Tuesday, July 21, 2015

বিদ‘আতকারীর শেষ ঠিকানা হচ্ছে জাহান্নাম।




বিদ‘আতকারীর শেষ ঠিকানা হচ্ছে
জাহান্নাম।
বিদ‘আত মূলতঃ
ইসলামী শরী‘আতে নতুন কিছু
আবিষ্কারের নাম। যা নেকীর
উদ্দেশ্যে মানুষ সম্পাদন করে
থাকে। কোন প্রকার বিদ‘আত
ইসলামে স্বীকৃত নয়। চাই তা ভাল
হোক আর মন্দ হোক। সকল প্রকার
বিদ‘আতই শরী‘আতে পরিত্যাজ্য।
বিদ‘আত করলে প্রকারান্তরে
আল্লাহর বাণীকে মিথ্যা প্রতিপন্ন
করা হয়। বিদ‘আত শরী‘আতে
নবাবিষ্কৃত বিষয়। ইসলামে নতুন
কোন জিনিস চালু করার অর্থ হ’ল
ইসলাম আগে অপূর্ণ ছিল অত্র কাজ
চালুর মাধ্যমে পূর্ণতা পেয়েছে।
নাঊযুবিল্লাহ!
অথচ রাসূলুল্লাহ
(ছাঃ)-এর জীবদ্দশায় ইসলাম
পরিপূর্ণতা লাভ করেছে। মহাগ্রন্থ
আল-কুরআনে আল্লাহ তা‘আলা
বলেন, ‘আজ তোমাদের জন্য
তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণাঙ্গ করে
দিলাম। তোমাদের প্রতি আমার
নে‘মত সম্পূর্ণ করে দিলাম এবং
ইসলামকে তোমাদের দ্বীন হিসাবে
মনোনীত করলাম’ (সূরা মায়েদা ৩) ।
অত্র আয়াত প্রমাণ করে যে,
রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর জীবদ্দশাতেই
ইসলাম পরিপূর্ণ হয়ে গেছে। নতুন
করে এখানে কোন বিধান রচনা বা
চালু করার সুযোগ নেই।
মুসলিম ব্যক্তি যে আমলই করুক না
কেন তা রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর
তরীকা বা পদ্ধতিতে না হ’লে তা
হবে পরিত্যাজ্য।[1]
রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর অনুমোদন বিহীন কোন
আমল ইসলামে গ্রহণযোগ্য নয়। বরং
তা সর্বাবস্থায় পরিত্যাজ্য। কারণ
কোন ব্যক্তি বিদ‘আত করলে তার
থেকে সমপরিমাণ সুন্নাত বিদায়
নেয়। সে সুন্নাত আর কোন দিন তার
মাঝে ফিরে আসে না।[2]
বিদ‘আতের ভয়াবহতার আরেকটি
দিক হ’ল বিদ‘আতীর তওবা আল্লাহ
কবুল করেন না, যতক্ষণ না সে উক্ত
বিদ‘আত থেকে ফিরে আসে।[3]
বিদ‘আতের সবচেয়ে ভয়াবহ দিক হ’ল
বিদ‘আতকারীর শেষ ঠিকানা হচ্ছে
জাহান্নাম।[4]
এজন্য রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) প্রত্যেক জুম‘আর ছালাতের প্রারম্ভে উপস্থিত মুছল্লীদের
বিদ‘আত থেকে বিরত থাকার
বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারী উচ্চারণ
করতেন।[5]
ফুটনোট -
[1] . বুখারী হা/২৬৯৭, ২০; মুসলিম
হা/৪৫৮৯-৯০; মিশকাত হা/১৪০।
[2] . দারেমী হা/৯৮; মিশকাত
হা/১৮৮, সনদ ছহীহ।
[3] . ছহীহ তারগীব ওয়াত তারহীব
হা/৫৪, সনদ হাসান।
[4] . নাসাঈ হা/১৫৭৮; ছহীহ ইবনু
খুযাইমাহ হা/১৭৮৫, সনদ ছহীহ।
[5] . মুসলিম হা/২০৪২; ইবনু মাজাহ
হা/৪৫; মিশকাত হা/১৪১।

No comments:

Post a Comment