
দিনের পর দিন যারা নিজেদের আলসেমি, উদাসীনতা, দুনিয়াবি ব্যস্ততা দেখিয়ে জুমু‘আর সালাত আদায় করেন না, তাদের উদ্দেশ্যে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “আমার ইচ্ছে হয়, একজনকে সালাতের দায়িত্ব দেই যাতে সে মুসল্লিদের নিয়ে সালাত আদায় করে। তারপর আমি যারা জুমু‘আর সালাত থেকে বিরত থাকে তাদের বাড়ি ঘর জ্বালিয়ে দেই”
রাবি - আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু
হাদিস - মুসলিম ও মুসনাদে ইমাম আহমাদ
তিনি আরো বলেন,
"যে অলসতা করে তিনটি জুমু‘আ ছেড়ে দেয়, আল্লাহ তা‘আলা তার অন্তরের উপর মোহর মেরে দেয়”
রাবি - আবুল জাআদ আদ-দামরী রাদিয়াল্লাহু আনহু
হাদিস - মুসনাদে ইমাম আহমাদ, ইবনু মাযাহ্, আবু দাউদ
🔺🔻🔺🔻🔺🔻🔺🔻🔺🔻🔺🔻🔺
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
১) সূর্য উঠে এমন দিনগুলোর মধ্যে জুম’আর দিন হল সর্বোত্তম দিন। এ দিনে যা কিছু ঘটেছিল এবং ঘটবে -
> এই দিনে আদম (আ.) কে সৃষ্টি করা হয়েছিল,
> এই দিনেই তাঁকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়েছিল,
> একই দিনে তাঁকে জান্নাত থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল [মুসলিমঃ৮৫৪],
> একই দিনে তাঁকে দুনিয়াতে পাঠানো হয়েছিল,
> এই দিনেই তাঁর তাওবা কবুল করা হয়েছিল,
> এই দিনেই তাঁর রূহ কবজ করা হয়েছিল [আবু দাউদ - ১০৪৬],
> এই দিনে শিঙ্গায় ফুঁক দেয়া হবে,
> এই দিনেই কিয়ামাত হবে,
> এই দিনেই সকলেই বেহুঁশ হয়ে যাবে [আবু দাউদ - ১০৪৭],
> প্রত্যেক নৈকট্যপ্রাপ্ত ফেরেশতা, আকাশ, পৃথিবী, বাতাস, পাহাড় ও সমুদ্র এই দিনটিকে ভয় করে। [ইবনে মাজাহঃ১০৮৪, ১০৮৫; মুয়াত্তাঃ৩৬৪]।
🔺🔻🔺🔻🔺🔻🔺🔻🔺🔻🔺🔻🔺
২) জুমু'আর দিনটিকে সম্মান করার জন্য ইয়াহুদীদের উপর ফরজ করা হয়েছিল; কিন্তু তারা মতবিরোধ করে এই দিনটিকে প্রত্যাখ্যান করেছিল। তারপর ইয়াহুদীরা শনিবারকে আর খ্রিষ্টানরা রবিবারকে তাদের ইবাদতের দিন বানিয়েছিল। অবশেষে আল্লাহ তায়ালা এ উম্মতের জন্য শুক্রবারকে মহান দিবস ও ফযীলতের দিন হিসেবে দান করেছেন। আর উম্মতে মুহাম্মদী তা গ্রহন করে নিল।
[বুখারি ৮৭৬, ইফা ৮৩২, আধুনিক ৮২৫; মুসলিমঃ ৮৫৫]
৩) জুমু’আর দিন হল সাপ্তাহিক ঈদের দিন। [ইবনে মাজাহঃ ১০৯৮]
৪) জুমু’আর দিনটি ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহার দিনের চেয়েও শ্রেষ্ঠ দিন। এ দিনটি আল্লাহর কাছে অতি মর্যাদা সম্পন্ন। (মুসনাদে আহমদঃ৩/৪৩০; ইবনে মাজাহঃ১০৮৪)
৫) জুমু’আর দিনে এমন একটি সময় আছে, যখন বান্দা আল্লাহর কাছে যা চায়, তা-ই তাকে দেওয়া হয়। আর এ সময়টি হল জুম’আর দিন আসরের পর থেকে মাগরিব পর্যন্ত। [বুখিরীঃ৯৩৫, ইফা ৮৮৮, আধুনিক ৮৮২; মুসলিমঃ৮৫২]
৬) জুমু’আর রাতে বা দিনে যে ব্যক্তি মারা যায় আল্লাহ তায়ালা তাকে কবরের ফিতনা থেকে রক্ষা করবেন। [তিরমিযীঃ১০৭৮]
৭) জান্নাতে প্রতি জুমু’আর দিনে জান্নাতীদের হাট বসবে। জান্নাতী লোকেরা সেখানে প্রতি সপ্তাহে একত্রিত হবেন। তখন সেখানে এমন মনমুগ্ধকর হাওয়া বইবে, যে হাওয়ায় জান্নাতীদের সৌন্দর্য অনেক গুণে বেড়ে যাবে এবং তাদের স্ত্রীরা তা দেখে অভিভূত হবে। অনুরূপ সৌন্দর্য বৃদ্ধি স্ত্রীদের বেলায়ও হবে। [মুসলিমঃ২৮৩৩, ৭১/৭৫৩]
৮) যে ব্যক্তি জুুম’আর দিনে সুরা কাহফ পড়বে, আল্লাহ তায়ালা তার জন্য দুই জুম’আর মধ্যবর্তী সময়কে আলোকিত করে দেবেন। [জামেউস সাগীরঃ৬৪৭০]
৯) যে ব্যক্তি জুমু’আর দিনে সুরা কাহফের প্রথম ১০ আয়াত পড়বে, সে দাজ্জালের ফিতনা থেকে নিরাপত্তা লাভ করবে। [মুসলিম]
১০) প্রত্যেক সপ্তাহে জুমু’আর দিন আল্লাহ তায়ালা বেহেশতী বান্দাদের দেখা দিবেন। [সহীহুত তারগীব]
১১) এই দিনে দান খয়রাত করার সওয়াব অন্য দিনের চেয়ে বেশী হয়। ইবনুল কায়্যিম রাহিমাহুল্লাহ্ বলেছেন, অন্য মাসের তুলনায় রামাদান মাসের দানের সাওয়াব যেমন বেশী তেমনি শুক্রবারের দান খয়রাত অন্য দিনের তুলনায় বেশী। [যাদুল মা’আদ]
১২) ইবনুল কায়্যিম রাহিমাহুল্লাহ্ আরও বলেছেন যে, অন্য মাসের তুলনায় রামাদান মাসের মর্যাদা যেমন, সপ্তাহের অন্যান্য দিনের তুলনায় জুমু’আ বারের মর্যাদা ঠিক তেমন। তাছাড়া রমজানের কদরের রাতে যেমন ভাবে দোয়া কবুল হয়, ঠিক তেমনি শুক্রবারের সূর্যাস্তের পূর্বক্ষণেও দোয়া কবুল হয়। [যাদুল মা’আদঃ১/৩৯৮]
_____________________________
[সূত্রঃ বই-প্রশ্নোত্তরে জুমু’আ ও খুৎবা , লেখকঃ অধ্যাপক মুহাম্মদ নুরুল ইসলাম;
পরিমার্জনেঃ ড. মুহাম্মদ মনজুরে ইলাহী, ড. আবু বকর মুহাম্মদ জাকারিয়া মজুমদার, ড. মুহাম্মাদ সাইফুল্লাহ্]
No comments:
Post a Comment