Thursday, May 14, 2015

আপনি যদি ঈমানদার হতে চান? তাহলে অবস্যই .....




بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله والصلاة والسلام على رسول الله وعلى آله وصحبه أجمعين ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين.
আপনি যদি ঈমানদার হতে চান? তাহলে অবস্যই ঈমানের ছয়টি বিষয়ের জ্ঞান হাসিল করতেই হবে ও মানতে হবে। এই ৬টির মধ্যে একটিও যদি কেহ অবিশ্বাস করে! বা সন্দেহ করে! তাহলে সে মু'মিন নয়, বরং সে বেঈমান ।
* ঈমান: অর্থ: বিশ্বাস *
(1- ঈমান-বিশ্বাস করতে হবে,আল্লাহকে।
এক আল্লাহকে বিশ্বাস করাকে "তাওহীদ" বলা হয়। 'তাওহীদ তিন প্রকার'
(1- তাওহীদ রবুবিয়াত
(2- তাওহীদ ঈবাদাত
(3- তাওহীদ সিফাত
(1)"তাওহীদ রবুবিয়াত" অর্থাৎ সৃষ্টি কর্তা ও পালন কর্তা। যাকিছু আমরা দেখতেপাই আর যাকিছু আমরা দেখতে পাইনা সবকিছুকে সৃষ্টি করেছেন একমাত্র আল্লাহপাক, এরপর সবাইকে লালন পালন করেন একমাত্র আল্লাহপাক । লালন পালন অর্থাৎ প্রত্তেকের যাবতীয় প্রয়োজন মিটান একমাত্র আল্লাহপাক । যেমন: আমরা যাকিছু খাই ও পান করি ও পরিধান করি ও oxygen গ্রহণ করি সবকিছুকে সৃষ্টি কর্তা এবং আমাদেরকে দেনেওয়ালা একমাত্র আল্লাহ । সকল প্রণির যাবতীয় প্রয়োজন বা আমরা যা কিছু পাই, সব আল্লাহপাকের পক্ষ থেকেই পাই । একথাগুলিকে বিশ্বাস করাকে "তাওহীদ রবুবিয়াত" বলাহয় । এবং ঈমানদার হওয়ার জন্য আপনার যা কিছু প্রয়োজন আল্লাহপাকের কাছে চাইবেন, অর্থাৎ তৌফীক চাইবেন।
নবী(স:) বলেছেন: "তোমার যা কিছু প্রয়োজন আল্লাহপাকের কাছে চাও" অর্থাৎ আপনার যদি জুতা ছিড়েযায় তো সেটি পাওয়ার জন্যে আল্লাহপাকের কাছে তৌফীক চান! যদিও আপনার পকেটে টাকা থাকে, আপনি! হয়তো প্রশ্ন করবেন! কাফেরেরা তো তৌফীক চায়না তো তারা, না চেয়েও তো পাচ্ছে! উত্তর: পার্থক্য হল এই যে! আল্লাহপাকের কাছে চাওয়া ঈবাদাত, নবী(স:) বলেছেন:
الدعاء هوالعبادة
"দুআ আসল ঈবাদাত" সুতরাং আমরা ঈমানদার মুসলমান আল্লাহপাকের কাছে চেয়ে জিনীষ ও পেলাম এবং ঈবাদাতের নেকিও পেলাম। আর যদিও সে জিনীষ না পাই তো চাওয়ার জন্যে ঈবাদাতের নেকি তো পেয়েই গেলাম।
(2)"তাওহীদ ঈবাদাত" অর্থাৎ ঈবাদাত হবে একমাত্র আল্লাহর জন্যে, আল্লাহ ব্যতিত আর কেউ ঈবাদাত পাওয়ার যোগ্য নেই। দুআ নামাঝ রোজা হজ্জ ঝাকাত মান্নত সব কিছু আল্লাহর জন্যে করতে হবে। ঈবাদাত অর্থাৎ যেমন: রুকু সিজদাহ হবে একমাত্র আল্লাহর জন্যে, মাথা নত করতে হবে একমাত্র আল্লাহর সামনে নামাঝের মাধ্যমে, অার কারো সামনে মাথা নত করলে! তাওহীদ থাকবেনা, শির্ক (শেরেক) হয়েযাবে । ভাল বাসা হবে সবচেয়ে বেশি আল্লাহর জন্যে, আল্লাহর চেয়ে বেশি কাউকে ভাল বাসলে বা মুহাব্বত করলে! শির্ক হয়ে যাবে । ভাল বাসার প্রমাণ দিতে হবে বাদ্ধতার মাধ্যমে, আল্লাহপাক যা করতে হুকুম করেছেন তা করতে হবে আর যা নিষেধ করেছেন তাথেকে বিরত থাকতে হবে ।
এবং সবচেয়ে বেশি ভয় করতে হবে একমাত্র আল্লাহকে, কারণ আল্লাহর চেয়ে বেশি শক্তিশালি আর কেউ নেই, সুতরাং আল্লাহপাকের চেয়ে আর কাউকে বেশি ভয় করলে! শেরেক হয়েযাবে।
প্রশ্ন: আল্লাহকে কিভাবে ভয় করবো? উত্তর: প্রাণে ভয় রাখবেন যে, আল্লাহ যেন, অামার কোনো কথা এবং কাজের কারণে আমার প্রতি নারাজ না হন! আল্লাহপাক আমাকে যা করতে হুকুম করেছেন তা যদি আমি, না করি! নারাজ হয়েযাবেন এবং যা নিষেধ করেছেন তা করলে! নারাজ হয়ে যাবেন, এই ভয় প্রাণে রাখতে হবে, এই ভয় যার প্রাণে নাই তার কাছে ঈমান নাই তাওহীদ নাই ।
(3)"তাওহীদ সিফাত" সিফাত অর্থাৎ "গুণ" বৈশিষ্ট" কিছু গুণ আছে সেগুলি মাত্র নিজের কাছেই রেখেছেন, কোনো মাখলূক-সৃষ্টি জগতের মধ্যে কাউকে
দেননাই, যেমন: সৃষ্টি করা, আসমান সুর্য চন্দ্র পৃথিবী মানুষ ইত্যাদী সৃষ্টি করা, এবং লালন পালন করা, এক মাত্র আল্লাহপাক নিজের হাতেই রেখেছেন। তদ্রুপ সুর্য চন্দ্র পৃথিবী নক্ষত্র ইত্যাদী গুলিকে চালানো, রাত্র ও দিন বানানো, হাওয়া চালানো, মেঘ তৈরি করা, বৃষ্টি বর্ষন করা, ইত্যাদী আল্লাহপাকের হুকুমেই হয় । গায়েবের খবর একমাত্র আল্লাহপাক যানেন আরকেহ যানেনা, আল্লাহপাক কুরআন কারীমে,অনেক আয়াতে বলেদিয়েছেন: যেমন; সূরাহ: আলি ঈমরান:আয়াত 44+179 / সূরাহ: আল-আনঅাম: আয়াত 50+59 / সূরাহ: আল-আ'রাফ: আয়াত 188 / সূরাহ:হূদ : আয়াত 31+49 / সূরাহ: আন্নামাল: আয়াত 65 / সূরাহ: সাবা:আয়াত 14 / সূরাহ:আল-জিন: আয়াত 26/
গায়েবের খবর অর্থাৎ ভবিষ্যৎ বা আগামিতে কি হবে? এক মাত্র আল্লাহপাক যানেন, আর কেহ যানেনা। এ কথাগুলি মাত্র আল্লাহপাকের জন্যেই বিশ্বাস করতে হবে। এই তাওহীদ সিফাতকে বিশ্বাস করা ঈমানদার হওয়ার জন্যে দাবি। যদি কেহ মনে করে! অমুক গায়েবের খবর বলতে পারে! তাহলে তার ঈমান চলে যাবে, বে ঈমান হয়েযাবে।
আবার কিছু গুণ আছে, আল্লাহপাক নিজের কাছে রেখেছেন ও মখলূক বা সৃষ্টি জগতকেও দিয়েছেন, যেমন: দয়া করা, ভাল বাসা-মুহাব্বত করা, রাজি-খুশি হওয়া, পছন্দ করা, অপছন্দ করা, ঘৃণা করা, রাগ করা-নারাজ হওয়া। এ সিফাত গুলি আললাহপাক নিজের কাছে রেখেছেন ও বান্দাদেরকেও দিয়েছেন, তবে কেননা আল্লাহ মহান, এই জন্যে আল্লাহপাকের কাছে গুণের Power টাও খূব বেশি, যেমন: দয়া করা, মুহাব্বত করা, ভাল বাসা । নবীজী(স:)বলেছেন:
আল্লাহপাক মুহাব্বতকে এক শত ভাগ করেছেন, তা থেকে এক ভাগ, সমস্ত জগতকে দিয়েছেন, আর ৯৯ ভাগ মুহাব্বত নিজের কাছে রেখেছেন ।
(2- ঈমান-বিশ্বাস করতে হবে, আল্লাহপাকের সৃষ্টি ফেরেস্তা আছেন এবং আমাদের যাবতিয় কথা এবংকাজ সব রেকর্ড করছেন এবং আরো অনেক কাজে আল্লাহপাক তাদেরকে নিয়জিত করে রেখেছেন, বিশ্বাস করা ।
(3- ঈমান-বিশ্বাস করতে হবে কিতাব, অর্থাৎ আল্লাহপাকের পক্ষ থেকে বই (পথ প্রদর্শন, গ্রন্থ) (Guide book)কুরআন এবংএর পুর্বের গ্রন্থগুলি আল্লাহপাকের বানী, বিশ্বাস করা।এবং আল্লাহপাকের পক্ষ থেকে চুড়ান্ত ও শেষ বই কুরআন কারীমের মদ্ধে যাকিছু লেখা আছে সব আমাদের রব-প্রভু আল্লাহপাকের কথা, আমাদের হিদায়েত-পথপ্রদর্শন বা জান্নাতের পথে চলার জন্যে অবতির্ণ করেছেন বিশ্বাস করা, ঈমানদার হওয়ার দাবি।
(4- ঈমান-বিশ্বাস করতে হবে রসূলদেরকে। রসূল অর্থাৎ আল্লাহপাকের বই-গ্রন্থকে মানুষকে বুঝানোর জন্যে আল্লাহপাক, মানুষের মদ্ধে একজন মানুষকে শিক্ষক উস্তায Master Teacher নির্ধারিত করেন, তাঁকে রসূল বলাহয় । রসূল শব্দটি এসেছে রিসালাহ থেকে, রিসালাহ অর্থ চিঠি । অর্থাৎ আল্লাহপাকের পক্ষ থেকে বার্তা পেয়ে উম্মতীকে পৌছানে ওয়ালাকে রসূল বলা হয়। এবং নবী শব্দটি এসেছে নাবা থেকে, নাবা অর্থ খবর। অর্থাৎ আল্লাহপাকের পক্ষ থেকে খবর পেয়ে উম্মতীকে পৌছানে ওয়ালাকে নবী বলা হয়।
আল্লাহপাকের পক্ষথেকে শেষ বই কুরআন কারীম এবং শেষ রসূল বা নবী মুহাম্মাদ (সল্লাল্লাহু আলাইহি অ সাল্লাম) সুতরাং প্রত্তেক মানুষের উপর ফরজ অবস্যই আল্লাহপাকের কথা মেনে চলা! সেই ভাবে যেভাবে আল্লাহর নবী-রসূল(স:) শিখিয়েছেন, এর বিনিময় মানুষ জান্নাত পাবে। আল্লাহপাকের ঈবাদাতের জন্যে নবী(স:) তরীকাহ সহীহ দলীলের সাথে পাওয়ার পর, যদি কেহ আর কারো তরীকায় ঈবাদাত করে! তাহলে তার ঈবাদাত নষ্ট হয়েযাবে। (দেখুন! তাফসীর সূরাহ মুহাম্মাদ আয়াত 33) এবংসে শেরেক করলো, একে বলাহয় "শির্ক ফির্রিসালাহ"
সুতরাং আমাদের শেষ নবী-ও রসূল মুহাম্মাদ সল্লাল্লাহু আলাইহি অ সাল্লামকে বিশ্বাস করা, ও তাঁনার সমস্ত একথাগুলি আল্লাহপাকের পক্ষ থেকে বিশ্বাস করা, ও তাঁনার তরীকায়-নিয়মে আল্লাহর ঈবাদাত করা, ঈমানদার হওয়ার দাবি ।
(5- ঈমান-বিশ্বাস করতে হবে, শেষ দিনকে । অর্থাৎ আমরা যেভাবে দেখি, দিন হয় আবার রাত্র হয়, কিন্তু এমন এক শেষ দিন আসবে সেদিন আর শেষ হবেনা আর রাত্র আসবেনা সেই শেষ দিবসকে আখিরি দিন, বা শেষ দিন, অথবা কিয়ামতের দিন, বলা হয়। ঐ দিন আল্লাহপাক, সকল মৃতুকে জিবিত করবেন এবং হিসাব নিবেন, প্রশ্ন করবেন: তোমাকে দুনিয়া পাঠিয়েছিলাম সেখানে কি!কি! করেছ ? তাই ঐ দিনকে "বিচারের দিন" বলাহয় ।
সুতরাং যার কাছে ভাল কাজ বেশি পাওয়া যাবে, তাকে আল্লাহপাক, জান্নাতে রাখবেন, সেখানে আপনার মন যা চাইবে তাই পাইবেন, যাকিছু খাইবেন হযম হয়ে, গায়েব হয়ে, পেট খালী হয়ে যাবে, আবার খাইবেন, পেটে পেশাব পাইখানা তৈরি হবেনা, কোনো প্রকার দুর্গন্ধ সেখানে পাবেননা, সর্ব সময় ফূল ও ফলের সুঘ্রাণ পেতে থাকবেন, কোনো প্রকার দুক্ষ কষ্ট শীত কাল গরম কাল হবেনা, সর্বসময় Medium মৌসম থাকবে । আপনি কি! ঐ জান্নাতে যেতে চান ? তাহলে আপনাকে, আল্লাহপাকের কথা মেনে চলতে হবে। আর যদি অবাদ্ধ হন! তাহলে কঠীন শাস্তির জাহান্নামের আগুণ ও আরো অনেক প্রকার শাস্তি জাহান্নামে প্রস্তুত আছে। আপনি যদি ঐ ভয়ঙ্কর জাহান্নাম থেকে বাচতে চান! তাহলে আল্লাহপাকের কথা মত, জীবনকে চালাতে হবে।ঐ বিচারের দিবস ও জান্নাত জাহান্নমকে বিশ্বাস করা, ঈমানদার হওয়ার দাবি ।
(6- ঈমান-বিশ্বাস করতে হবে, তকদীরকে। অর্থাৎ ভাল ও মন্দ অবস্থা আপনার এই জীবনে যাকিছু আসবে আপনাকে পরিক্ষা করার জন্যে আল্লাহ পাক, লিখেদিয়েছেন বা নির্ধারিত করে দিয়েছেন। কারণ! আল্লাহপাক, দেখতেচান যে, আপনি! ভাল অবস্থায় কতটা, আল্লাহপাকের শুকরিয়া আদায় করেন! আর মন্দ অবস্থায় কতটা সবর করেন!
আল্লাহপাক কুরআন কারীমে সূরাহ: আল-মুল্ক,আয়াত নম্বর 2 এবং সূরাহ: আল-আম্বিয়া আয়াত নম্বর 35 বলেদিয়েছেন, আপনার জীবনের প্রতিটি মুহুর্ত আপনার জন্যে পরিক্ষা। সুতরাং আল্লাহপাক আপনাকে ভাল-নেক কাজ করার সুযোগ দিয়ে পরিক্ষা করেন, যে আপনি! সুযোগ পেয়ে নেক কাজ করেন কি! না। আবার কখনো খারাব-মন্দ গুনাহের কাজ করার সুযোগ দিয়ে পরিক্ষা করেন, যে আপনি! ঐ খারাব বা গুনাহের কাজ থেকে দূরে থাকেন কি!না।
(সুতরাং জান্নাত পেতে হলে! কিছু করণীয় আছে আবার কিছু বর্জণীয় আছে। আল্লাহপাক আপনাকে সুস্থ রেখে পরিক্ষা করেন, যে আপনি কতটা শুকরিয়া আদায় করেন! আবার কখনো অসুস্থ করে পরিক্ষা করেন, যে আপনি কিভাবে সবর করেন! কখনো ভাল ভাল খাদ্য দিয়ে পরিক্ষা করেন, যে আপনি! কতটা শুকরিয়া আদায় করেন! আবার কখনো না খাওয়া ক্ষুধা অবস্থা রেখে পরিক্ষা করেন, যে আপনি কিভাবে সবর করেন! ইত্যাদী, এই ভাল ও মন্দ অবস্থা আমাদের জন্যে আল্লাহপাকের পক্ষ থেকে পরিক্ষা, একে "তকদীর" বলাহয় । এই তকদীরকে বিশ্বাস করা, ঈমানদার হওয়ার দাবি ।
এই ছয়টি বিষয়কে "অারকানুল-ঈমান" বলাহয় ।
...এরপর, ধর্ম কাকে বলাহয়?
ইসলাম ও মুসলমান কাকে বলাহয়?
লিখে পাঠাবো (ইন শাঅা অাল্লাহ)
وصلى الله على نبينا رسولنا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين وعلى من تبعهم بإحسان إلى يوم الدين.

No comments:

Post a Comment