Friday, May 15, 2015

সমাজ ও পরিবেশ সংক্রান্ত কয়েকটি ধর্মীয় নীতি




আসসালামু আলাইকুম
সমাজ ও পরিবেশ সংক্রান্ত কয়েকটি ধর্মীয় নীতি 
১- 
﴿وَتَعَاوَنُوا عَلَى الْبِرِّ وَالتَّقْوَى وَلا تَعَاوَنُوا عَلَى الْأِثْمِ وَالْعُدْوَانِ﴾
“তোমরা সৎকাজ ও তাকওয়া (আত্মসংযম ও কর্তব্যপরায়ণতায়) পর¯পর সাহায্য কর এবং পাপ ও অন্যায় কাজে একে অন্যের সাহায্য করো না।”(সূরা আল-মায়িদা (৫) : ২)
২- 
﴿وَالْمُؤْمِنُونَ وَالْمُؤْمِنَاتُ بَعْضُهُمْ أَوْلِيَاءُ بَعْضٍ يَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَيُقِيمُونَ الصَّلاةَ وَيُؤْتُونَ الزَّكَاةَ وَيُطِيعُونَ اللهَ وَرَسُولَهُ أُولَئِكَ سَيَرْحَمُهُمُ اللهُ إِنَّ اللهَ عَزِيزٌ حَكِيمٌ﴾
“মুমিন নর-নারী একে অপরের বন্ধু। এরা সৎকার্যের নির্দেশ দেয় এবং অসৎকার্যে বাধা দান করে। যথাযথভাবে নামায পড়ে, যাকাত প্রদান করে এবং আল্ল­াহ ও তাঁর রসূলের আনুগত্য করে। এদেরকেই আল্ল­াহ কৃপা করবেন এবং আল্ল­াহ পরাক্রমশালী প্রজ্ঞাময়।” (সূরা আত-তাওবাহ (৯) : ৭১)
৩- 
﴿ وَإِنْ طَائِفَتَانِ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ اقْتَتَلُوا فَأَصْلِحُوا بَيْنَهُمَا فَإِنْ بَغَتْ إِحْدَاهُمَا عَلَى الْأُخْرَى فَقَاتِلُوا الَّتِي تَبْغِي حَتَّى تَفِيءَ إِلَى أَمْرِ اللهِ فَإِنْ فَاءَتْ فَأَصْلِحُوا بَيْنَهُمَا بِالْعَدْلِ وَأَقْسِطُوا إِنَّ اللهَ يُحِبُّ الْمُقْسِطِينَ﴾
“মুমিনদের দু’দল দ্বন্দ্বে লিপ্ত হলে তোমরা তাদের মধ্যে মীমাংসা করে দেবে। অতঃপর তাদের একদল অপর দলকে অন্যায় আক্রমণ করলে তোমরা তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে; যতক্ষণ না তারা আল্ল­াহর নির্দেশের নিকট আত্মসমর্পণ করে। যদি তারা আত্মসমর্পণ করে, তাহলে তাদের মধ্যে ন্যায়ের সঙ্গে মীমাংসা করবে এবং সুবিচার করবে। যারা ন্যায় বিচার করে, তাদেরকে আল্ল­াহ ভালোবাসেন।”(সূরা আল-হুজরাত (৪৯) : ৯)
৪- 
﴿ إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ إِخْوَةٌ فَأَصْلِحُوا بَيْنَ أَخَوَيْكُمْ وَاتَّقُوا اللهَ لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُونَ﴾
“মুমিনরা পর¯পর ভাই-ভাই; সুতরাং তোমরা ভ্রাতৃগণের মধ্যে শান্তি স্থাপন কর এবং আল্ল­াহকে ভয় কর যাতে তোমরা অনুগ্রহপ্রাপ্ত হও।”(সূরা আল-হুজরাত (৪৯) :১০)
৫- 
﴿يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لا يَسْخَرْ قَوْمٌ مِنْ قَوْمٍ عَسَى أَنْ يَكُونُوا خَيْراً مِنْهُمْ وَلا نِسَاءٌ مِنْ نِسَاءٍ عَسَى أَنْ يَكُنَّ خَيْراً مِنْهُنَّ وَلا تَلْمِزُوا أَنْفُسَكُمْ وَلا تَنَابَزُوا بِالْأَلْقَابِ بِئْسَ الِاسْمُ الْفُسُوقُ بَعْدَ الْأِيمَانِ وَمَنْ لَمْ يَتُبْ فَأُولَئِكَ هُمُ الظَّالِمُونَ﴾
“হে ঈমানদারগণ! কোনও পুরুষ যেন অপর কোন পুরুষকে উপহাস না করে; কেননা, যাকে উপহাস করা হয় সে উপহাসকারী অপেক্ষা উত্তম হতে পারে। আর কোন নারীও যেন কোন অপর নারীকে উপহাস না করে; কেননা, যাকে উপহাস করা হয় সে উপহাসকারিণী অপেক্ষা উত্তম হতে পারে। তোমরা একে অন্যের প্রতি দোষারোপ করো না এবং তোমরা একে অপরকে মন্দ নামে ডেকো না; কারো ঈমান আনার পর তাকে মন্দ নামে ডাকা গর্হিত কাজ। যারা এ ধরণের আচরণ হতে নিবৃত্ত না হয় তারাই সীমালংঘনকারী।”(সূরা আল-হুজরাত (৪৯) :১১)
৬- 
﴿يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اجْتَنِبُوا كَثِيرًا مِّنَ الظَّنِّ إِنَّ بَعْضَ الظَّنِّ إِثْمٌ وَلَا تَجَسَّسُوا وَلَا يَغْتَب بَّعْضُكُم بَعْضًا أَيُحِبُّ أَحَدُكُمْ أَن يَأْكُلَ لَحْمَ أَخِيهِ مَيْتًا فَكَرِهْتُمُوهُ وَاتَّقُوا اللهَ إِنَّ اللهَ تَوَّابٌ رَّحِيمٌ﴾
“হে মুমিনগণ! তোমরা অধিকাংশ ক্ষেত্রে অনুমান করা হতে দূরে থাক; কারণ, কোন কোন ক্ষেত্রে অনুমান (বা ধারণা) করা পাপ এবং তোমরা একে অপরের গোপনীয় বিষয় সন্ধান করো না ও একে অন্যের পশ্চাতে নিন্দা করো না। তোমাদের মধ্যে কি কেউ তার মৃত ভায়ের মাংস ভক্ষণ করতে চাইবে? বস্তুতঃ তোমরা তো একে ঘৃণ্যই মনে কর। তোমরা আল্ল­াহকে ভয় কর, আল্ল­াহ তওবা গ্রহণকারী, পরম দয়ালু।” (সূরা আল-হুজরাত (৪৯) :১২)
৭- 
﴿يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّا خَلَقْنَاكُمْ مِنْ ذَكَرٍ وَأُنْثَى وَجَعَلْنَاكُمْ شُعُوباً وَقَبَائِلَ لِتَعَارَفُوا إِنَّ أَكْرَمَكُمْ عِنْدَ اللهِ أَتْقَاكُمْ إِنَّ اللهَ عَلِيمٌ خَبِيرٌ﴾
“হে মানুষ! আমি তোমাদেরকে এক পুরুষ ও এক নারী হতে সৃষ্টি করেছি, পরে তোমাদেরকে বিভক্ত করেছি বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে; যাতে তোমরা একে অপরের সাথে পরিচিত হতে পার। তোমাদের মধ্যে সে ব্যক্তিই আল্ল­াহর নিকট অধিক মর্যাদাসম্পন্ন যে অধিক পরহেযগার (আল্ল­াহভীরু)। আল্ল­াহ সব কিছু জানেন, সমস্ত খবর রাখেন।”(সূরা আল-হুজরাত (৪৯) :১৩)
৮- “সাবধান! অযথা ধারণা করা থেকে বিরত থাক। কেননা, অযথা ধারণা (পোষণ করা) সবচেয়ে বড় মিথ্যা কথা। মানুষের ছিদ্রান্বেষণ করো না, পর¯পরের ত্র“টি অনুসন্ধান করো না, রিষারিষি করো না, পর¯পর হিংসা পোষণ করো না, পর¯পর বিদ্বেষ পোষণ করো না, আল্ল­াহর বান্দারা ভাই-ভাই হয়ে যাও; যেভাবে তোমাদেরকে আদেশ করা হয়েছে। এক মুসলিম আর এক মুসলিমের ভাই, সে তার উপর যুলুম করতে পারে না। তাকে লাঞ্ছিত করতে পারে না এবং অবজ্ঞাও করতে পারে না। তাকওয়া এখানে (অন্তরে)। কোন ব্যক্তির মন্দ হওয়ার জন্য এটাই যথেষ্ট যে, সে তার মুসলিম ভাইকে অবজ্ঞা বা ঘৃণা করবে। প্রত্যেক মুসলিমের জন্য প্রত্যেক মুসলিমের রক্ত, মান-মর্যাদা ও ধন-সম্পদ হরণ করা হারাম।” (বুখারী, মুসলিম, প্রমুখ)
৯- “যে ব্যক্তি আল্ল­াহর ওয়াস্তে অপরকে ভালোবাসে, আল্ল­াহর ওয়াস্তে কাউকে ঘৃণা করে, আল্ল­াহর ওয়াস্তে কাউকে কিছু দান করে এবং আল্ল­াহর ওয়াস্তেই কাউকে কিছু দেওয়া হতে বিরত থাকে সে ব্যক্তি পূর্ণ ঈমানের অধিকারী।”(আবূ দাউদ, তিরমিযী)
১০- “যে ব্যক্তি পেট ভরে খায় এবং তার পাশে তার প্রতিবেশী অনাহারে থাকে সে মুমিন নয়।”(মিশকাত ৪৯৯১নং)
১১- “যে ব্যক্তির অনিষ্টকারিতা হতে তার প্রতিবেশী নিরাপদে থাকে না সে ব্যক্তি মুমিন নয়।”(ত্বাবরানী, সহীহুল জামে ৫৩৮০নং)
১২- “প্রতিবেশীর সাথে সদ্ব্যবহার কর, তুমি (পূর্ণ) মুমিন হয়ে যাবে এবং মানুষের জন্য তাই পছন্দ কর যা তুমি নিজের জন্য কর, তাহলে (পূর্ণ) মুসলিম হয়ে যাবে।”(তিরমিযী)

No comments:

Post a Comment