Monday, March 23, 2015

একটু মিলাবেন? আপনার পরিবারে এই ধরনের কে আছে?




আসসালামু আলাইকুম
একটু মিলাবেন? আপনার পরিবারে এই ধরনের কে আছে?
-পুরুষের বেশ ধারণকারিণী মহিলা এবং মহিলার বেশ ধারণকারী পুরুষঃ
স্রষ্টার উদ্দেশ্যকে পরিবর্তন করে প্রকাশ করা নারী-পুরুষের এ এক নোংরা আচরণ। এ আচরণে নারী পুরুষের চরিত্র ধ্বংস হয়ে যায়। সমাজ কলুষিত হয়। মানুষের উপর আল্লাহর গযব নেমে আসে। 
আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
وَمِنْ آيَاتِهِ أَنْ خَلَقَ لَكُمْ مِنْ أَنفُسِكُمْ أَزْوَاجًا لِتَسْكُنُوا إِلَيْهَا وَجَعَلَ بَيْنَكُمْ مَوَدَّةً وَرَحْمَةً إِنَّ فِي ذَلِكَ لاَيَاتٍ لِقَوْمٍ يَتَفَكَّرُونَ
(سورة الروم : ২১)
‘আল্লাহ তা‘আলার নিদর্শনবলীর একটি নিদর্শন হচ্ছে এই যে, তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের মধ্য হতে সঙ্গিণীর সৃষ্টি করেছেন যাতে তোমরা তাদের কাছে তৃপ্তি পাও’ (রূম ২১)।
অত্র আয়াতে আল্লাহ তা‘আলা নারীদেরকে পুরুষদের জন্য শান্তি ও তৃপ্তির মাধ্যম করেছেন। কাজেই কেউ কারো বেশ ধারণ করতে পারে না। একে অপরের বেশ ধারণ করলে আল্লাহ্র নিদর্শনকে অমান্য করা হয়। আল্লাহ্ তা‘আলা বলেন,
إِنَّ الَّذِينَ يُحِبُّونَ أَنْ تَشِيعَ الْفَاحِشَةُ فِي الَّذِينَ آمَنُوا لَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ
(سورة النور : ১৯)
‘যেসব লোক পসন্দ করে যে, ঈমানদারদের মধ্যে নির্লজ্জতা ও অশ্লীলতার প্রসার লাভ করুক, তাদের জন্য ইহকাল ও পরকালে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি রয়েছে’ (নূর ১৯)।
অত্র আয়াতে নির্লজ্জতা ও অশ্লীলতার পরিণাম যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি বলা হয়েছে। আর পরস্পর বেশ ধারণ করা হচ্ছে অন্যায়-অপকর্ম, নির্লজ্জতা ও বেহায়াপনার বাস্তবরূপ।
عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ لَعَنَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْمُتَشَبِّهِينَ مِنْ الرِّجَالِ بِالنِّسَاءِ وَالْمُتَشَبِّهَاتِ مِنْ النِّسَاءِ بِالرِّجَالِ
ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) বলেন, রাসূল (ছাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, ‘আল্লাহ্ তা‘আলা সেই সব মহিলাদের উপর অভিশাপ করেছেন যারা পুরুষের বেশ ধারণ করে এবং সে সকল পুরুষদের উপর অভিশাপ যারা মহিলাদের বেশ ধারণ করে; (বুখারী, মিশকাত হা/৪৪২৯, বাংলা ৮ম খণ্ড হা/৪২৩২)।
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَعَنَ الرَّجُلَ يَلْبَسُ لُبْسَةَ الْمَرْأَةِ وَالْمَرْأَةَ تَلْبَسُ لُبْسَةَ الرَّجُلِ
আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) বলেন, রাসূল (ছাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সেই পুরুষের ওপর অভিশাপ করেছেন যে, মহিলার পোষাক পরিধান করে এবং সে মহিলার উপর অভিশাপ করেছেন যে পুরুষের পোষাক পরিধান করে (আবূদাঊদ, মিশকাত হা/৪৪৬৯, বাংলা ৮ম খণ্ড, হা/৪২৭০, হাদীছ ছহীহ)।
عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَعَنَ الْمُخَنَّثِينَ مِنْ الرِّجَالِ وَالْمُتَرَجِّلاَتِ مِنْ النِّسَاءِ .
ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) বলেন, নবী (ছাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হিজড়ার বেশ ধারণকারী পুরুষের উপর অভিশাপ করেছেন এবং পুরুষ বেশ ধারণকারী নারীর উপর অভিশাপ করেছেন (বুখারী, মিশকাত হা/৪৪২৮)।
عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ يَسَارٍ عَنْ عَبْدِ اللهِ بِنْ عَمْرٍوعنِ النَبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ثَلاَثَةٌ لاَ يَدْخُلُوْنَ الْجَنَّةَ الْعَاقُّ لِوَالِدَيْهِ وَالدَّيُّوثُ وَرَّجُلَةَ النِّسَاءِ.
ইবনু ওমর (রাযিঃ) বলেন, রাসূল (ছাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, ‘তিন শ্রেণীর লোক জান্নাতে যাবে না (১) পিতা-মাতার অবাধ্য সন্তান (২) বাড়ীতে বেহায়াপনার সুযোগ প্রদানকারী (৩) পুরুষের বেশ ধারণকারী নারী’ (নাসাঈ হাদীছ, ছহীহ্)।
عَنْ ابْنِ أَبِي مُلَيْكَةَ قَالَ قِيلَ لِعَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا إِنَّ امْرَأَةً تَلْبَسُ النَّعْلَ فَقَالَتْ لَعَنَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الرَّجُلَةَ مِنْ النِّسَاءِ
আবূ মুলায়কা (রাযিঃ) বলেন, একদা আয়েশা (রাযিঃ)-কে বলা হল- একটি মেয়ে পুরুষের জুতা পরে। তখন আয়েশা (রাযিঃ) বললেন, রাসূল (ছাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পুরুষের বেশধারী নারীর প্রতি অভিশাপ করেছেন (আবূদাঊদ, মিশকাত হা/৪৪৭০, হাদীছ ছহীহ)।
হাদীছসমূহ দ্বারা প্রমাণিত হল যে, যেসব পোষাক পুরুষের পোষাক বলে পরিচিত সে সব পোষাক নারীরা পরিধান করলে তাদের উপর আল্লাহ্র অভিশাপ হবে। উল্লেখ্য নারীদের মাথার চুল ছোট করা পুরুষের বেশ ধারণ করার অন্তর্ভুক্ত।

No comments:

Post a Comment