
মেরাজে নবী (সঃ) এর সাতাশ বছর সময় লেগেছিল!
=====================================
প্রশ্নঃ মে’রাজ সম্পর্কে এক বক্তাকে বলতে শুনেছি যে, তাতে নাকি নবী ﷺ এর ২৭ বছর সময় ব্যায় হয়েছিল। বক্তা আরও বললেন যে, নবী ﷺ এর ৯০ বৎসর হায়াত হতে ২৭ বৎসর কেটে নেওয়া হয়েছে মে’রাজের কারনে, এ কথাগুলো কতটুকু সত্য?
=====================================
প্রশ্নঃ মে’রাজ সম্পর্কে এক বক্তাকে বলতে শুনেছি যে, তাতে নাকি নবী ﷺ এর ২৭ বছর সময় ব্যায় হয়েছিল। বক্তা আরও বললেন যে, নবী ﷺ এর ৯০ বৎসর হায়াত হতে ২৭ বৎসর কেটে নেওয়া হয়েছে মে’রাজের কারনে, এ কথাগুলো কতটুকু সত্য?
উত্তরঃ
====
আস্সালামু আলাইকুম ওয়ারহমাতুল্লাহি ওয়াবারাকাতুহু।
====
আস্সালামু আলাইকুম ওয়ারহমাতুল্লাহি ওয়াবারাকাতুহু।
সাবধান! এটি কোন হাদীস নয়!
আমাদের দেশের বিদ’আতী ও দ্বীন এর ব্যাপারে গাফেল কিছু নামধারি কান্ডজ্ঞানহীন মাওলানারাই উপরোক্ত ওয়াজ করে থাকেন। তাদের অনেকে এই কথাগুলো বলেন চটকদার করে। যেমন তাদের ভাষায়ঃ
-ইন্তেকালের সময় যখন নবী ﷺ এর কাছে জিব্রাঈল (আঃ) ও মালাকুল মাওত (আঃ) হাজির হলে রাসুল ﷺ মালাকুল মাওতকে জিজ্ঞাসা করলেন,
“আপনি এত তাড়াতাড়ি এলেন কেন? আল্লাহ তো আমাকে নববই (৯০) বৎসর হায়াত দিয়েছিলেন।” তখন জিব্রাঈল (আঃ) বললেন,
“আপনার জীবনের সাতাশ (২৭) বছর তো শবে মেরাজের রাতেই অতিবাহিত হয়ে গেছে!”
আমাদের দেশের বিদ’আতী ও দ্বীন এর ব্যাপারে গাফেল কিছু নামধারি কান্ডজ্ঞানহীন মাওলানারাই উপরোক্ত ওয়াজ করে থাকেন। তাদের অনেকে এই কথাগুলো বলেন চটকদার করে। যেমন তাদের ভাষায়ঃ
-ইন্তেকালের সময় যখন নবী ﷺ এর কাছে জিব্রাঈল (আঃ) ও মালাকুল মাওত (আঃ) হাজির হলে রাসুল ﷺ মালাকুল মাওতকে জিজ্ঞাসা করলেন,
“আপনি এত তাড়াতাড়ি এলেন কেন? আল্লাহ তো আমাকে নববই (৯০) বৎসর হায়াত দিয়েছিলেন।” তখন জিব্রাঈল (আঃ) বললেন,
“আপনার জীবনের সাতাশ (২৭) বছর তো শবে মেরাজের রাতেই অতিবাহিত হয়ে গেছে!”
তাহ্বকীকঃ
======
বস্ততঃ উপরোক্ত বর্ণনার কোনো ভিত্তি আমরা পাইনি। মেরাজের সহীহ ও নির্ভরযোগ্য রেওয়ায়েতগুলোর কোথাও বলা হয়নি যে, মেরাজে নবী ﷺ এর কত সময় অতিবাহিত হয়েছিল। কুরআন মজীদ এবং সহীহ ও নির্ভরযোগ্য হাদীসে বলা হয়েছে যে, এই ঘটনাটি একটি রাতে সংঘটিত হয়েছিল। তাতে পুরো রাত লেগেছিল নাকি রাতের কিছু অংশ, না চোখের পলকেই ঘটে গিয়েছিল তা সহীহ হাদীসে নেই। হাদীসে এই কথাও নেই যে, আল্লাহ তা’আলা তখন সময় ও সৃষ্টিজগতকে স্থির রেখেছিলেন কি না।
======
বস্ততঃ উপরোক্ত বর্ণনার কোনো ভিত্তি আমরা পাইনি। মেরাজের সহীহ ও নির্ভরযোগ্য রেওয়ায়েতগুলোর কোথাও বলা হয়নি যে, মেরাজে নবী ﷺ এর কত সময় অতিবাহিত হয়েছিল। কুরআন মজীদ এবং সহীহ ও নির্ভরযোগ্য হাদীসে বলা হয়েছে যে, এই ঘটনাটি একটি রাতে সংঘটিত হয়েছিল। তাতে পুরো রাত লেগেছিল নাকি রাতের কিছু অংশ, না চোখের পলকেই ঘটে গিয়েছিল তা সহীহ হাদীসে নেই। হাদীসে এই কথাও নেই যে, আল্লাহ তা’আলা তখন সময় ও সৃষ্টিজগতকে স্থির রেখেছিলেন কি না।
অতএব মিরাজের ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ এবং তার রহস্য ও তাৎপর্য আলোচনার সময় এই সব অমূলক কথাবার্তার আশ্রয় নেওয়া খুবই নিন্দনীয় ও সর্বোতভাবে পরিত্যাজ্য। কোনো দায়িত্বশীল ও আমানতদার ব্যক্তি এ ধরনের কথা বলতে পারেন না। আল্লাহ তা’আলার পরিষ্কার আদেশ-
وَلَا تَقْفُ مَا لَيْسَ لَكَ بِهِ عِلْمٌ ۚ إِنَّ السَّمْعَ وَالْبَصَرَ وَالْفُؤَادَ كُلُّ أُولَٰئِكَ كَانَ عَنْهُ مَسْئُولًا
-যেই বিষয়ে তোমার জ্ঞান নেই, সেই বিষয়ে অনুমান দ্বারা পরিচালিত হয়ো না। নিশ্চিতভাবেই চোখ, কান ও দিল সবাইকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে৷ [সুলা বানি ইসরাইল ৩৬]
وَلَا تَقْفُ مَا لَيْسَ لَكَ بِهِ عِلْمٌ ۚ إِنَّ السَّمْعَ وَالْبَصَرَ وَالْفُؤَادَ كُلُّ أُولَٰئِكَ كَانَ عَنْهُ مَسْئُولًا
-যেই বিষয়ে তোমার জ্ঞান নেই, সেই বিষয়ে অনুমান দ্বারা পরিচালিত হয়ো না। নিশ্চিতভাবেই চোখ, কান ও দিল সবাইকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে৷ [সুলা বানি ইসরাইল ৩৬]
এরপরও শুধু অনুমান ও ধারণার উপর ভিত্তি করে এমন সব কথা বলা বড়ই অন্যায়। উপরন্তু তা যখন হয় আল্লাহ ও রাসূলের সাথে সম্পর্কিত তখন তো এর ভয়াবহতা বলার অপেক্ষা রাখে না। কেননা রাসুল ﷺ এর নামে মিথ্যারোপ জাহান্নামে যাওয়ার উসিলা, যেমন-
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَامِرِ بْنِ زُرَارَةَ، وَإِسْمَاعِيلُ بْنُ مُوسَى، قَالاَ حَدَّثَنَا شَرِيكٌ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ رِبْعِيِّ بْنِ حِرَاشٍ، عَنْ عَلِيٍّ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ " لاَ تَكْذِبُوا عَلَىَّ فَإِنَّ الْكَذِبَ عَلَىَّ يُولِجُ النَّارَ " .
-আলী ؓ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুল ﷺ বলেছেনঃ তোমারা আমার প্রতি মিথ্যারোপ করো না, কেননা আমার প্রতি মিথ্যারোপ জাহান্নামে প্রবেশ করাবে।
[বোখারী হা/১০৬;মুসলীম হা/১; সুনান ইবনু মাজাহ হা/৩১; তিরমিযী হা/২৬৬০; আহমাদ হা/৫৮৫, ৬৩০, ১০০৩, ১০৭৮, ১২৯৪]
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَامِرِ بْنِ زُرَارَةَ، وَإِسْمَاعِيلُ بْنُ مُوسَى، قَالاَ حَدَّثَنَا شَرِيكٌ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ رِبْعِيِّ بْنِ حِرَاشٍ، عَنْ عَلِيٍّ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ " لاَ تَكْذِبُوا عَلَىَّ فَإِنَّ الْكَذِبَ عَلَىَّ يُولِجُ النَّارَ " .
-আলী ؓ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুল ﷺ বলেছেনঃ তোমারা আমার প্রতি মিথ্যারোপ করো না, কেননা আমার প্রতি মিথ্যারোপ জাহান্নামে প্রবেশ করাবে।
[বোখারী হা/১০৬;মুসলীম হা/১; সুনান ইবনু মাজাহ হা/৩১; তিরমিযী হা/২৬৬০; আহমাদ হা/৫৮৫, ৬৩০, ১০০৩, ১০৭৮, ১২৯৪]
আল্লাহ তা’আলা তাঁর এবং রাসুল ﷺ এর ব্যাপারে মিথ্যা বলা থেকে আমাদের হেফাযত করুন।
আমীন...!
আমীন...!
No comments:
Post a Comment