Thursday, May 14, 2015

শবে মি’রাজ উপলক্ষে সালাত পড়া ও রোজা রাখা বিদাআত:




শবে মি’রাজ উপলক্ষে সালাত পড়া ও রোজা রাখা বিদাআত:
==========================================
প্রশ্নঃ আপনি শবে মি’রাজকে বিদ’আত বললেন কিন্তু আমাদের মসজিদের ইমাম সাহেব বললেন বিদ’আত নয়। একটু কি বিস্তারিত জানাবেন?
উত্তরঃ
====
আস্সালামু আলাইকুম ওয়ারহমাতুল্লাহি ওয়াবারাকাতুহু।
ভাই আমার কথা বুঝতে ভুল করেছেন হয়তো। শবে মি’রাজকে আমি বিদ’আত বলি নাই, ২৭শে রজব বা শবে মি’রাজের রাতে নির্দিষ্ট নিয়মে সালাত পড়াকে আমি বিদ’আত বলেছি।
শবে মি’রাজে সালাত পড়তে হবে এবং প্রথম রাক’আতে সূরা ফাতিহার সাথে আয়াতুল কুরসী এবং দ্বিতীয় রাক’আতে সূরা ফাতিহার সাথে সূরা ইখলাস ১০০ বার অথবা ৫০ বার কিংবা ২৫ বার, তা না পারলে কমপক্ষে ৩ বার পড়তে হবে। এ পদ্ধতি সম্পূর্ণ বিদ’আত।
বিশিষ্ট হাদীস বিশারদ ‘আজালূনী (রা:) বলেন,
-“কূতুল কুলূব, ইহয়াউ উলূমিদ্দীন ও তাফসীরে ছা’লাবী প্রভৃতি গ্রন্থে এ সব নামাযের যে বিবরণ রয়েছে, তাতে যেন কেউ প্রতারিত না হয়”। [আজালূনী, কাশফুল খাফা: খন্ড ২, পৃষ্ঠা:৪০২]
এ রাতে রাসুল ﷺ ও সাহাবা কিরাম (রাঃ) বিশেষ কোন ইবাদত করেছেন মর্মে কোনো বিশুদ্ধ বর্ণনা পাওয়া যায় না। তদুপরি এ রাতে ইবাদত-বন্দেগী করলে বিশেষ কোনো সওয়াব পাওয়া যাবে- এই মর্মে একটি সহীহ কিংবা দূর্বল হাদীসও নেই।
তবে কোনো কোনো গ্রন্থে এ রাতের ফযীলত ও বিশেষ নিয়মে সালাত পড়া সংক্রান্ত কয়েকটি মুনকার ও জাল হাদীস বর্ণিত রয়েছে। যেমন বলা হয়ে থাকে যে, রাসুল ﷺ বলেছেন,
-রজবের ২৭ তারিখের রাতে ‘আমলকারীর জন্য ১০০ বছরের পূর্ণ্য লিপিবদ্ধ করা হবে। অতএব যে ব্যক্তি এ রাতে দু’রাকাআত করে করে বার রাকআত সালাত পড়বে, এত:পর ১০০ বার (سبحان الله، والحمد لله، ولا اله الا الله، والله اكبر) পড়বে, ১০০ বার ইস্তিগফার, ১০০ বার দরুদ শরীফ পড়বে, পরিশেষে নিজের ইচ্ছা অনুযায়ী দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণের জন্য দু’আ করবে এবং পরের দিন রোযা রাখবে, তা হলে আল্লাহ তা’আলা তার সকল দু’আই কবুল করে নিবেন। তবে সে কোনো পাপ কাজের জন্য দু’আ করলে ভিন্ন কথা। [বায়হাকী, শু’আবুল ঈমাম হা.নং ৩৬৫১; মুত্তকী, কানযুল উম্মাহ হা.নং ৩৫১৭০; গাযালী, ইহয়াউ উলুমিদ্দীন খ.১ পৃ. ৩৬০]
►এ হাদীসের রাবীদের মধ্যে মুহম্মদ ইবনুল ফাদল ও আবান দুজনেই অত্যান্ত দূর্বল রাবী। এ কারনে হাদীসটি সম্পর্কে সকল হাদীস বিশারদগণই বলেছেন, এটি চরম মুনকার অর্থাৎ অত্যান্ত দূর্বল হাদিস।
[আজালুনী, কাশফূ খাফা, খ.২ পৃ.৪০২; ইরাকী, তাখরীজু আহাদীছিল ইহয়া খ.৩ পৃ.২৮৫ হা.নং ১২৮৫;
মুত্তকী, কানযুল উম্মাহ খ.১২,পৃ.৩১২; মুহম্মাদ তাহির, তাযকিরাতুল মাওদু’আত পৃ.৪৪]
অন্য একটি রিওয়ায়াত হল, বলা হয়ে থাকে যে, রাসুল ﷺ বলেছেন,
-যে ব্যক্তি রজবের ২৭ তারিখ দিনে রোযা রাখবে এবং রাতে ইবাদত করবে, সে একশ বছর সাওম রাখার এবং একশ বছর সালাত পড়ার সওয়াব লাভ করবে। এদিনেই আল্লাহ তা’আলা মুহাম্মদ ﷺ কে নবুওয়াত দান করেন।[মুত্তাকী, কানযুল উম্মাল হা/৩৫১৬৯]
►যারকানী, ইবনু হাজার আসকালানী, সুয়ূতী, শাওকানী, মুক্তাকী হিন্দী ও আব্দূল হাই রাখনবী (রা:) প্রমূখ মুহাদ্দিসগণ বলেন, -এটি একটি মিথ্যা ও বানোয়াট হাদিস।
[যারকানী, আল-আবাতিল খ.২, পৃ.৭১৪; ইবনু হাজার আসকালানী, তাবয়ীনুল আজাব, পৃ.৬৩;
সুয়ূতী, যায়লুল লা’আলী, পৃ.১১৭; শাওকানী, আল-ফাওয়াইদ খ.২ পৃ.৫৩৯; মুত্তকী, কানযুল উম্মাহ খ.১২ পৃ.৩১২, হা. ৩৫১৬৯; লাখনাবী, আব্দুল হাই আল-আছার, পৃ.৫৮;]
অনেক ভাইকে দেখা যায় রজব মাস সম্পর্কিত নিম্নের জঈফ হাদীসটির উপরও আলম করে থাকেন, যা ঠিক নয়।
عن أنس قال كان رسول الله صلى الله عليه وسلم إذا دخل رجب قال اللهم بارك لنا في رجب وشعبان وبلغنا رمضان
-হযরত আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ রজব মাস আসলে পড়তেন-আল্লাহুম্মা বারিক লানা ফি রাজাবা ওয়া শা’বানা ওয়া বাল্লিগনা রামাদ্বান।[মু’জামে ইবনে আসাকীর হা/৩০৯; মুসনাদুল বাজ্জার হা/৬৪৯৪; শুয়াবুল হা/৩৫৩৪; মুসনাদে আহমাদ হা২৩৪৬]
►► ভাই কোন ইবাদত করার পূর্বে তার বৈধতার দলিল থাকতে হয়। জাল বা জঈফ হাদীস দিয়ে কোন ইবাদতের দলিল প্রমান করা যায় না। কুরআন বা সহীহ হাদিস থেকে বা সাহাবা কেরাম (রাঃ) গণ থেকে শবে মেরাজের রাতে ইবাদত করার কোন সহীহ দলিল আমরা খুজে পাই নাই। আপনার ইমাম সাহেব যদি বলেন দলিল আছে তবে তা জেনে আমাদের জানাবেন আশা করি।

No comments:

Post a Comment