
‘শবেবরাত’ বা ‘লায়লাতুল বারাআত’ !
==================
আরবী শা‘বান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাতকে সাধারণভাবে ‘শবেবরাত’ বা ‘লায়লাতুল বারাআত’ (ليلة البراءة) বলা হয়। ‘শবেবরাত’ শব্দটি ফারসী। এর অর্থ হিস্সা বা নির্দেশ পাওয়ার রাত্রি। দ্বিতীয় শব্দটি আরবী। যার অর্থ বিচ্ছেদ বা মুক্তির রাত্রি। এদেশে শবেবরাত ‘সৌভাগ্য রজনী’ হিসাবেই পালিত হয়। তাই ১৫ই শাবান সরকারী ছুটি ঘোষিত হয়।
এ রাতের ফজিলত সম্পর্কে যে সকল মিথ্যা তথা জাল কথা সমাজে বর্ণিত প্রচলিত আছে, তা হলোঃ-
✔ ধারণা করা হয় যে, এ রাতে বান্দাহর গুনাহ মাফ হয়।
✔ আয়ু ও রূযী বৃদ্ধি করা হয়।
✔ সারা বছরের হায়াত-মউতের ও ভাগ্যের রেজিষ্ট্রার লিখিত হয়।
✔ এই রাতে রূহগুলো সব আত্মীয়-স্বজনের সাথে মুলাক্বাতের জন্য পৃথিবীতে নেমে আসে। ✔ বিধবারা মনে করেন যে, তাদের স্বামীদের রূহ ঐ রাতে ঘরে ফেরে। এজন্য ঘরের মধ্যে আলো জ্বেলে বিধবাগণ সারা রাত মৃত স্বামীর রূহের আগমনের আশায় বুক বেঁধে বসে থাকেন।
✔ বাসগৃহ, মসজিদ, কবরস্থানসমূহ ধুপ-ধুনা, আগরবাতি, মোমবাতি ইত্যাদি দিয়ে আলোকিত করা হয়। অগণিত বাল্ব জ্বালিয়ে আলোকসজ্জা করা হয়। এজন্য অনেক সময় সরকারী পুরস্কারও ঘোষণা করা হয়!
✔ আত্মীয়রা সব দলে দলে গোরস্থানে ছুটে যায়।
✔ হালুয়া-রুটির হিড়িক পড়ে যায়। ছেলেরা পটকা ফাটিয়ে আতশবাজি করে হৈ-চৈ করে রাত কাটিয়ে দেয়।
✔ যারা কখনো ছালাতে অভ্যস্ত নয়, তারাও ঐ রাতে মসজিদে গিয়ে ‘ছালাতে আল্ফিয়াহ’ (الصلاة الألفية) বা ১০০ রাক‘আত ছালাত আদায়ে রত হয়, যেখানে প্রতি রাক‘আতে ১০ বার করে সূরায়ে ইখলাছ পড়া হয়।
সংক্ষেপে এই হলো এদেশে শবেবরাত পালনের নামে প্রচলিত কতিপয় বিদ’আত!
*** শবে বরাতের প্রকৃত হাল ও উপরের জাল ও ভিত্তিহীন ফজিলত সম্পর্কে বিস্তারিত লিখবো, ইন-শা-আল্লাহ!
No comments:
Post a Comment