
সেদিন (কিয়ামতের দিন) সুবিচারের
মানদন্ড স্থাপন করা হবে।
*****************************
মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন সূরা
আম্বিয়া-এর ৪৭ নং আয়াতে বলেন-
মানদন্ড স্থাপন করা হবে।
*****************************
মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন সূরা
আম্বিয়া-এর ৪৭ নং আয়াতে বলেন-
কিয়ামতের দিন আমি যথাযথ ওজন করার
দাঁড়িপাল্লা স্থাপন করবো। ফলে কোন
ব্যক্তির প্রতি সামান্যতম জুলুম হবে না।
যার তিল পরিমাণও কোন কর্ম থাকবে
তাও আমি সামনে আনবো এবং হিসাব
করার জন্য আমি যথেষ্ট। (সূরা আম্বিয়া)
দাঁড়িপাল্লা স্থাপন করবো। ফলে কোন
ব্যক্তির প্রতি সামান্যতম জুলুম হবে না।
যার তিল পরিমাণও কোন কর্ম থাকবে
তাও আমি সামনে আনবো এবং হিসাব
করার জন্য আমি যথেষ্ট। (সূরা আম্বিয়া)
সেদিন আল্লাহর সুবিচারের মানদন্ডে
ওজন ও সত্য উভয়ই সমার্থবোধক হবে। সত্য
ব্যতীত সেদিন অন্য কোন জিনিসেই ওজন
পরিপূর্ণ হবে না এবং ওজন ছাড়া কোন
জিনিসই সত্য বলে বিবেচিত হবে না। যার
কাছে যত সত্য থাকবে, সে ততটা ওজনদার
হবে এবং সিদ্ধান্ত যা-ই হবে তা ওজন
হিসাবে ও ওজনের দৃষ্টিতেই হবে। অপর
কোন জিনিসের বিন্দুমাত্র মূল্য স্বীকার
করা হবে না। ইসলাম বিরোধিদের জীবন
পৃথিবীতে যত দীর্ঘ হোক না কেন, যত
শানশওকতপূর্ণ ও বাহ্যিক কীর্তিপকলাপে
পরিপূর্ণ হোক না কেন, আল্লাহর
পরিমাপকযন্ত্রে তার কোন ওজনই হবে
না। মৃত্যুর পরে তার জন্য রাষ্ট্রীয়ভাবে
মহাআড়ম্বরে শোক প্রকাশ- প্রচার
মাধ্যমে তার কীর্তিগাঁথা প্রচার,
জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত করে রাখা,
রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন, তোপধ্বনীর
মাধ্যমে কবরে অবতরণ,এসবের কোন মূল্যই
আল্লাহ দিবেন না।
ওজন ও সত্য উভয়ই সমার্থবোধক হবে। সত্য
ব্যতীত সেদিন অন্য কোন জিনিসেই ওজন
পরিপূর্ণ হবে না এবং ওজন ছাড়া কোন
জিনিসই সত্য বলে বিবেচিত হবে না। যার
কাছে যত সত্য থাকবে, সে ততটা ওজনদার
হবে এবং সিদ্ধান্ত যা-ই হবে তা ওজন
হিসাবে ও ওজনের দৃষ্টিতেই হবে। অপর
কোন জিনিসের বিন্দুমাত্র মূল্য স্বীকার
করা হবে না। ইসলাম বিরোধিদের জীবন
পৃথিবীতে যত দীর্ঘ হোক না কেন, যত
শানশওকতপূর্ণ ও বাহ্যিক কীর্তিপকলাপে
পরিপূর্ণ হোক না কেন, আল্লাহর
পরিমাপকযন্ত্রে তার কোন ওজনই হবে
না। মৃত্যুর পরে তার জন্য রাষ্ট্রীয়ভাবে
মহাআড়ম্বরে শোক প্রকাশ- প্রচার
মাধ্যমে তার কীর্তিগাঁথা প্রচার,
জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত করে রাখা,
রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন, তোপধ্বনীর
মাধ্যমে কবরে অবতরণ,এসবের কোন মূল্যই
আল্লাহ দিবেন না।
যে ব্যক্তি পৃথিবীতে কুলি-মজুরের কাজ
করে জীবিকা নির্বাহ করেছে, বাঘের বা
সাপের কবলে পড়ে মৃত্যুবরণ করেছে,
তারপর তার লাশ বাঘের পেটে হজম হয়ে
গিয়েছে, সে যদি আল্লাহর বিধান অনুসরণ
করে থাকে, আল্লাহর কাছে তার ওজন
হবে অপরিসীম এবং তার মর্যাদা হবে
বিরাট। পৃথিবীতে জাঁকজমকের সাথে
চলাফেরা করেছে অথচ আল্লাহর বিধান
অনুসরণ করেনি, বিচার দিবসে সে
ওজনদার হবে না। সেদিন শুধু তারাই
ওজনদার হবে, পৃথিবীতে যারা আল্লাহর
বিধান অনুসরণ করেছে। আল্লাহ তা’য়ালা
বলেন-
করে জীবিকা নির্বাহ করেছে, বাঘের বা
সাপের কবলে পড়ে মৃত্যুবরণ করেছে,
তারপর তার লাশ বাঘের পেটে হজম হয়ে
গিয়েছে, সে যদি আল্লাহর বিধান অনুসরণ
করে থাকে, আল্লাহর কাছে তার ওজন
হবে অপরিসীম এবং তার মর্যাদা হবে
বিরাট। পৃথিবীতে জাঁকজমকের সাথে
চলাফেরা করেছে অথচ আল্লাহর বিধান
অনুসরণ করেনি, বিচার দিবসে সে
ওজনদার হবে না। সেদিন শুধু তারাই
ওজনদার হবে, পৃথিবীতে যারা আল্লাহর
বিধান অনুসরণ করেছে। আল্লাহ তা’য়ালা
বলেন-
আর ওজন ও পরিমাপ সেদিন নিশ্চিতই
সত্য-সঠিক হবে। যাদের পাল্লা ভারী
হবে, তারাই কল্যাণ লাভ করবে আর
যাদের পাল্লা হাল্কা হবে, তারা
নিজেদেরকে মহাক্ষতির সম্মুখীন করবে।
কারণ তারা আমার আয়াতের সাথে
জালিমের ন্যায় আচরণ করছিল। ( সূরা আল
আ’রাফ-৯)
সত্য-সঠিক হবে। যাদের পাল্লা ভারী
হবে, তারাই কল্যাণ লাভ করবে আর
যাদের পাল্লা হাল্কা হবে, তারা
নিজেদেরকে মহাক্ষতির সম্মুখীন করবে।
কারণ তারা আমার আয়াতের সাথে
জালিমের ন্যায় আচরণ করছিল। ( সূরা আল
আ’রাফ-৯)
আল্লাহর বিধান অনুসরণ করে না, আল্লাহ
ও তাঁর রাসূলের প্রতি সামান্যতম
শ্রদ্ধাবোধও অন্তরে নেই, নামাজ-
রোজা আদায় করার কোন প্রয়োজন
অনুভব করে না। কেউ কেউ হজ্জ আদায়
করে এ জন্য যে, নির্বাচন এলে নামের
পূর্বে ‘আলহাজ্জ’ শব্দটি ব্যবহার করে
ধর্মভীরু মানুষদের কাছে গ্রহণযোগ্য
হবার জন্য। এদের মধ্যে অনেকে বিদেশ
থেকে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেছে। অর্থ,
প্রভাব-প্রতিপত্তির জোরে এরা দেশের
বিশিষ্ট নাগরিকে পরিণত হয়েছে।
সাধারণ লোকজন এদেরকে মূল্য দিয়ে
থাকে, সম্মান-মর্যাদা দেয়। মহান
আল্লাহর আদালতে বিচার দিবসে এদের
কোনই মূল্য নেই। আল্লাহ তা’য়ালা বলেন-
ও তাঁর রাসূলের প্রতি সামান্যতম
শ্রদ্ধাবোধও অন্তরে নেই, নামাজ-
রোজা আদায় করার কোন প্রয়োজন
অনুভব করে না। কেউ কেউ হজ্জ আদায়
করে এ জন্য যে, নির্বাচন এলে নামের
পূর্বে ‘আলহাজ্জ’ শব্দটি ব্যবহার করে
ধর্মভীরু মানুষদের কাছে গ্রহণযোগ্য
হবার জন্য। এদের মধ্যে অনেকে বিদেশ
থেকে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেছে। অর্থ,
প্রভাব-প্রতিপত্তির জোরে এরা দেশের
বিশিষ্ট নাগরিকে পরিণত হয়েছে।
সাধারণ লোকজন এদেরকে মূল্য দিয়ে
থাকে, সম্মান-মর্যাদা দেয়। মহান
আল্লাহর আদালতে বিচার দিবসে এদের
কোনই মূল্য নেই। আল্লাহ তা’য়ালা বলেন-
হে রাসূল! এদেরকে বলো, আমি কি
তোমাদের বলবো নিজেদের কর্মের
ব্যাপারে বেশী ব্যর্থ ও ক্ষতিগ্রস্থ
কারা ? সে লোকগুলো তারা, যারা
পৃথিবীর জীবনের সমস্ত প্রচেষ্টা ও
সংগ্রাম সব সময় সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত
থাকতো এবং যারা মনে করতো যে,
তারা সব কিছু সঠিক করে যাচ্ছে। এরা
এমন সব লোক যারা নিজেদের রব-এর
নিদর্শনাবলী মেনে নিতে অস্বীকার
করেছে এবং তাঁর সামনে উপস্থিত হবার
ব্যাপারটি বিশ্বাস করেনি। তাই তাদের
সমস্ত কর্ম নষ্ট হয়ে গিয়েছে, কিয়ামতের
দিন তাদেরকে কোন গুরুত্ব দেয়া হবে
না। (কাহ্ফ- ১০৩-১০৫)
তোমাদের বলবো নিজেদের কর্মের
ব্যাপারে বেশী ব্যর্থ ও ক্ষতিগ্রস্থ
কারা ? সে লোকগুলো তারা, যারা
পৃথিবীর জীবনের সমস্ত প্রচেষ্টা ও
সংগ্রাম সব সময় সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত
থাকতো এবং যারা মনে করতো যে,
তারা সব কিছু সঠিক করে যাচ্ছে। এরা
এমন সব লোক যারা নিজেদের রব-এর
নিদর্শনাবলী মেনে নিতে অস্বীকার
করেছে এবং তাঁর সামনে উপস্থিত হবার
ব্যাপারটি বিশ্বাস করেনি। তাই তাদের
সমস্ত কর্ম নষ্ট হয়ে গিয়েছে, কিয়ামতের
দিন তাদেরকে কোন গুরুত্ব দেয়া হবে
না। (কাহ্ফ- ১০৩-১০৫)
অর্থাৎ যাদের সমস্ত প্রচেষ্টা ও সাধনা
পৃথিবীর জীবনকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত
হয়েছে। তারা যা কিছুই করেছে আল্লাহর
প্রতি সম্পর্কহীন হয়ে ও আখিরাতের
চিন্তা বিসর্জন দিয়ে পৃথিবীতে অর্থ-
বিত্ত, ঐশ্বর্য, সম্মান, মর্যাদা, প্রভাব-
প্রতিপত্তি অর্জনের জন্যই করেছে।
পৃথিবীর জীবনকেই তারা একমাত্র জীবন
মনে করেছে। পৃথিবীর জীবনে
সফলতাকেই তারা নিজেদের জীবনের
উদ্দেশ্যে পরিণত করেছিল। এরা আল্লাহর
অস্তিত্ব স্বীকার করে নিলেও তাঁর
সন্তুষ্টি কোন কর্মের মধ্যে নিহিত এবং
তাঁর সামনে বিচার দিবসে দাঁড়াতে হবে,
সমস্ত কাজের হিসাব দিতে হবে, এ কথা
তারা মনে স্থান দেয়নি। তারা
নিজেদেরকে সবচেয়ে বড় জ্ঞানী, সম্মান
ও মর্যাদা লাভের যোগ্য একজন মনে
করতো। এরা পৃথিবীর চারণ ভূমি থেকে
একমাত্র নিজেদের স্বার্থোদ্ধার ব্যতীত
অন্য কোন কাজ করতো না।
বিচার দিবসের দিন প্রত্যেক ব্যক্তির
ব্যক্তিগত গুণাবলীর ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত
গ্রহণ করা হবে। যে ব্যক্তি কোন জুলুমের
বোঝা বহন করে নিয়ে যাবে, সে
আল্লাহর অধিকারের বিরুদ্ধে জুলুম করুক
বা আল্লাহর বান্দাদের অধিকারের
বিরুদ্ধে অথবা নিজের নফ্সের বিরুদ্ধে
জুলুম করুক না কেন, যে কোন অবস্থায়ই
সেসব কর্ম তাকে নিকৃষ্ট পরিণতি থেকে
মুক্তি দিতে পারবে না। বিচার দিবসের
দিনে সমস্ত মানুষ যখন মহান আল্লাহর
মহাপ্রতাপ দেখবে, তখন তাদের মাথা
আপনা আপনিই ঝুঁকে পড়বে। আল্লাহ
তা’য়ালা বলেন-
পৃথিবীর জীবনকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত
হয়েছে। তারা যা কিছুই করেছে আল্লাহর
প্রতি সম্পর্কহীন হয়ে ও আখিরাতের
চিন্তা বিসর্জন দিয়ে পৃথিবীতে অর্থ-
বিত্ত, ঐশ্বর্য, সম্মান, মর্যাদা, প্রভাব-
প্রতিপত্তি অর্জনের জন্যই করেছে।
পৃথিবীর জীবনকেই তারা একমাত্র জীবন
মনে করেছে। পৃথিবীর জীবনে
সফলতাকেই তারা নিজেদের জীবনের
উদ্দেশ্যে পরিণত করেছিল। এরা আল্লাহর
অস্তিত্ব স্বীকার করে নিলেও তাঁর
সন্তুষ্টি কোন কর্মের মধ্যে নিহিত এবং
তাঁর সামনে বিচার দিবসে দাঁড়াতে হবে,
সমস্ত কাজের হিসাব দিতে হবে, এ কথা
তারা মনে স্থান দেয়নি। তারা
নিজেদেরকে সবচেয়ে বড় জ্ঞানী, সম্মান
ও মর্যাদা লাভের যোগ্য একজন মনে
করতো। এরা পৃথিবীর চারণ ভূমি থেকে
একমাত্র নিজেদের স্বার্থোদ্ধার ব্যতীত
অন্য কোন কাজ করতো না।
বিচার দিবসের দিন প্রত্যেক ব্যক্তির
ব্যক্তিগত গুণাবলীর ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত
গ্রহণ করা হবে। যে ব্যক্তি কোন জুলুমের
বোঝা বহন করে নিয়ে যাবে, সে
আল্লাহর অধিকারের বিরুদ্ধে জুলুম করুক
বা আল্লাহর বান্দাদের অধিকারের
বিরুদ্ধে অথবা নিজের নফ্সের বিরুদ্ধে
জুলুম করুক না কেন, যে কোন অবস্থায়ই
সেসব কর্ম তাকে নিকৃষ্ট পরিণতি থেকে
মুক্তি দিতে পারবে না। বিচার দিবসের
দিনে সমস্ত মানুষ যখন মহান আল্লাহর
মহাপ্রতাপ দেখবে, তখন তাদের মাথা
আপনা আপনিই ঝুঁকে পড়বে। আল্লাহ
তা’য়ালা বলেন-
লোকদের মাথা চিরঞ্জীব ও চির
প্রতিষ্ঠিত সত্তার সামনে ঝুঁকে পড়বে, সে
সময় যে জুলুমের গোনাহের ভার বহন
করবে সে ব্যর্থ হবে। আর যে ব্যক্তি
সৎকাজ করবে এবং সেই সাথে সে মুমিনও
হবে তার প্রতি কোন জুলুম বা অধিকার
হরণের আশঙ্কা নেই। ( ত্বা-হা-১১১-১১২)
প্রতিষ্ঠিত সত্তার সামনে ঝুঁকে পড়বে, সে
সময় যে জুলুমের গোনাহের ভার বহন
করবে সে ব্যর্থ হবে। আর যে ব্যক্তি
সৎকাজ করবে এবং সেই সাথে সে মুমিনও
হবে তার প্রতি কোন জুলুম বা অধিকার
হরণের আশঙ্কা নেই। ( ত্বা-হা-১১১-১১২)
অনেক মানুষ প্রশ্ন তোলে, পৃথিবীতে
অমুসলিমগণ যে সৎকর্মসমূহ করে অর্থাৎ
তাদের অনেকে অসংখ্য জনকল্যাণমূলক
কর্ম করে, দান করে, তাদের দ্বারা
অসংখ্য মানুষ উপকৃত হয় এদেরকে বিচার
দিবসের দিনে কি ধরনের প্রতিফল দেয়া
হবে ? এ প্রশ্নের উত্তরে বলা যেতে পারে
যে, আল্লাহ রাব্বুল আলামীন অবশ্যই
তাদেরকে প্রতিদান দিয়ে থাকেন। তিনি
রাহমান ও রাহীম। তিনি কারো সৎকর্ম
বৃথা যেতে দেন না। সৃষ্টিজগৎ ব্যাপী
এবং এই পৃথিবীতে মানুষের টিকে থাকার
জন্য প্রতি মুহূর্তে তিনি রহমত বর্ষণ
করছেন, এগুলো তো শুধুমাত্র
ঈমানদারগণই ভোগ করছে না, তারাও
এগুলো ভোগ করছে। শুধু তাই নয়, এই
পৃথিবীতে তাদের কর্মের বিনিময়ে
আল্লাহ তা’য়ালা তাদেরকে এমন অসংখ্য
দুর্লভ নিয়ামত ভোগ করার সুযোগ করে
দিয়েছেন, যা তিনি ঈমানদারকে দেননি।
আল্লাহর অস্তিত্ব স্বীকার করে না,
স্বীকার করলেও শির্ক করে, তাদের
সৎকাজের বিনিময়ে এই পৃথিবীতে
আল্লাহ তা’য়ালা তাদেরকে বাড়ি, গাড়ি,
অঢেল সম্পদ, সম্মান-মর্যাদা, যশ-খ্যাতি
দান করেছেন, পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ নিয়ামতসমূহ
ভোগ করার সুযোগ প্রদান করেছেন,
তাদের মৃত্যুর পরেও তাদের কাউকে
কাউকে পরম শ্রদ্ধার পাত্রে পরিণত
করেছেন, এসব তো তারা তাদের
সৎকাজের বিনিময় হিসাবে লাভ করেছে।
অমুসলিমগণ যে সৎকর্মসমূহ করে অর্থাৎ
তাদের অনেকে অসংখ্য জনকল্যাণমূলক
কর্ম করে, দান করে, তাদের দ্বারা
অসংখ্য মানুষ উপকৃত হয় এদেরকে বিচার
দিবসের দিনে কি ধরনের প্রতিফল দেয়া
হবে ? এ প্রশ্নের উত্তরে বলা যেতে পারে
যে, আল্লাহ রাব্বুল আলামীন অবশ্যই
তাদেরকে প্রতিদান দিয়ে থাকেন। তিনি
রাহমান ও রাহীম। তিনি কারো সৎকর্ম
বৃথা যেতে দেন না। সৃষ্টিজগৎ ব্যাপী
এবং এই পৃথিবীতে মানুষের টিকে থাকার
জন্য প্রতি মুহূর্তে তিনি রহমত বর্ষণ
করছেন, এগুলো তো শুধুমাত্র
ঈমানদারগণই ভোগ করছে না, তারাও
এগুলো ভোগ করছে। শুধু তাই নয়, এই
পৃথিবীতে তাদের কর্মের বিনিময়ে
আল্লাহ তা’য়ালা তাদেরকে এমন অসংখ্য
দুর্লভ নিয়ামত ভোগ করার সুযোগ করে
দিয়েছেন, যা তিনি ঈমানদারকে দেননি।
আল্লাহর অস্তিত্ব স্বীকার করে না,
স্বীকার করলেও শির্ক করে, তাদের
সৎকাজের বিনিময়ে এই পৃথিবীতে
আল্লাহ তা’য়ালা তাদেরকে বাড়ি, গাড়ি,
অঢেল সম্পদ, সম্মান-মর্যাদা, যশ-খ্যাতি
দান করেছেন, পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ নিয়ামতসমূহ
ভোগ করার সুযোগ প্রদান করেছেন,
তাদের মৃত্যুর পরেও তাদের কাউকে
কাউকে পরম শ্রদ্ধার পাত্রে পরিণত
করেছেন, এসব তো তারা তাদের
সৎকাজের বিনিময় হিসাবে লাভ করেছে।
একটি বিষয় সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকতে
হবে যে, যে কোন সৎকাজ কবুলের ও
আখিরাতে তার বিনিময় লাভের পূর্ব শর্ত
হলো, ঈমানদার হতে হবে। ঈমানহীন
কোন সৎকাজের বিনিময় বিচার দিবসে
পাওয়া যাবে না- এই পৃথিবীতেই তার
বিনিময় দিয়ে দেয়া হবে।
হবে যে, যে কোন সৎকাজ কবুলের ও
আখিরাতে তার বিনিময় লাভের পূর্ব শর্ত
হলো, ঈমানদার হতে হবে। ঈমানহীন
কোন সৎকাজের বিনিময় বিচার দিবসে
পাওয়া যাবে না- এই পৃথিবীতেই তার
বিনিময় দিয়ে দেয়া হবে।
এদের বিপরীতে অধিকাংশ ঈমানদারদের
জীবনের দিকে দৃষ্টি নিক্ষেপ করলে
দেখা যায়, মানুষকে আল্লাহর পথের
দিকে আহ্বান জানাতে গিয়ে এদেরকে
অবর্ণনীয় অত্যাচার সহ্য করতে হয়, জেলের
অন্ধকার কুঠুরিতে আবদ্ধ থাকতে হয়,
সহায়-সম্পদ থেকে বঞ্চিত হতে হয়।
অর্ধাহারে-অনাহারে জীবন কাটাতে হয়,
জীবন-যাপনের তেমন কোন উপকরণ থাকে
না, মনের একান্ত বাসনা আল্লাহর ঘরে
গিয়ে আল্লাহকে সেজ্দা দিবে,
অর্থাভাবে সে অদম্য কামনা বুকে নিয়েই
কবরে গিয়ে আশ্রয় গ্রহণ করে, স্ত্রী ও
সন্তান-সন্ততির জন্য উত্তম পোষাক,
উৎকৃষ্ট খাদ্যের ব্যবস্থা করতে পারে না,
নিজের মেধাবী পুত্র বা কন্যাকে
অর্থাভাবে উচ্চশিক্ষা দিতে পারে না।
মাথা গোঁজার জন্য এক টুকরো যমীন
কিনতে পারে না, রোগাক্রান্ত হলে
তেমন চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে পারে
না।
এরপরেও তারা সমস্ত পরিস্থিতি
হাসিমুখে মোকাবেলা করে আল্লাহর
দরবারে শোকর আদায় করে। নিজেকে
অপরাধী মনে করে সেজ্দায় পড়ে
অঝোরে কাঁদতে থাকে। পৃথিবীতে ধন-
সম্পদ না চেয়ে আল্লাহর দরবারে
পরকালের কল্যাণ কামনা করে। আল্লাহ
তা’য়ালা ঈমানদারকে কিয়ামতের
ময়দানে তাদের কর্মের সর্বোত্তম
বিনিময় দান করবেন, সেদিন কারো
প্রতি সামান্য অবিচার করা হবে না।
সবাই যার যার অধিকার বুঝে পাবে।
প্রতিদান ও সুবিচারের বেশ কয়েকটি রূপ
হতে পারে। প্রতিদান লাভের অধিকারী
ব্যক্তিকে প্রতিদান না দেয়াও অবিচার
এবং জুলূম। প্রতিদান লাভকারী যতটা
প্রতিদান লাভের উপযুক্ত তার থেকে কম
দেয়াও অবিচার ও জুলুম। যে ব্যক্তি
শাস্তি লাভের যোগ্য নয়, তাকে শাস্তি
দেয়াও অবিচার এবং জুলুম। আবার যে
শাস্তি লাভের যোগ্য তাকে শাস্তি না
দেয়া এবং যে কম শাস্তি লাভের যোগ্য,
তাকে অধিক শাস্তি দেয়াও জুলুম ও
অবিচার।
জালিম শাস্তি পাচ্ছে না, নির্দোষ
অবস্থায় খালাস পাচ্ছে আর মজলুম তা
অসহায়ের মতো নীরবে চেয়ে চেয়ে
দেখছে, এটাও অবিচার ও জুলূম। একজনের
অপরাধের কারণে অন্যজন শাস্তি লাভ
করছে, একের অপরাধ অন্যের ওপর
চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে, এসবই জুলুম আর
অবিচারের কারণে হয়ে থাকে। বিচার
দিবসে এসবের কোনকিছুই ঘটবে না।
মহান আল্লাহ কারো প্রতি কোন ধরনের
জুলুম করবেন না। বিচার দিবসের দিন
আল্লাহর পক্ষ থেকে ভাষণে বলা হবে-
জীবনের দিকে দৃষ্টি নিক্ষেপ করলে
দেখা যায়, মানুষকে আল্লাহর পথের
দিকে আহ্বান জানাতে গিয়ে এদেরকে
অবর্ণনীয় অত্যাচার সহ্য করতে হয়, জেলের
অন্ধকার কুঠুরিতে আবদ্ধ থাকতে হয়,
সহায়-সম্পদ থেকে বঞ্চিত হতে হয়।
অর্ধাহারে-অনাহারে জীবন কাটাতে হয়,
জীবন-যাপনের তেমন কোন উপকরণ থাকে
না, মনের একান্ত বাসনা আল্লাহর ঘরে
গিয়ে আল্লাহকে সেজ্দা দিবে,
অর্থাভাবে সে অদম্য কামনা বুকে নিয়েই
কবরে গিয়ে আশ্রয় গ্রহণ করে, স্ত্রী ও
সন্তান-সন্ততির জন্য উত্তম পোষাক,
উৎকৃষ্ট খাদ্যের ব্যবস্থা করতে পারে না,
নিজের মেধাবী পুত্র বা কন্যাকে
অর্থাভাবে উচ্চশিক্ষা দিতে পারে না।
মাথা গোঁজার জন্য এক টুকরো যমীন
কিনতে পারে না, রোগাক্রান্ত হলে
তেমন চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে পারে
না।
এরপরেও তারা সমস্ত পরিস্থিতি
হাসিমুখে মোকাবেলা করে আল্লাহর
দরবারে শোকর আদায় করে। নিজেকে
অপরাধী মনে করে সেজ্দায় পড়ে
অঝোরে কাঁদতে থাকে। পৃথিবীতে ধন-
সম্পদ না চেয়ে আল্লাহর দরবারে
পরকালের কল্যাণ কামনা করে। আল্লাহ
তা’য়ালা ঈমানদারকে কিয়ামতের
ময়দানে তাদের কর্মের সর্বোত্তম
বিনিময় দান করবেন, সেদিন কারো
প্রতি সামান্য অবিচার করা হবে না।
সবাই যার যার অধিকার বুঝে পাবে।
প্রতিদান ও সুবিচারের বেশ কয়েকটি রূপ
হতে পারে। প্রতিদান লাভের অধিকারী
ব্যক্তিকে প্রতিদান না দেয়াও অবিচার
এবং জুলূম। প্রতিদান লাভকারী যতটা
প্রতিদান লাভের উপযুক্ত তার থেকে কম
দেয়াও অবিচার ও জুলুম। যে ব্যক্তি
শাস্তি লাভের যোগ্য নয়, তাকে শাস্তি
দেয়াও অবিচার এবং জুলুম। আবার যে
শাস্তি লাভের যোগ্য তাকে শাস্তি না
দেয়া এবং যে কম শাস্তি লাভের যোগ্য,
তাকে অধিক শাস্তি দেয়াও জুলুম ও
অবিচার।
জালিম শাস্তি পাচ্ছে না, নির্দোষ
অবস্থায় খালাস পাচ্ছে আর মজলুম তা
অসহায়ের মতো নীরবে চেয়ে চেয়ে
দেখছে, এটাও অবিচার ও জুলূম। একজনের
অপরাধের কারণে অন্যজন শাস্তি লাভ
করছে, একের অপরাধ অন্যের ওপর
চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে, এসবই জুলুম আর
অবিচারের কারণে হয়ে থাকে। বিচার
দিবসে এসবের কোনকিছুই ঘটবে না।
মহান আল্লাহ কারো প্রতি কোন ধরনের
জুলুম করবেন না। বিচার দিবসের দিন
আল্লাহর পক্ষ থেকে ভাষণে বলা হবে-
আজ কারো প্রতি তিলমাত্র জুলুম করা
হবে না এবং যেমন কাজ তোমরা করে
এসেছো ঠিক তারই প্রতিদান তোমাদের
দেয়া হবে। (সূরা ইয়াছিন-৫৪)
হবে না এবং যেমন কাজ তোমরা করে
এসেছো ঠিক তারই প্রতিদান তোমাদের
দেয়া হবে। (সূরা ইয়াছিন-৫৪)
No comments:
Post a Comment