
সমাজে নারী ও পুরুষ সকলের অধিকার ও দায়িত্ব রয়েছে। তাদের অধিকার ও দায়িত্ব-কর্তব্য সংরক্ষণ ও নিশ্চিত করতে ইসলাম দিয়েছে নিয়মনীতি ও আইন। আইনের ঊর্ধ্বে থেকে কারো কিছু করার অধিকার ইসলামে নেই। যারা ইসলামী আইনকে অমান্য করে চলবে তারা ইসলাম থেকে নিজেকে বাইরে নিক্ষেপ করবে। ইসলামের মধ্যে থেকে, ইসলামী বিধিবিধান মেনে একজন নারী অনেক কিছুই করতে পারে। তার জীবনের সব অধিকার সে ভোগ করতে পারে এবং ইসলামের অধিকারপ্রাপ্ত হয়ে কাজ করলে সব ক্ষেত্রে নারীরাও মর্যাদাবান হয়ে সমাজ ও জাতিকে অনেক কিছু দিতে পারে। অধিকার পেতে হলে অধিকার সম্পর্কে জ্ঞানার্জন করা দরকার। এ জন্য শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। নারী অধিকার ও দায়িত্ব-কর্তব্য সম্পর্কে জ্ঞান না থাকেল নারী কিভাবে তার অধিকার প্রতিষ্ঠা করবে! এ জন্য শিক্ষা অর্জন করা পুরুষের মতো প্রত্যেক নারীর জন্য অপরিহার্য। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেন, ‘মূর্খরা কি জ্ঞানীদের সমক হতে পারে?’
যাদের ইলম-জ্ঞান নেই তারা মূর্খ, আর যাদের জ্ঞান আছে তারাই আলেম-জ্ঞানী। এ দুই শ্রেণীর মানুষের মধ্যে ব্যাপক পার্থক্য রয়েছে। জ্ঞানী ব্যক্তি তার কর্তব্য ও অধিকার সম্পর্কে খবর রাখে, অন্যায় কর্ম করলে তার হৃদয়ে প্রশ্নের সৃষ্টি হয়। মূর্খ ব্যক্তি অজ্ঞতার কারণে তার দায়িত্ব-কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন হতে পারে না। জাতির উন্নতি, অগ্রগতি, অবনতি নির্ভর করে তাদের সন্তান-সন্ততির শিক্ষার ওপর। আর ছেলেমেয়েদের শিক্ষা অধিকতর নির্ভর করে তাদের মায়েদের ওপর। মা যদি শিক্ষা,পরহেজগার, জ্ঞানী,চরিত্রবতী,বুদ্ধিমতী ও সচেতন হন;তাহলে তাদের সন্তানও ওইসব গুণে গুণী হতে পারবে। এ জন্য জাতির উন্নতি ও অগ্রগতির ক্ষেত্রে নারীসমাজের শিক্ষার বিষয়টি সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ। পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে,‘যারা চোখে দেখে আর যারা দেখে না তারা কখনো সমান নয়।’
যে চক্ষু জ্ঞানহীন মূর্খ,পড়তে পারে না; সে চক্ষু নিয়ে বিশ্ব চরাচরে বসবাসকারী ব্যক্তি সমাজে বোঝাস্বরূপ। সে যেন চোখ থাকতেও অন্ধ। অন্ধ-মূর্খ মানুষ অজ্ঞানতার অতল সাগরে নিজেকে ভাসিয়ে দিয়ে থাকে। এ জন্য চুকে প্রস্ফুটিত করতে হবে। শিক্ষিত মেয়ে যে ঘরে প্রবেশ করবে, সে ঘর আলোকিত হবে এবং সে ঘরে যে সন্তান জন্ম নেবে, সেও শিক্ষিত হবে। মায়ের ছোঁয়া পেয়ে তার নৈতিক চরিত্রের উৎকর্ষ সাধন হবে। ধর্মভীরু ও শিক্ষা মা-ই পারে সন্তানকে মিথ্যাবাদিতা, বেহায়াপনা, অরাজকতার ছোবল থেকে আগলে রাখতে; পারে অবৈধ অর্থ উপার্জন, অন্যের অধিকার হরণ ইত্যাদি থেকে বিরত রাখতে। মানুষ জন্ম নিয়েই সব কিছু জানে না ও করতে শেখে না। পিতামাতা ও সমাজ-পারিপার্শ্বিকতা থেকে ক্রমান্বয়ে মানুষ আপন পরিমণ্ডল সম্পর্কে জানতে ও বুঝতে শেখে। পিতামাতা যদি ধর্মচিন্তাশীল ও খোদাভীরু হয় তবে তাদের সাহচর্যে সন্তানেরাও উন্নত চিন্তা ও চেতনার অধিকারী হয়ে থাকে। সমাজ-সামাজিকতা যদি ধর্মীয় অনুভূতিশীল ও সৎকর্মশীল মানুষের দ্বারা পরিচালিত হয়, সে সমাজে দায়িত্বশীল ও কর্তব্যপরায়ণ মানুষের আধিক্য হয়ে থাকে। জ্ঞানী মানুষের সংখ্যা বেড়েই চলে। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেন, ‘আমি মানুষকে শিক্ষা দিয়েছি, যা তারা অজ্ঞাত ছিল।’
No comments:
Post a Comment