Tuesday, June 19, 2018

কখন কি বলা সুন্নাহ?





১. শুভ কাজের শুরুতে :
(ক) খানাপিনা সহ সকল শুভ কাজের শুরুতে বলবেন- بِسْمِ اللهِ ‘বিসমিল্লা-হ’ (আল্লাহর নামে শুরু করছি)। মুত্তাফাক্ব ‘আলাইহ, মুসলিম, মিশকাত হা/৪১৫৯, ৬১; আবুদাঊদ, মিশকাত হা/৪২০২। ]
(খ) শেষে বলবে্ন- اَلْحَمْدُ ِللهِ ‘আলহামদুলিল্লা-হ’ (যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহর জন্য)। বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/৪১৯৯, ৪২০০, ‘খাদ্য সমূহ’ অধ্যায়-২১, পরিচ্ছেদ-১।]

(গ) রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) নির্দেশ দিয়েছেন যে, তোমরা বিসমিল্লাহ বল, যখন তোমরা দরজা-জানালা বন্ধ কর অথবা কোন খাদ্য ও পানীয়ের পাত্রে ঢাকনা দাও। যদি ঢাকনা দেওয়ার কিছু না পাও, তাহ’লে পাত্রের উপর কোন কাঠি বা কাষ্ঠখন্ড রেখে দাও। যার ফলে তা অনিষ্ট হ’তে নিরাপদ থাকবে। [মুত্তাফাক্ব ‘আলাইহ, মিশকাত হা/৪২৯৪-৯৬, ‘খাদ্য সমূহ’ অধ্যায়-২১, অনুচ্ছেদ-৫।]
উল্লেখ্য যে, কোন অন্যায় কাজের শুরুতে ও শেষে ‘বিসমিল্লাহ’ ও ‘আলহামদু লিল্লা-হ’ বলা যাবে না বা আল্লাহর সাহায্য চাওয়া যাবে না। কেননা এগুলি শয়তানের কাজ। আর আল্লাহর অনুগ্রহ কেবল ন্যায় ও সৎ কাজের সাথে থাকে।
২.
(ক) মঙ্গলজনক কিছু দেখলে বা শুনলে বলবেন, اَلْحَمْدُ ِللهِ ‘আলহামদুলিল্লা-হ’ 
(খ) পসন্দনীয় কিছু দেখলে বা শুনলে বলবে্ন,اَلْحَمْدُ ِللهِ الَّذِيْ بِنِعْمَتِهِ تَتِمُّ الصَّالِحَاتُ ‘আলহামদুলিল্লা-হিল্লাযী বিনি‘মাতিহি তাতিম্মুছ ছা-লিহা-ত’ (সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য যার অনুগ্রহে সকল শুভ কাজ সম্পন্ন হয়ে থাকে)।
(গ) অপসন্দনীয় কিছু দেখলে বা শুনলে বলবেন, اَلْحَمْدُ للهِ عَلَى كُلِّ حَالٍ ‘আলহামদুলিল্লা-হি ‘আলা কুল্লে হা-ল’ (সর্বাবস্থায় আল্লাহর জন্যই সকল প্রশংসা)।[ইবনু মাজাহ হা/৩৮০৩, ‘শিষ্টাচার’ অধ্যায়-৩৩, অনুচ্ছেদ-৫৫; হাকেম, সিলসিলা ছহীহাহ হা/২৬৫।]
(ঘ) বিস্ময়কর কিছু দেখলে বা শুনলে বলবে্ন, سُبْحَانَ اللهِ ‘সুবহা-নাল্লা-হ’ (মহাপবিত্র তুমি হে আল্লাহ!)। অথবা বলবে,اَللهُ أَكْبَرُ ‘আল্লা-হু আকবার’ (আল্লাহ সবার চেয়ে বড়)।[বুখারী হা/৬২১৮-১৯, ‘শিষ্টাচার’ অধ্যায়-৭৮, ১২১ অনুচ্ছেদ; ঐ, হা/৪৭৪১, ‘তাফসীর’ অধ্যায় সূরা হজ্জ (২২), অনুচ্ছেদ-১।]
(ঙ) ভয়ের কারণ ঘটলে বলবেন, لآ إِلَهَ إِلاَّ اللهُ ‘লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ’ (আল্লাহ ব্যতীত কোন উপাস্য নেই)।[ বুখারী হা/৩৫৯৮, ‘মর্যাদা সমূহ’ অধ্যায়-৬১, ‘নবুঅতের আলামত সমূহ’ অনুচ্ছেদ-২৫।] রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন যে, سُبْحَانَ اللهِ وَالْحَمْدُ ِللهِ ‘সুবহা-নাল্লা-হি ওয়ালহামদুলিল্লা-হ’ এ দু’টি বাক্য আসমান ও যমীনের মধ্যের ফাঁকা স্থানকে ছওয়াবে পূর্ণ করে দেয়। اَلْحَمْدُ ِِللهِ ‘আলহামদুলিল্লা-হ’ মীযানের পাল্লাকে ছওয়াবে পরিপূর্ণ করে দেয়। [মুসলিম, মিশকাত হা/২৮১, ‘পবিত্রতা’ অধ্যায়-৩, পরিচ্ছেদ-১।]

৩. দুঃখজনক কিছু দেখলে, ঘটলে বা শুনলে বলবে্ন,
(ক) إِنَّا ِللهِ وَإِنَّا إِلَيْهِ رَاجِعُوْنَ ‘ইন্না লিল্লা-হে ওয়া ইন্না ইলাইহে রা-জে’উন’ (আমরা সবাই আল্লাহর জন্য এবং আমরা সবাই তাঁর দিকেই প্রত্যাবর্তনকারী)।

(খ) অতঃপর নিজের ব্যাপারে হ’লে বলবেন, اَللَّهُمَّ أَجِرْنِيْ فِيْ مُصِيْبَتِيْ وَأَخْلِفْ لِيْ خَيْرًا مِّنْهَا-
‘আল্লা-হুম্মা আজিরনী ফী মুছীবাতী ওয়া আখলিফলী খায়রাম মিনহা’ (হে আল্লাহ! এই বিপদে তুমি আমাকে আশ্রয় দাও এবং আমাকে এর উত্তম বিনিময় দান কর)।[ মুসলিম, মিশকাত হা/১৬১৮, ‘জানায়েয’ অধ্যায়-৫, অনুচ্ছেদ-৩।] যদি বিপদ সর্বাত্মক হয়, তাহ’লে ‘নী’ (نِىْ)-এর স্থলে ‘না’ (نَا) বলবেন।
ছালাতুর রাসূল (ছাঃ) 
বিভিন্ন সময়ের দো‘আ সমূহ (الدعوات فى الأوقات) 
ডঃ মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ আল-গালিব

No comments:

Post a Comment