোনাফেক তুমি সেরা বে-দীন!
ইসলামে যারা করে জবেহ্,
তুমি তাহাদেরি হও তাবে।
তুমি জুতো-বওয়া তারি অধীন।'
হে আল্লাহ! তুমি বিজাতিমুগ্ধ এ জাতিকে সুমতি দাও।

সংগ্রহে : আব্দুল হামীদ আল-ফাইজী আল-মাদানী

No comments:

Post a Comment