
------------------------------------------------------------------------------
আশুরার দিন মাতম ও শোক করা, যেমন শিয়া-রাফেযীরা করে, খুব নিন্দনীয় কাজ। এটি ইসলাম সম্পর্কে তাদের কঠিন মূর্খতা ও বিবেক বর্জিত আচরণ কয়েকটি কারণে:
আশুরার দিন এসব অনুষ্ঠান করা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর আদর্শের বিপরীত, বরং আশুরা পেয়ে খুশি হওয়া, তার আগমনে গৌরব বোধ করা, তাকে অভ্যর্থনা জানানো ও তার সিয়াম রেখে আল্লাহর শোকর আদায় করা তার সুন্নত; পক্ষান্তরে দুঃখ ও গোস্বার বহিঃপ্রকাশ, তাজিয়া মিছিল ও দেহ রক্তাক্ত করার ন্যায় কীর্তিকলাপ নিআমতের না শোকর ও দীনের ভেতর জঘন্য বিদআত চর্চার নামান্তর, বরং শয়তানের নিকট বিবেক বিকানো ও মূর্খদের নিকট মাথা ধার দেওয়ার ন্যায় চরম বোকামি।
শিয়ারা এই দিন যে কীর্তিকলাপ করে তা অন্য সাধারণ দিনেও বৈধ নয়, বরং কোনো মুসিবতেই বৈধ নয়; উপরন্তু ইবাদত ও নিআমতের শোকর করার দিনে, আসমান কর্তৃক নির্দিষ্ট দিনে কীভাবে বৈধ হবে, যার ওপর চলে আসছে সকল ধর্মের অনুসারী, কি কিতাবি কি ইসলামী?
উল্লেখ্য যে, শাখা-প্রশাখাগত বিধানের ক্ষেত্রে ইসলাম অন্যান্য আসমানী ধর্ম থেকে পৃথক বৈশিষ্ট্যের হলেও আশুরার ক্ষেত্রে কিন্তু সেরূপ নয়, যা আশুরার মহত্ত্ব ও সম্মানের প্রতীক দ্বিধা নেই, হয়তো এই কারণে নবীগণ ও তাদের অনুসারী কর্তৃক পরম্পরায় সম্মানিত হয়ে আসছে আশুরা এবং কিয়ামত পর্যন্ত হবে।
«لو كان موسى حياً ما وسعه إلا اتباعي»
“যদি মূসা বেঁচে থাকত আমার অনুসরণ ব্যতীত তার কোনো গত্যন্তর ছিল না”
আশুরার ক্ষেত্রে কিন্তু সেরূপ ঘটেনি, বরং আশুরার ক্ষেত্রে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মূসা (আ:)-এর অনুসারী। অথচ শেষ জমানায় ঈসা (আ:) আসবেন, তাকেও মুহাম্মাদ (ﷺ) শরী‘আত মানতে হবে। এ থেকে শিয়াদের কর্তৃক একটি চূড়ান্ত আদর্শকে, মূসা, ঈসা ও আমাদের নবীর আদর্শকে লঙ্ঘন করার চিত্র স্পষ্ট হয়!
_________________________________________________
অধিকন্তু তাদের কীর্তিকলাপ সুস্থ বোধ ও সহীহ রুচি বিরোধী, যা মুক্ত চিন্তার বাহক ও বাস্তবধর্মী সবার সামনে স্পষ্ট হয় কয়েকভাবে:
﴿ يُحِبُّونَهُمۡ كَحُبِّ ٱللَّهِۖ وَٱلَّذِينَ ءَامَنُوٓاْ أَشَدُّ حُبّٗا لِّلَّهِۗ ١٦٥ ﴾ [البقرة: ١٦٥]
“তারা তাদের উপাস্যকে মহব্বত করে আল্লাহকে মহব্বত করার ন্যায়, বস্তুত যারা ঈমান এনেছে তারা আল্লাহকে বেশি মহব্বতকারী”।
📚[সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ১৬৫]
আমরা নিশ্চিত জানি যে, আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা যে সংবাদ দিয়েছেন তা চিরসত্য, যদিও প্রত্যেক সংবাদ সত্য-মিথ্যার সম্ভাবনা রাখে, কিন্তু এখানে সেই সম্ভাবনা নেই। কারণ, এটি গায়েবী সংবাদ হলেও তার সূত্র অহী বিধায় চূড়ান্ত সত্য; অর্থাৎ সত্যিই মুশরিকেরা তাদের উপাস্যকে আল্লাহর চাইতে বেশি মহব্বত করে, তথাপি আমরা দেখি তাদের উপাস্য ধ্বংস করার দিন তারা সেরূপ কীর্তিকলাপ করে না হুসাইনের (রা:) মৃত্যুর দিন শিয়ারা যেরূপ করে! এখন ভেবে দেখতে হয়, তারা কি আসলেই সত্যবাদী, যার পশ্চাতে হুসাইনের (রা:) মহব্বতকে তারা উদ্দীপকভাবে, যদিও বিবেকের নিকট তাদের ভাবনা প্রত্যাখ্যাত; না তাদের কীর্তিকলাপ বাস্তবতা শূন্য মহব্বতের মিথ্যা দাবির উপর প্রতিষ্ঠিত? বাহ্যত প্রতিয়মান যে, তাদের মহব্বত মিথ্যা, তারা প্রবৃত্তি কর্তৃক প্রতারিত, যা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। এভাবে তারা প্রতিপক্ষকে ক্ষেপীয়ে তুলতে চায়, ইতোপূর্বে কেউ তার বিপক্ষকে যেভাবে ক্ষেপায়নি, যদিও তার দাবি ও কারণ তখনো ছিল।
অথবা বলতে হবে, শিয়াদের হুসাইনপ্রীতি আয়াতে উল্লিখিত মুশরিকদের উপাস্যপ্রীতি অপেক্ষা বেশি, যদি তাই সত্য হয়, তাহলে তো এটাই মহব্বতের শির্ক এবং স্পষ্ট কুফরি! বরং মুশরিকদের চেয়েও বড় কুফরি!!
উল্লেখ্য, হাসান ও হুসাইন উভয় জান্নাতের সরদার।
কিভাবে সম্ভব, কোনো দল যদি এটাকে দীনের অংশ ও ধর্মীয় কর্ম মনে করে, তবে তো প্রত্যেকের জন্যই মাতম করা বৈধ, যে ইসলাম গ্রহণ করেছে, কারণ রাসূলুল্লাহ মুহাম্মাদ (ﷺ) সবার নবী। আর যদি কতক আলেমের ভাষ্য মোতাবিক মেনে নেই যে, দীনের শাখা-প্রশাখার ক্ষেত্রে কাফিররাও আদিষ্ট, তবে কিভাবে সম্ভব তাদেরকে মাতম করার নির্দেশ করা?
«من أحدث في أمرنا هذا ما ليس منه فهو رد».
“আমাদের এই দীনে যে এমন কিছু উদ্ভাবন করল, যা তার অন্তর্ভুক্ত নয় তা প্রত্যাখ্যাত”।
অনুরূপভাবে কতক আলেম যে বলেন, ‘এই দিনে পরিবারে সচ্ছলতা দান করুন’, তাও সহীহ সূত্রে প্রমাণিত নয়। ইমাম আহমদ প্রমুখ তার জোরালো প্রতিবাদ করেছেন।
অনুরূপভাবে আশুরার দিন গোসল করা, পরিচ্ছন্ন হওয়া, সুগন্ধি ব্যবহার করা, সুরমা লাগানো, দাঁড়িতে খেজাব করা প্রভৃতি ভিত্তিহীন। আদর্শ কোনো মনীষী এগুলো মোস্তাহাব বলেন নি। আল্লাহ তা'আলা ভালো জানেন।
No comments:
Post a Comment