
যে সকল কারণে ফেরেশতা মণ্ডলী মানুষের জন্য দুয়া করে:
১) মানুষকে দীনের জ্ঞান ও কল্যাণকর বিষয় শিক্ষা দান করা:
আবু উমামা রা. হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:
إِنَّ اللَّهَ وَمَلائِكَتَهُ حَتَّى النَّمْلَةَ فِي جُحْرِهَا، وَحَتَّى الْحُوتَ فِي الْبَحْرِ لَيُصَلُّونَ عَلَى مُعَلِّمِ النَّاسِ الْخَيْرَ"
“নিশ্চয় আল্লাহ রহমত বর্ষণ করেন এবং ফেরেশতা মণ্ডলী এমন কি গর্তের পিপিলিকা এবং সাগরের মাছ ঐ ব্যক্তির জন্য রহমত ও মাগফেরাতের দুয়া করে যে মানুষকে কল্যাণকর বিষয় তথা দীনের জ্ঞান শিক্ষা প্রদান করেন।” (তিরমিযী, হাদীস নং ২৬০৯, তিনি বলেন হাদীসটি হাসান গরীব, শাইখ আলবানী বলেন, হাসান, সহীহ তারগীব ওয়াত তারহীব)
২) জামায়াতের ১ম কাতারে সালাত আদায় করা:
বারা ইবনে আযিব রা. হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি:
إِنَّ اللَّهَ وَمَلَائِكَتَهُ يُصَلُّونَ عَلَى الصَّفِّ الْأَوَّلِ
“নিশ্চয় আল্লাহ রহমত বর্ষণ করেন এবং ফেরেশতা মণ্ডলী রহমতের দুয়া করেন প্রথম কাতারে সালাত আদায়কারীদের জন্য।” (সুনান ইবনে মাজাহ, অনুচ্ছেদ, প্রথম কাতারে মর্যাদা, হাদীস নং ৯৮৭, সনদ হাসান, আলবানী, সহীহ তারগীব ওয়াত তারহীব ১/১১৮)
৩) কাতারে ডান দিকে সালাত আদায় করা:
আয়েশা রা. হতে বর্ণিত। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন:
إِنَّ اللَّهَ وَمَلَائِكَتَهُ يُصَلُّونَ عَلَى مَيَامِنِ الصُّفُوفِ
“নিশ্চয় আল্লাহ রহমত বর্ষণ করেন এবং ফেরেশতা মণ্ডলী রহমতের দুয়া করেন ঐ সকল লোকের জন্য যারা কাতারের ডান পাশে সালাত আদায় করে।” (সুনান আবুদাউদ, হাদীস নং ৫৭৮, সনদ হাসান, আলবানী)
৪) কাতারের সাথে মিলে ফাঁকা জায়গা পূরণ করা:
আয়েশা রা. হতে বর্ণিত। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:
إِنَّ الله عَزَّ وَجَلَّ وَمَلائِكَتَهُ يُصَلُّونَ عَلَى الَّذِينَ يَصِلُونَ الصُّفُوفَ وَمَنْ سَدَّ فُرْجَةً رَفَعَهُ اللَّهُ بِهَا دَرَجَةً
“নিশ্চয় আল্লাহ রহমত বর্ষণ করেন এবং ফেরেশতা মণ্ডলী রহমতের দুয়া করেন ঐ সকল লোকের প্রতি যারা কাতারের সাথে মিলিত হয়ে সালাত আদায় করে এবং যে ব্যক্তি কাতারের ফাঁকা জায়গা পূরণ করে আল্লাহ তায়ালা এর কারণে তার মর্যাদা বৃদ্ধি করেন।” (সুনান ইবনে মাজাহ, অনুচ্ছেদ, কাতার সোজা করা, হাদীস নং ৯৮৫, সনদ হাসান-সহীহ, আলবানী, দেখুন: সহীহ তারগীব ওয়াত তারহীব ১/১২১)
৫) নামাযের স্থানে বসে নামাযের জন্য অপেক্ষা করা:
আবু হুরায়রা রা. হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:
لا يَزَالُ أَحَدُكُمْ فِي صَلاةٍ مَا دَامَ يَنتْظُرُ الَّتِي بَعْدَهَا، وَلا تَزَالُ الْمَلائِكَةُ تُصَلِّي عَلَى أَحَدِكُمْ مَا دَامَ فِي مَسْجِدِهِ: اللَّهُمَّ اغْفِرْ لَهُ، اللَّهُمَّ ارْحَمْهُ، مَا لَمْ يُحْدِثْ
“তোমাদের কোন ব্যক্তি যতক্ষণ মসজিদের ভেতরে (অন্য বর্ণনায়, তার নামাজের স্থানে) অবস্থান করতে থাকে ততক্ষণ পর্যন্ত ফেরেশতা মণ্ডলী তার জন্য এ বলে দুয়া করতে থাকে যে, হে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দাও, তার প্রতি রহম কর। তার ওযু না ছুটে যাওয়া পর্যন্ত তারা তার জন্য এভাবে দুয়া করতে থাকে।”
হাজরা মাউতে এক লোক এ হাদীস শুনে আবু হুরায়রা রা. কে জিজ্ঞেস করল, হে আবু হুরায়রা, ওযু ছুটার অর্থ কী? তিনি বললেন, আল্লাহ সত্যের ব্যাপারে লজ্জা করেন না। ওযু ছুটে যাওয়া মানে বায়ু বের হওয়া। (আল মুজামুল কাবীর (আল জুযউল মাফকূদ) তবরানী, হাদীস নং ১৪, শামেলা)
৬) রোযার জন্য সেহরী খাওয়া:
আবু সাঈদ খুদরী রা. হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন:
السَّحُورُ أَكْلُهُ بَرَكَةٌ، فَلَا تَدَعُوهُ، وَلَوْ أَنْ يَجْرَعَ أَحَدُكُمْ جُرْعَةً مِنْ مَاءٍ، فَإِنَّ اللهَ عَزَّ وَجَلَّ وَمَلَائِكَتَهُ يُصَلُّونَ عَلَى الْمُتَسَحِّرِينَ
“সেহরী খাওয়া বরকতের বিষয় অত:এব তোমরা তা পরিত্যাগ করিও না। এমনকি এক ঢোক পানি পান করে হলেও। কারণ আল্লাহ তায়ালা যারা সেহরী খায় তাদের প্রতি রহমত বর্ষণ করেন এবং ফেরেশতা মণ্ডলীও তাদের জন্য দুয়া করেন।” (মুসনাদ আহমদ, হাদীস নং ১১৮৭, শামেলা। হাসান লি গাইরেহী, দেখুন: সহীহ তারগীব ওয়াত তারহীব, ১/২৫৮)
৭) রোগীর সেবা-যত্ন করা: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:
" مَا مِنْ مُسْلِمٍ يَعُودُ مُسْلِمًا إِلَّا ابْتَعَثَ اللهُ لَهُ سَبْعِينَ أَلْفَ مَلَكٍ يُصَلُّونَ عَلَيْهِ أَيَّ سَاعَةٍ مِنَ النَّهَارِ كَانَتْ حَتَّى يُمْسِيَ، وَأَيَّ سَاعَةٍ مِنَ اللَّيْلِ كَانَتْ حَتَّى يُصْبِحَ "
“কোন মুসলিম যদি অন্য কোন মুসলিম রোগীর সেবা-যত্ন করে তাহলে আল্লাহ তায়ালা তার নিকট সত্তুর হাজার ফেরেশতা প্রেরণ করেন যারা তার জন্য দুয়া করতে থাকে। সে ব্যক্তি দিনের যে কোন সময় রোগীর পরিচর্যা করতে যাক না কেন সন্ধা পর্যন্ত ফেরশতা মণ্ডলী তার জন্য দুয়া করে অনুরূপভাবে রাতের যে কোন সময় রোগীর পরিচর্যা করতে যাক না কেন সকাল পর্যন্ত তারা তার জন্য দুয়া করতে থাকে।”
(হাকেম ও ইবনে হিব্বান মারফূ সূত্রে। সহীহ, শাইখ আলবানী। দেখুন: সহীহ তারগীব ওয়াত তারহীব ৩/১৯৭)
৮) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর উপর দুরূদ পেশ করা।
عَبْدِ اللهِ بْنِ عَامِرِ بْنِ رَبِيعَةَ ، عَنْ أَبِيهِ ، قَالَ : سَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ عَلَى الْمِنْبَر: مَا مِنْ عَبْدٍ يُصَلِّي عَلَيَّ صَلاةً إِلا صَلَّتْ عَلَيْهِ الْمَلائِكَةُ ، مَا دَامَ يُصَلِّي عَلَيَّ ، فَلْيُقِلَّ ذَلِكَ أَوْ لِيُكْثِرْ
আব্দুল্লাহ বিন আমের বিন রাবিয়া তার পিতা (আমের) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেছেন, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে মিম্বারে বক্তব্য দিতে গিয়ে দাঁড়িয়ে বলতে শুনেছি, “যে ব্যক্তি আমার প্রতি দুরুদ পেশ করবে ফেরেশতা মণ্ডলী তার জন্য দুয়া করবে। তারা ততক্ষণ পর্যন্ত দুয়া করতে থাকবে যতক্ষণ সে দুরুদ পেশ করতে থাকে। সুতরাং কম হোক বেশী হোক যা ইচ্ছা সে দুরুদ পেশ করতে পারে।” (মুসনাদ তায়ালুসী, হাদীস নং ১২২৫, হাসান, আলবানী। দেখুন: সহীহুল জামে হাদীস নং ৫৭৪৪)
আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে উপরোক্ত নেককাজ সমূহ করার মাধ্যমে ফিরিশতা মণ্ডলীর দোয়ার ভাগিদার হওয়ার তাওফীক দান করুন। আমীন।
গ্রন্থনায়: আব্দুল্লাহিল হাদী
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সউদী আরব।
১) মানুষকে দীনের জ্ঞান ও কল্যাণকর বিষয় শিক্ষা দান করা:
আবু উমামা রা. হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:
إِنَّ اللَّهَ وَمَلائِكَتَهُ حَتَّى النَّمْلَةَ فِي جُحْرِهَا، وَحَتَّى الْحُوتَ فِي الْبَحْرِ لَيُصَلُّونَ عَلَى مُعَلِّمِ النَّاسِ الْخَيْرَ"
“নিশ্চয় আল্লাহ রহমত বর্ষণ করেন এবং ফেরেশতা মণ্ডলী এমন কি গর্তের পিপিলিকা এবং সাগরের মাছ ঐ ব্যক্তির জন্য রহমত ও মাগফেরাতের দুয়া করে যে মানুষকে কল্যাণকর বিষয় তথা দীনের জ্ঞান শিক্ষা প্রদান করেন।” (তিরমিযী, হাদীস নং ২৬০৯, তিনি বলেন হাদীসটি হাসান গরীব, শাইখ আলবানী বলেন, হাসান, সহীহ তারগীব ওয়াত তারহীব)
২) জামায়াতের ১ম কাতারে সালাত আদায় করা:
বারা ইবনে আযিব রা. হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি:
إِنَّ اللَّهَ وَمَلَائِكَتَهُ يُصَلُّونَ عَلَى الصَّفِّ الْأَوَّلِ
“নিশ্চয় আল্লাহ রহমত বর্ষণ করেন এবং ফেরেশতা মণ্ডলী রহমতের দুয়া করেন প্রথম কাতারে সালাত আদায়কারীদের জন্য।” (সুনান ইবনে মাজাহ, অনুচ্ছেদ, প্রথম কাতারে মর্যাদা, হাদীস নং ৯৮৭, সনদ হাসান, আলবানী, সহীহ তারগীব ওয়াত তারহীব ১/১১৮)
৩) কাতারে ডান দিকে সালাত আদায় করা:
আয়েশা রা. হতে বর্ণিত। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন:
إِنَّ اللَّهَ وَمَلَائِكَتَهُ يُصَلُّونَ عَلَى مَيَامِنِ الصُّفُوفِ
“নিশ্চয় আল্লাহ রহমত বর্ষণ করেন এবং ফেরেশতা মণ্ডলী রহমতের দুয়া করেন ঐ সকল লোকের জন্য যারা কাতারের ডান পাশে সালাত আদায় করে।” (সুনান আবুদাউদ, হাদীস নং ৫৭৮, সনদ হাসান, আলবানী)
৪) কাতারের সাথে মিলে ফাঁকা জায়গা পূরণ করা:
আয়েশা রা. হতে বর্ণিত। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:
إِنَّ الله عَزَّ وَجَلَّ وَمَلائِكَتَهُ يُصَلُّونَ عَلَى الَّذِينَ يَصِلُونَ الصُّفُوفَ وَمَنْ سَدَّ فُرْجَةً رَفَعَهُ اللَّهُ بِهَا دَرَجَةً
“নিশ্চয় আল্লাহ রহমত বর্ষণ করেন এবং ফেরেশতা মণ্ডলী রহমতের দুয়া করেন ঐ সকল লোকের প্রতি যারা কাতারের সাথে মিলিত হয়ে সালাত আদায় করে এবং যে ব্যক্তি কাতারের ফাঁকা জায়গা পূরণ করে আল্লাহ তায়ালা এর কারণে তার মর্যাদা বৃদ্ধি করেন।” (সুনান ইবনে মাজাহ, অনুচ্ছেদ, কাতার সোজা করা, হাদীস নং ৯৮৫, সনদ হাসান-সহীহ, আলবানী, দেখুন: সহীহ তারগীব ওয়াত তারহীব ১/১২১)
৫) নামাযের স্থানে বসে নামাযের জন্য অপেক্ষা করা:
আবু হুরায়রা রা. হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:
لا يَزَالُ أَحَدُكُمْ فِي صَلاةٍ مَا دَامَ يَنتْظُرُ الَّتِي بَعْدَهَا، وَلا تَزَالُ الْمَلائِكَةُ تُصَلِّي عَلَى أَحَدِكُمْ مَا دَامَ فِي مَسْجِدِهِ: اللَّهُمَّ اغْفِرْ لَهُ، اللَّهُمَّ ارْحَمْهُ، مَا لَمْ يُحْدِثْ
“তোমাদের কোন ব্যক্তি যতক্ষণ মসজিদের ভেতরে (অন্য বর্ণনায়, তার নামাজের স্থানে) অবস্থান করতে থাকে ততক্ষণ পর্যন্ত ফেরেশতা মণ্ডলী তার জন্য এ বলে দুয়া করতে থাকে যে, হে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দাও, তার প্রতি রহম কর। তার ওযু না ছুটে যাওয়া পর্যন্ত তারা তার জন্য এভাবে দুয়া করতে থাকে।”
হাজরা মাউতে এক লোক এ হাদীস শুনে আবু হুরায়রা রা. কে জিজ্ঞেস করল, হে আবু হুরায়রা, ওযু ছুটার অর্থ কী? তিনি বললেন, আল্লাহ সত্যের ব্যাপারে লজ্জা করেন না। ওযু ছুটে যাওয়া মানে বায়ু বের হওয়া। (আল মুজামুল কাবীর (আল জুযউল মাফকূদ) তবরানী, হাদীস নং ১৪, শামেলা)
৬) রোযার জন্য সেহরী খাওয়া:
আবু সাঈদ খুদরী রা. হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন:
السَّحُورُ أَكْلُهُ بَرَكَةٌ، فَلَا تَدَعُوهُ، وَلَوْ أَنْ يَجْرَعَ أَحَدُكُمْ جُرْعَةً مِنْ مَاءٍ، فَإِنَّ اللهَ عَزَّ وَجَلَّ وَمَلَائِكَتَهُ يُصَلُّونَ عَلَى الْمُتَسَحِّرِينَ
“সেহরী খাওয়া বরকতের বিষয় অত:এব তোমরা তা পরিত্যাগ করিও না। এমনকি এক ঢোক পানি পান করে হলেও। কারণ আল্লাহ তায়ালা যারা সেহরী খায় তাদের প্রতি রহমত বর্ষণ করেন এবং ফেরেশতা মণ্ডলীও তাদের জন্য দুয়া করেন।” (মুসনাদ আহমদ, হাদীস নং ১১৮৭, শামেলা। হাসান লি গাইরেহী, দেখুন: সহীহ তারগীব ওয়াত তারহীব, ১/২৫৮)
৭) রোগীর সেবা-যত্ন করা: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:
" مَا مِنْ مُسْلِمٍ يَعُودُ مُسْلِمًا إِلَّا ابْتَعَثَ اللهُ لَهُ سَبْعِينَ أَلْفَ مَلَكٍ يُصَلُّونَ عَلَيْهِ أَيَّ سَاعَةٍ مِنَ النَّهَارِ كَانَتْ حَتَّى يُمْسِيَ، وَأَيَّ سَاعَةٍ مِنَ اللَّيْلِ كَانَتْ حَتَّى يُصْبِحَ "
“কোন মুসলিম যদি অন্য কোন মুসলিম রোগীর সেবা-যত্ন করে তাহলে আল্লাহ তায়ালা তার নিকট সত্তুর হাজার ফেরেশতা প্রেরণ করেন যারা তার জন্য দুয়া করতে থাকে। সে ব্যক্তি দিনের যে কোন সময় রোগীর পরিচর্যা করতে যাক না কেন সন্ধা পর্যন্ত ফেরশতা মণ্ডলী তার জন্য দুয়া করে অনুরূপভাবে রাতের যে কোন সময় রোগীর পরিচর্যা করতে যাক না কেন সকাল পর্যন্ত তারা তার জন্য দুয়া করতে থাকে।”
(হাকেম ও ইবনে হিব্বান মারফূ সূত্রে। সহীহ, শাইখ আলবানী। দেখুন: সহীহ তারগীব ওয়াত তারহীব ৩/১৯৭)
৮) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর উপর দুরূদ পেশ করা।
عَبْدِ اللهِ بْنِ عَامِرِ بْنِ رَبِيعَةَ ، عَنْ أَبِيهِ ، قَالَ : سَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ عَلَى الْمِنْبَر: مَا مِنْ عَبْدٍ يُصَلِّي عَلَيَّ صَلاةً إِلا صَلَّتْ عَلَيْهِ الْمَلائِكَةُ ، مَا دَامَ يُصَلِّي عَلَيَّ ، فَلْيُقِلَّ ذَلِكَ أَوْ لِيُكْثِرْ
আব্দুল্লাহ বিন আমের বিন রাবিয়া তার পিতা (আমের) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেছেন, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে মিম্বারে বক্তব্য দিতে গিয়ে দাঁড়িয়ে বলতে শুনেছি, “যে ব্যক্তি আমার প্রতি দুরুদ পেশ করবে ফেরেশতা মণ্ডলী তার জন্য দুয়া করবে। তারা ততক্ষণ পর্যন্ত দুয়া করতে থাকবে যতক্ষণ সে দুরুদ পেশ করতে থাকে। সুতরাং কম হোক বেশী হোক যা ইচ্ছা সে দুরুদ পেশ করতে পারে।” (মুসনাদ তায়ালুসী, হাদীস নং ১২২৫, হাসান, আলবানী। দেখুন: সহীহুল জামে হাদীস নং ৫৭৪৪)
আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে উপরোক্ত নেককাজ সমূহ করার মাধ্যমে ফিরিশতা মণ্ডলীর দোয়ার ভাগিদার হওয়ার তাওফীক দান করুন। আমীন।
গ্রন্থনায়: আব্দুল্লাহিল হাদী
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সউদী আরব।
No comments:
Post a Comment