Friday, June 23, 2017

৪০০ হিজরির পূর্বে চার মাযহাবের অস্তিত্ব ছিল না।



Image may contain: text


৪০০ হিঃ পরে মুসলিমরা বিভিন্ন মাযহাবে বিভক্ত হয়ে যায় এবং মাযহাব থেকে আবার বিভিন্ন দলেও বিভক্ত হয়েছে।অথচ আল্লাহ বলেন:

"নিশ্চয় যারা স্বীয় ধর্মকে খন্ড-বিখন্ড করেছে এবং অনেক দল হয়ে গেছে, তাদের সাথে আপনার কোন সম্পর্ক নেই। তাদের ব্যাপার আল্লাহ তা`আয়ালার নিকট সমর্পিত। অতঃপর তিনি বলে দেবেন যা কিছু তারা করে থাকে।" (সূরা আল আন-আম:১৫৯)
৪০০ হিঃ এর পূর্বে এই চার মাযহাবের কোনো অস্তিত্ব ছিল না।
____________________

-প্রচলিত চার মাযহাব হল কবে?
১.রাসূল (সাঃ) ও সাহাবি (রাযি.) গণের যুগে?......না।
২.তাবেঈ (রাহে.) গণের যুগে?.....না।
৩.তাবে-তাবেঈ (রাহে.) গণের যুগে?......না।
রাসূল (সাঃ)  এর ভবিষ্যৎ বাণী উত্তম--
৩(তিন) যুগ পর ফিত্নার যুগে ৪০০ হিজরীর পর মাযহাবের সৃষ্টি। 
(শাহ ওয়ালী উল্যাহ: হজ্জাতুল্লাহি বালিগাহ-ভলিউম-১)

-তবে রাসূল (সাঃ) মুক্তির পথ বলে গিয়েছেন.
তিনি বলেন-"তোমরা দুটি জিনিসকে যতক্ষন পর্যন্ত মজবুত করে আকড়ে ধরে থাকবে ততক্ষন পথভ্রষ্ট হবে না।
সেগুলো হল কুরআন এবং সুন্নাহ(ছহীহ হাদীছ)।
________________

*ইমামরা মাযহাব সৃষ্টি করেন নি:
ভারতবর্ষের বিখ্যাত হাদীসশাস্ত্রবিদ ও হানাফীদের শিক্ষাগুরু যাকে হানাফীরা ভারতবর্ষের ‘ইমাম বুখারী’ বলে থাকেন সেই শাহ আলিউল্লাহ মুহাদ্দিসদেহেলভী (রহ) বলেছেন – ‘ই’লাম আন্না না-সা-কা-নু ক্কারলাল মিআতির রা-বিআতি গাইরা মুজমিয়ীনা আলাত্‌-তাকলীদিল খা-লিস লিমায় হাবিন্‌ ওয়া-হিদিন্‌ বি-আইনিহী’ অর্থাৎ তোমরা জেনে রাখো যে, ৪০০ হিজরীর আগে লোকেরা কোন একটি বিশেষ মাযহাবের উপর জমে ছিল না’ (হুজ্জাতুল্লাহিল বালেগাহ; ১৫২ পৃষ্ঠা)। অর্থাৎ ৪০০ হিজরীর আগে নিজেকে হানাফী, শাফেরী বা মালেকী বলে পরিচয় দিতো না। আর চারশো হিজরীর অনেক আগে ইমামরা ইন্তেকাল করেন। ইমামদের জন্ম ও মৃত্যুর সময়কালটা একবার জানা যাক তাহলে ব্যাপারটা আরও স্পষ্ট হয়ে যাবে।
------------------
*ইমামের নাম /জন্ম /মৃত্যু:
-আবু হানীফা (রহ)/৮০ হিজরী/১৫০ হিজরী
-ইমাম মালেক (রহ) /৯৩ হিজরী /১৭৯ হিজরী
-ইমাম শাকেরী (রহ)/ ১৫০ হিজরী /২০৪ হিজরী
-আহমদ বিন হাম্বাল (রহ) /১৬৪ হিজরী/ ২৪১ হিজরী

বিশিষ্ট হানাফী বিদ্বান শাহ ওলিউল্লাহ দেহেলভী (রহ) এর কথা অনুযায়ী দেখা যায় যে ৪০০ হিজরীর আগে কোনো মাযহাব ছিল না, এবং ৪০০ হিজরীর পরে মানুষেরা মাযহাব সৃষ্টি করেছে, তার মানে এটা দাঁড়ায় যে-
-ইমাম আবু হানীফার ইন্তেকালের ২৫০ বছর পর হানাফী মাযহাব সৃষ্টি হয়েছে। 
-ইমাম মালেকের ইন্তেকালের ২২১ বছর পর মালেকী মাযহাব সৃষ্টি হয়েছে। 
-ইমাম শাফেরীর ইন্তেকালের ১৯৬ বছর পরে শাফেরী মাযহাব এবং 
-ইমাম আহমাদের ইন্তেকালের ১৫৯ বছর পর হাম্বলী মাযহাব সৃষ্টি হয়েছে।

অর্থাৎ ইমামদের জীবিত অবস্থায় মাযহাব সৃষ্টি হয়নি। তাঁদের মৃত্যুর অনেকদিন পরে মাযহাবের উদ্ভব হয়েছে। আর একবার চিন্তা করে দেখুন মাযহাব বা দল সৃষ্টি করাতে কোরআন ও হাদিসে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। মহামান্য ইমামরা ছিলেন কোরআন হাদীসের পুঙ্খানুপুঙ্খ অনুসারী এবং ধর্মপ্রান মুসলিম। তাঁরা কি কোরআন হাদীসকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে মাযহাব তৈরি করবেন যা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ, এটা কখনো হতে পারে? যারা বলে ইমামরা মাযহাব সৃষ্টি করেছেন তারা হয় মুর্খ নয় বেইমান। তারা ইমামদের প্রতি অপবাদ দেয়।
★প্রথম ফিকহ দল হানাফী মাযহাবঃ
ইমাম আবু হানিফা (রঃ) (জম্ম ৮০ হিজরী)। নিজে কোনো মাযহাব প্রতিষ্ঠা করে যান নি। তার মৃত্যুর (২৫০ বছর পর) ৪০০ হিজরীতে ইরাকের হামীদ বিন সুলাইমান হানাফী মাযহাবের নামকরণ করেন। পরবর্তীতে 'আব্বাসীয় খলিফাগণ এই মাযহাবের স্বীকৃতি দান করেন (ইসলামের ইতিহাস পৃঃ ৩১২ তাবারেক আলী)। ইমাম সাহেব নিজ হস্তে কোনো গ্রন্থও লিখে যান নি।
ফিকুহুল আকবর গ্রন্থখানি আবু মুতীব বালখীর লেখা,ইহা দশম শতাব্দিতে লিখা হয়েছে।

★দ্বিতীয় ফিকহী দল মালিকী মাযহাবঃ
ইমাম মালিক ইবনে আনাস (রঃ) (জম্ম হিঃ ৯৩) স্পেনের খলিফা হিশাম ইবনে আব্দুর রহমান, মালিকী মাযহাব অনুসরণ করার নির্দেশ জারি করেণ।

★তৃতীয় ফিকহী দল শাফিয়ী মাযহাবঃ
ইমাম মুহাম্মদ ইবনে ইদ্রিস (রঃ) (জম্ম ১৫০ হিঃ) দলাদলীতে প্রশ্রয়প্রাপ্ত ভক্ত শাগরিদগণই ক্রমশ এ মাযহাবকে স্থায়ীভাবে গড়ে তোলেন।

★চতুর্থ ফিকহী দল হাম্বলী মাযহাবঃ
ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল (রঃ) (জম্ম ২৪১ হিঃ) তার মৃত্যুর পর তার হাজার হাজার শিষ্য শাগরিদ তার মাযহাবকে সুপ্রতিষ্ঠিত করেণ।

-এ চারটি টি মাযহাব ছাড়াও আরও কয়েকটি মাযহাবের উদ্ভব ঘটেছিল যা পরবর্তীতে উপরোক্ত চারটি মাযহাবের মধ্যে বিলীন হয়ে যায়।
যেমনঃ
ইমাম সুফিয়ান সাত্তরী,ইমাম হাসান বসরি,ইমাম আওয়াবী-এর মাযহাব। এ তিনটি মাযহাব হিজরী তৃতীয় শতক পর্যন্ত
চালু ছিল।ইমাম আবু সাত্তর এর মাযহাবও
তৃতীয় শতাব্দী পর্যন্ত চালু ছিল। ঐতিহাসিক ইবনে খালদুনের খবরমতে
ইমাম দাঊদ জাহেরীর মাযহাব হিজরী ৮ম শতাব্দী পর্যন্ত বিদ্যমান ছিল।তাছাড়া ইসহাক ইবনে রাহওয়ার, সুফইয়ান ইবনে ওয়াইনা,ইবনে জারীর তাবারী,লাইস ইবনে 
সাদ তাদের মাযহাবও কিছুদিন চালু ছিল।
পরবর্তীতে চারটি মাযহাবই টিকে যায়।
তাদের অনুসারীদের সংখ্যা দিন দিন বাড়তে থাকে। তাদের আলেমগণ জনসাধারনের জন্য উক্ত চার মাযহাবের যে কোন একটির অনুসরণ বা তাকলীদ (অন্ধ অনুসরণ) করাকে ফরজ বলে ফতোয়া প্রদান করে। 
যা ইসলামের দৃষ্টিতে সমর্থনীয় ছিল না।

*হাদীস বিরোধী বক্তব্যের ব্যাপারে ইমামদের রায়:
মাযহাবীদের মধ্যে কিছু লোক দেখা যায় যারা ইমামদের তাক্কলীদ করে অর্থাৎ অন্ধ অনুসরন করে। তারা ইমামদের বক্তব্যকে আসমানী ওহীর মতো মানে। কোরআন-হাদিস বিরোধী কোনো রায় হলেও তাতে আমল করে। তাই সেই সব লোকদের জন্য হাদীস অনুসরনের ব্যাপারে ইমামদের মতামত এবং তাদের হাদীস বিরোধী বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করার ব্যাপারে তাদের কয়েকটি উক্তি দেওয়া হল। ইনশাল্লাহ্‌! মাযহাবী ভাইয়েরা এ থেকে অনেক উপকারিত হবেন।
#আবু হানীফা (রহ)
১) যখন হাদীস সহীহ হবে, তখন সেটাই আমার মাযহাব অর্থাৎ হাদীস সহীহ হলে সেটাই আমার মাযহাব। (ইবনুল আবেদীন ১/৬৩; রাসমুল মুফতী ১/৪; ঈক্কামুল মুফতী ৬২ পৃষ্ঠা)
২) কারো জন্য আমাদের কথা মেনে নেওয়া বৈধ নয়; যতক্ষন না সে জেনেছে যে, আমরা তা কোথা থেকে গ্রহন করেছি। (হাশিয়া ইবনুল আবেদীন ২/২৯৩ রাসমুল মুফতী ২৯, ৩২ পৃষ্ঠা, শা’ রানীর মীথান ১/৫৫; ইলামুল মুওয়াক্কিঈন ২/৩০৯)
৩) যে ব্যাক্তি আমার দলিল জানে না, তার জন্য আমার উক্তি দ্বারা ফতোয়া দেওয়া হারাম। (আন-নাফিউল কাবীর ১৩৫ পৃষ্ঠা)
৪) আমরা তো মানুষ। আজ এক কথা বলি, আবার কাল তা প্রত্যাহার করে নিই। – (ঐ)
৫) যদি আমি এমন কথা বলি যা আল্লাহর কিবাব ও রাসুলের (সা) হাদীসের পরিপন্থি, তাহলে আমার কথাকে বর্জন করো। (দেওয়ালে ছুড়ে মারো)। (ঈক্কাবুল হিমাম ৫০ পৃষ্ঠা)

***ইমাম আবু হানিফা (রঃ) অভিমতঃ
ইমাম আবু হানিফা (রঃ) বলেন--->
"যে কোনো সমস্যার সমাধানে আমি সর্ব
প্রথম আল্লাহর কালাম আল কুরআন এর আশ্রয় নিয়ে থাকি।তাতেও সমাধান না পেলে, আমি রাসূল (সাঃ) এর সুন্নাতে অনুসন্ধান করি। তাতে সমাধান না পাওয়া গেলে সাহাবাগণের মধ্য হতে যার উক্তি আমার পছন্দ হয় আমি তা বেছে নেই। সাথে সাথে তিনি উদার মন নিয়ে তার অনুসারীদের লক্ষ্য করে বলেন--->
কোনো সমস্যা সমন্ধে ছহীহ হাদীছে যে সমাধান পাওয়া যাবে, তাকেই তোমরা আমার মাযহাব বলে জানবে। তিনি তাদের হুশিয়ার করে বলেন--> আমার সিদ্ধান্ত রাসূল (সাঃ) এর নির্দেশের বিপরীত হলে উহা ফেলে দিও।
[[[মিফতাহুল জান্নাহ-৪৯ পৃ:]]]

সুতরাং, প্রমাণ হল প্রচলিত মাযহাব মানা ফরজ নয় বরং কুরআন ও সুন্নাহ মানা ফরজ।
#ইমাম মালেক (রহ)
১) আমি তো একজন মানুষ মাত্র। আমার কথা ভুল হতে পারে আবার ঠিকও হতে পারে। সুতরাং তোমরা আমার মতকে বিবেচনা করে দেখ। অতঃপর যেটা কিতাব ও সুন্নাহর অনুকুল পাও তা গ্রহন কর। আর যা কিতাব ও সুন্নাহর প্রতিকুল তা বর্জন করো। (জানেউ বায়ানিল ইলম ২/৩২, উসুলুল আহকাম ৬/১৪৯)
২) রাসুলুল্লাহ (সা) এর পর এমন কোনো ব্যাক্তি নেই যার কথা ও কাজ সমালোচনার উর্ধে। একমাত্র রাসুলুল্লাহ (সা) ই সমালোচনার উর্ধে। (ইবনু আবদিল হাদী, ১ম খন্ড, ২২৭ পৃষ্ঠা, আল ফতোয়া – আসসাবকী, ১ম খন্ড ১৪৮ পৃষ্ঠা, উসুলুল আহকাম ইবনু হাযম, ষষ্ঠ খন্ড ১৪৫ – ১৭৯ পৃষ্ঠা)।
৩) ইবনু ওহাব বলেছেন, আমি ইমাম মালেককের উয়ব মধ্যে দুই পায়ের আঙ্গুল খেলাল করার বিষএ এক প্রশ্ন করতে শুনেছি। তিনি বলেন লোকদের জন্য এটার প্রয়োজন নীই। ইবনু ওহাব বলেন, আমি মানুষ কমে গেলে তাঁকে নিরিবিলে পেয়ে বলি ‘তাতো আমাদের জন্য সুন্নাহ। ইমাম মালেক বলেন, সেটা কি? আমি বললাম, আমরা লাইস বিন সাদ, ইবনু লোহাইআ, আমর বিন হারেস, ইয়াবিদ বিন আমার আল-মা আফেরী, আবু আবদুর রহমান আল হাবালী এবং আল মোস্তাওরাদ বিন শাদ্দাদ আল কোরাশী এই সুত্র পরম্পরা থেকে জানতে পেরেছি যে, শাদ্দাদ আল কোরাশী বলেন, আমি রাসুল (সা) কে কনিষ্ঠ আঙ্গুল দিয়ে দুই পায়ের আঙ্গুল খেলাল করতে দেখেছি। ইমাম মালেক বলেন, এটা তো সুন্দর হাদীস। আমি এখন ছাড়া আর কখনো এই হাদীসটি শুনিনি। তারপর যখনই তাকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়েছে, তখনই তাঁকে পায়ের আঙ্গুল খেলাল করার আদেশ দিতে আমি শুনেছি। (মোকাদ্দামা আল জারাহ ওয়াত তা দীল- ইবনু হাতেমঃ ৩১- ৩২ পৃষ্ঠা)

#ইমাম শাফেরীঃ-
১) হাদীস সহীহ হলে সেটাই আমার মাযহাব। (মাজমু ১/৬৩; শা’রানী ১/৫৭)
২) আমি যে কথাই বলি না কেন অথবা যে নীতিই প্রনয়ন করি না কেন, তা যদি আল্লাহর রাসুল (সা) এর নিকট থেকে বর্ণিত (হাদীসের) খিলাপ হয়, তাহলে সে কথাই মান্য, যা রাসুল (সা) বলেছেন। আর সেটাই আমার কথা। (তারীখু দিমাশ্‌ক; ইলামুল মুওয়াক্কিঈন ২/৩৬৬,৩৬৪)
৩) নিজ ছাত্র ইমাম আহমাদকে সম্বোধন করে বলেন) হাদীস ও রিজাল সম্বন্ধে তোমরা আমার চেয়ে বেশি জানো। অতএব হাদীস সহীহ হলে আমাকে জানাও, সে যাই হোক না কেন; কুকী, বাসরী অথবা শামী। তা সহীহ হলে সেটাই আমি আমার মাযহাব (পন্থা) বানিয়া নেবো। (ইবনু আবী হাতীম ৯৪-৯৫ পৃষ্ঠা; হিলয়াহ ৯/১০৬)
৪) আমার পুস্তকে যদি আল্লাহর রাসুল (সা) এর সুন্নাহের খেলাপ কে কথা পাও, তাহলে আল্লাহর রাসুল (সা) এর কথাকেই মেনে নিও এবং আমি যা বলেছি তা বর্জন করো। (নাওয়াবীর মা’জমু ১/৬৩; ইলামূল মুওয়াক্কিঈন ২/৩৬১)
৫) যে কথাই আমি বলি না কেন, তা যদি সহীহ সুন্নাহর পরিপন্থি হয়, তাহলে নবী (সা) এর হাদীসই অধিক মান্য। সুতরাং তোমরা আমার অন্ধানুকরন করো না। (হাদীস ও সুন্নাহর মুল্যমান ৫৪ পৃষ্ঠা)
৬)আমার কোনো উক্তি যদি রাসূল (সাঃ) এর নির্দেশের প্রতিকুল দেখতে পাও তাহলে রাসূল (সাঃ) হাদীছ অনুসরণীয় হবে।তোমরা আমার উক্তির তাক্লীদ করবে না।[[[ইকদুল জীদ পৃ:৫৭]]]
৭)রাসূল (সাঃ) ব্যতীত কারো দলিল নয়।তাদের সংখ্যা অধিক হলেও নয়।কিয়াস অথবা অন্য কোনো বিষয়েও নয়।
এবার তিনি দ্যর্থ হীন ভাবে বলেন-->সাহাবাগণও মানুষ ছিলেন আর আমরাও মানুষ ই বটে। সুতরাং, আমাদের মতামতের পক্ষেও ভুল ভ্রান্তি হওয়া সম্ভবপর।অতএব ছহীহ হাদীছ প্রাপ্ত হওয়ার পর সাহাবাগণের ইজতিহাদের অনুসরণ করা আবশ্যক নয়।অধিকন্তু উহা বর্জন করা এবং হাদীছ অবলম্বন করাই কর্তব্য।[[[ফিরকা বন্দী বনাম অনুসরণীয় ইমামগণের নীতি ১ম খন্ড পৃ:১৫]]]
৮) নবী (সা) থেকে যে হাদীসই বর্ণিত হয়, সেটাই আমার কথা; যদিও তা আমার নিকট থেকে না শুনে থাকো। (ইবনু আবী হাতীম ৯৩-৯৪)

#ইমাম আহমাদ
১) তোমরা আমার তাকলীদ করো না, মালেকেরও তাকলীদ করো না। তাকলীদ করো না শাফেরীর আর না আওয়ারী ও ষত্তরীব বরং তোমরা সেখান থেকে তোমরা গ্রহন কর যেখান থেকে তারা গ্রহন করেছেন। (ইলামুল মোয়াক্কিঈন ২/৩০২)
২) যে ব্যক্তি আল্লাহর রাসুল (সা) এর হাদীস প্রত্যাখ্যান করে, সে ব্যক্তি ধ্বংসোন্মুখ। (ইবনুল জাওযী ১৮২ পৃষ্ঠা)
৩) আওযাঈ; ইমাম মালেক ও ইমাম আবু হানীফার রায় তাদের নিজস্ব রায় বা ইজতিহাদ। আমার কাছে এসবই সমান। তবে দলিল হল আসার অর্থাৎ সাহাবী ও তাবেঈগনের কথা। (ইবনু আবদিল বার-আল-জামে, ২ খন্ড, ১৪৯ পৃষ্ঠা)

ইমামদের এই সকল বক্তব্য জানার পর আমরা বলতে পারি প্রকৃতই যারা ইমামদের ভালোবাসেন, শ্রদ্ধা করেন, মান্য করেন তারা ইমামদের কথা অনুযায়ী চলবেন এবং সহীহ হাদীসকেই নিজের মাযহাব বানাবেন। তাক্কলীদ করবেন না। সরাসরী সেখান থেকে গ্রহন করবেন যেখান থেকে ইমামরা করেছেন অর্থাৎ সরাসরী হাদীস ও কোরআন থেকে। ইমামরা কোনো বিষয়ে ভুল ফতোয়া (সহীহ হাদীস তাঁদের কাছে না পৌছানোর কারনে) দিয়ে থাকলে তা প্রত্যাখ্যান করা এবং সহীহ হাদীসের উপর আমল করা। রাসূল (সাঃ) বলেছেন,আমি তোমাদের কাছে দুটি জিনিস রেখে গেলাম [কুরআন ও সুন্নাহ (সহীহ হাদীছ)]।তা যদি তোমরা আকরিয়ে ধর তবে হেদায়েত পাবে।
(মালেক,হাকেম,সহীহুল,জামিউস,সাগীর,হাদিস নং ২৯৩৪)

আল্লাহ আমাদের সকলকে ইসলাম বোঝার ও সহীহ হাদীসের উপর আমল করার তৌফিক দিন। আমীন!
সুতরাং প্রমাণ হল প্রচলিত মাযহাব মানা ফরজ নয় বরং কুরআন ও সহি সুন্নাহ মানা ফরজ।

No comments:

Post a Comment