Thursday, April 9, 2015

আর সে যা চুষে নিবে তাই আবার ছাড়তে থাকে। এখন আপনি কার সাথে বন্ধুত্ব করবেন/




আসসালামু আলাইকুম 
মানুষের অন্তর হচ্ছে স্পন্স এর মত, যা খারাপ পানির স্পর্শ পেলে সেই খারাপ পানি চুষে নেয়। আর ভাল পানির স্পর্শ পেলে ভাল পানি চুষে নেয়। 
আর সে যা চুষে নিবে তাই আবার ছাড়তে থাকে।
এখন আপনি কার সাথে বন্ধুত্ব করবেন/
বন্ধু নির্বাচন : আল্লাহ বলেন :
==
মু'মিনগণ যেন অন্য মু'মিনকে ছেড়ে কোন কাফিরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ না করে। যারা এরূপ করবে আল্লাহ্‌র সাথে তাদের কোন সম্পর্ক থাকবে না। তবে যদি তোমরা তাদের পক্ষ থেকে কোন অনিষ্টের আশংকা কর, তবে তাদের সাথে সাবধানতার সাথে থাকবে, আল্লাহ্‌ তা'আলা তাঁর সম্পর্কে তোমাদের সতর্ক করেছেন এবং সবাইকে তাঁর কাছেই ফিরে যেতে হবে। (সূরা : আলু-ইমরান-২৮)
==
হে মু'মিনগণ, তোমরা ইয়াহুদী ও খ্রীষ্টানদেরকে বন্ধু হিসাবে গ্রহণ করো না। তারা একে অপরের বন্ধু। তোমাদের মধ্যে যে তাদের সাথে বন্ধুত্ব করবে, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহ্‌ জালিমদেরকে পথ প্রদর্শন করেন না। (সূরা : আল মায়িদাহ-৫১)
আল্লাহ বলেন, তোমাদের বন্ধু তো আল্লাহ, তার রসূল ও মু'মিনগণ-যারা বিনত হয়ে সলাত কায়িম করে ও যাকাত দেয়। (সূরা মায়িদাহ ৫৫)
আবূ সাঈদ (রাঃ) হতে বর্ণিত, নাবী সল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেন : ঈমানদার ব্যতীত কাউকেও সাথী বানিও না। আর পরহেযগার ব্যতীত অন্য কেউ যেন তোমার খানা না খায়। (তিরমিযী, আবূ দাউদ, দারেমী ও মিশকাত হাঃ ৪৭৯৮)
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) বলেন, রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : মানুষ তাঁর বন্ধুর আদর্শে গড়ে উঠে। সুতরাং তোমাদের প্রত্যেকের লক্ষ্য রাখা উচিত, সে কাকে বন্ধু বানাচ্ছে। (আহমাদ, তিরমিযী, আবূ দাউদ, মিশকাত হাঃ ৪৭৯৯)
আলী (রাঃ) বলেন, বুদ্ধিমান ও সত্যবাদী ব্যক্তি ছাড়া আর কারো সঙ্গ কামনা করো না। তাই আয়াত ও হাদীসকে ভিত্তি করে বন্ধু নির্বাচন করতে হবে কতগুলো বাহ্যিক যোগ্যতার দিকে লক্ষ্য রেখে। যেমন : চাষ যদি করতে হয়, তবে উর্বর জমিতে করলেই ভাল ফসল পাওয়ার আশা থাকে। হাজারো মোমবাতি বা জোনাকী পোকার আলোর চেয়ে একটি মাত্র ইলেকট্রিক লাইট অধিকতর ফলদায়ক। অনুরূপভাবে সমাজে এমন কতগুলো লোক আছে যারা এক জনের প্রভাবে শত শত লোককে প্রভাবিত, পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত করতে সক্ষম। অতএব এমন সম্ভাবনাময় সুপ্ত গুণের অধিকারী ব্যক্তিকেই বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করার পরিকল্পনা নিতে হবে। তার মধ্যে প্রাথমিকভাবে খুঁজতে হবে যেসব গুণাবলী তাহচ্ছে- মেধা, চরিত্র, বুদ্ধিমত্তা, কর্মক্ষমতা, সমাজে প্রভাব ইত্যাদি। এসব গুণাবলীর ভিত্তিতে যে ব্যক্তিকে অধিকতর যোগ্যতা সম্পন্ন মনে করা হবে তাকেই বন্ধু করার জন্য টারগেট (কটরথর্ণ) হিসেবে নির্ধারণ করে প্রথমে নিজের অন্তরে জায়গা দিয়ে আন্তরিকভাবে ভালোবেসে অতঃপর হৃদয়-মন দিয়ে একনিষ্টভাবে ভালবাসতে পারলেই তাকে বন্ধুত্বের বন্ধনে আবদ্ধ করার জন্য অগ্রসর হওয়া যায়। অন্যথায় পরাজয় ও ব্যর্থতার আশঙ্কা রয়েছে। যদি ধোঁকা, প্রতারণা বা প্ররোচনার আশ্রয় নেয়া হয়, তাহলে যে কোন মুহূর্তে হোঁচট খেতে হবে। কৃত্রিম ভালোবাসা, তোষামোদ প্রভৃতি জাল টাকার মতো হঠাৎ কোন না কোন মুহূর্তে ধরা পড়ে গেলে অবশ্যই অপমানিত হতে হবে। সুতরাং যাকে অন্তর দিয়ে ভালবাসা যায় তাকেই বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করতে হবে।
সত্যিকারের বন্ধুর ভূমিকা হবে ভাল পথেই চলতে সহায়তা করা এবং তাই হবে প্রকৃত উপকার 

No comments:

Post a Comment