Wednesday, May 13, 2015

মানুষ কর্মফল অনুসারে তিন দলে বিভক্ত হবে।




মানুষ কর্মফল অনুসারে তিন দলে বিভক্ত
হবে।
*********************************
হাশরের ময়দানে বিচারের দিনে মানুষের
কর্মফল অনুযায়ী তিনটি দলে বিভক্ত হয়ে
পড়বে। আল্লাহর আদালতের সামনে
থাকবে একটি দল। ডান পাশে থাকবে
একটি দল। বাম পাশে থাকবে একটি দল।
পবিত্র কোরআন শরীফে এর একটা সুন্দর
চিত্র দেখানো হয়েছে। মহান আল্লাহ
বলেন-
সেদিন তোমরা তিনটি দলে বিভক্ত হবে।
ডান পাশের দল। এ দলটির কথা কি
বলবো? “বাম পাশের আরেকটি দল। এ
দলটির দূর্ভাগ্যের কথা কি বলা যায় ?
আরেকটি দল হলো অগ্রবর্তী (বা
সামনের) দল। এটা হলো সেই দল, যাদের
মর্যাদা সর্বোচ্চে। তারাই তো
সান্নিধ্যশালী লোক। তারা নেয়ামতে
পরিপূর্ণ জান্নাতে অবস্থান ও বসবাস
করবে। পূর্ববর্তী লোকদের মধ্যে বেশী
সংখ্যক হবে। আর পরবর্তী লোকদের
মধ্যে কম সংখ্যক হবে।
(সূরা ওয়াকেয়া ৭-১৪)
সামনের দলে তাঁরাই অবস্থান করবে যারা
পৃথিবীতে আল্লাহও তাঁর রাসূলের সন্তুষ্টি
অর্জনের আশায় যাবতীয় বিপদ মুসিবত
হাসি মুখে বরণ করেছেন। ইসলামী বিধান
মেনে চলার ক্ষেত্রে যারা সবচেয়ে
বেশী যোগ্যতার পরিচয় দিয়েছেন।
আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের ডাকে যারা
সবার আগে সাড়া দিয়েছেন।
সত্য বলার ক্ষেত্রে, দানের ক্ষেত্রে,
মানুষের সেবা করার ক্ষেত্রে, অন্যায়
অসত্যের বিরুদ্ধে জিহাদ করার ক্ষেত্রে,
ইসলামী বিধি বিধান সমাজে-দেশে
প্রতিষ্ঠিত করার সংগ্রাম করার
ক্ষেত্রে, ইসলামী আদর্শ প্রচারের
ক্ষেত্রে যারা সবচেয়ে বেশী অবদান
রেখেছে, তাঁরাই আল্লাহর আদালতের
সামনের আসনে স্থান পাবে। হযরত
আয়েশা রাদিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহা
হতে একটি হাদিস বর্ণিত আছে যে,
একদিন আল্লাহর নবী তাঁর সাহাবাগণকে
প্রশ্ন করলেন, তোমরা কি জানো কারা
কিয়ামতের দিন সর্বপ্রথম আল্লাহর
(কুদরতের) ছায়ায় স্থান গ্রহণ করবে?
সাহাবাগণ বললেন, তারা ওই সমস্ত লোক,
যারা কোন প্রশ্ন ছাড়াই মহাসত্যকে
গ্রহণ (অর্থাৎ ইসলামকে গ্রহণ করে তা
মান্য করে চলে) করে। তারা নিজেদের
জন্যে যে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে অন্যের
ক্ষেত্রেও সেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
পবিত্র কোরআনে সূরা ওয়াকিয়ায় এই
অগ্রবর্তী দল সম্পর্কে সূরা ওয়াকেয়ায়
বলা হয়েছে-
তারা বালিশে হেলান দিয়ে পরস্পর
মুখোমুখি হয়ে মহামূল্যবান সিংহাসনে
বসবে তাদের আশে পাশে চির
কিশোরের দল ঘুরে ফিরে আনন্দ
পরিবেশন করবে তাদের হাতে থাকবে
পানীয় পাত্র। পান পাত্র ও ঝর্ণা থেকে
আনা পরিশুদ্ধ সূরা ভরা পেয়ালা। এ সুরা
পান করে না মাথা ঘুরবে না জ্ঞান-
বিবেক-বুদ্ধি লোপ পাবে। এবং চির
কিশোরেরা তাদের সামনে পরিবেশন
করবে বিভিন্ন উপাদেয় ফলমূল, যেন তার
মধ্যে যা মন চায় তা তারা গ্রহণ করতে
পারে। উপরন্তু তাদের কাছে পরিবেশন
করা হবে বিভিন্ন পাখীর সুস্বাদু গোশ্ত।
ইচ্ছা অনুযায়ী তারা তা খাবে। তাদের
জন্যে নির্ধারিত থাকবে সুন্দর চক্ষু
বিশিষ্ট অপরূপ অপসরী। তাদের সৌন্দর্য
হবে সযত্নে রক্ষিত মণি-মুক্তার ন্যায়।
পূণ্যফল হিসেবে তারা তা লাভ করবে সে
সব সৎকাজের বিনিময়ে যা তারা
পৃথিবীতে করেছে। সেখানে তারা শুনতে
পাবে না কোন অনর্থক বাজে গালগল্প।
অথবা কোন পাপ চর্চা অসদালাপ।
তাদের কথাবার্তা আলাপ আলোচনা হবে
শালীনতাপূর্ণ। থাকবেনা তার মধ্যে
কোন প্রগলভতা। তাদেরকে শুধু, এই বলে
সম্মোধন করা হবে, আপনাদের প্রতি
সালাম। (সূরা ওয়াকিয়া)
এই সূরায় যে অল্প বয়স্ক বালক বা চির
কিশোরদের কথা বলা হয়েছে তারা
অনন্তকাল ধরে এমনি কিশোরই থাকবে।
তারা কোন দিনই যৌবন লাভ করবেনা
বা বৃদ্ধ হবে না। হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু
তা’য়ালা আনহু ও হযরত হাসান বসরী
(রাহঃ) বলেন যে, এরা ওই সমস্ত বালক
যারা সাবালক হবার পূবেই ইন্তেকাল
করেছিল। এদের কোন পাপ-পূণ্য ছিল না।
এরা কোন শাস্তিও পাবেনা।
এসব চির কিশোররা এমন সব লোকের
সন্তান হবে যারা জান্নাতে যাবার
যোগ্যতা অর্জন করেনি। কেননা
জান্নাতবাসীদের সন্তান
সম্পর্কে আল্লাহ বলেছেন- তাদের
সন্তানদেরকে তাদের সঙ্গে জান্নাতে
মিলিত করবেন। জান্নাতবাসীদের
সন্তানগণই শুধু নয়- তাদের
বয়ষ্ক সন্তানদের মধ্যে যারা জান্নাতে
যাবে তাদেরকেও মাতা-পিতার সঙ্গে
জান্নাতে একত্রে বসবাসের সুযোগ
দেয়া হবে। (সূরা তুর-২১)
হাশরের ময়দানে আল্লাহর আদালতের
ডান পাশের দল সম্পর্কে পবিত্র কোরআন
ঘোষণা করছে-
এরা লাভ করবে দূর-দূরান্ত পর্যন্ত বিস্তৃত
ছায়াযুক্ত কন্টকহীন কুল ও ফলবাগান আর
সর্বদা প্রবাহিত পানির ঝর্ণাধারা ও
অফুরন্ত ফলমূল। এ সকল ফলমূল সকল
মৌসুমেই পর্যাপ্ত পরিমানে পাওয়া
যাবে এবং তা লাভ করবে ও তার স্বাদ
লাভ করতে কোন বাধা বিপত্তি থাকবে
না। তারা উচ্চ আসনে সমাসীন থাকবে।
তাদের স্ত্রীদেরকে নতুন করে গঠন করা
হবে। তাদেরকে কুমারী বানিয়ে দেয়া
হবে। তারা হবে প্রেমদায়িনী। তাদের
বয়স হবে সৌন্দর্য পরিষ্ফুটিত হবার বয়স।
এ সবকিছু ডান পাশের মানুষের জন্যে।
(সূরা ওয়াকেয়া, ২৭-৩৮)

No comments:

Post a Comment