
সিয়ামের আদবঃ
=============
আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,
«الصيام جنة، فإذا كان أحدكم صائما فلا يرفث ولا يجهل، فإن امرؤ شاتمه فليقل : إني صائم، إني صائم». رواه الشيخان
-সিয়াম ঢাল, সুতরাং তোমাদের কেউ সিয়াম অবস্থায় হলে সে যেন অশ্লীলতা ও মুর্খতা পরিহার করে, যদি কেউ তাকে গালি দেয়, সে যেন বলে: আমি রোযাদার, আমি রোযাদার। [ বুখারি হা/১৭৯৫; মুসলিম হা/ ১১৫১, উল্লেখিত শব্দ মুয়াত্তা মালেক থেকে নেয়া ১/৩১০]
=============
আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,
«الصيام جنة، فإذا كان أحدكم صائما فلا يرفث ولا يجهل، فإن امرؤ شاتمه فليقل : إني صائم، إني صائم». رواه الشيخان
-সিয়াম ঢাল, সুতরাং তোমাদের কেউ সিয়াম অবস্থায় হলে সে যেন অশ্লীলতা ও মুর্খতা পরিহার করে, যদি কেউ তাকে গালি দেয়, সে যেন বলে: আমি রোযাদার, আমি রোযাদার। [ বুখারি হা/১৭৯৫; মুসলিম হা/ ১১৫১, উল্লেখিত শব্দ মুয়াত্তা মালেক থেকে নেয়া ১/৩১০]
অপর বর্ণনায় এসেছে:
«وإذا كان يوم صوم أحدكم فلا يرفث ولا يصخب، فإن سابه أحد أو قاتله فليقل إني امرؤ صائم».
-তোমাদের কারো যখন সওমের দিন হয়, সে যেন অশ্লীলতা ও শোরগোল পরিহার করে, কেউ যদি তাকে গালি দেয় বা তার সাথে মারামারি করে, সে যেন বলে: আমি রোযাদার। [বুখারি হা/১৮০৫;, মুসলিম হা/১১৫১]
«وإذا كان يوم صوم أحدكم فلا يرفث ولا يصخب، فإن سابه أحد أو قاتله فليقل إني امرؤ صائم».
-তোমাদের কারো যখন সওমের দিন হয়, সে যেন অশ্লীলতা ও শোরগোল পরিহার করে, কেউ যদি তাকে গালি দেয় বা তার সাথে মারামারি করে, সে যেন বলে: আমি রোযাদার। [বুখারি হা/১৮০৫;, মুসলিম হা/১১৫১]
অপর বর্ণনায় এসেছে:
«لا تساب وأنت صائم، وإن سابك أحد فقل : إني صائم، وإن كنت قائما فاجلس».
-সওম অবস্থায় তুমি গালি দেবে না, যদি কেউ তোমাকে গালি দেয় তাহলে তাকে বল: আমি রোযাদার। আর যদি তুমি দণ্ডায়মান থাক, বসে যাও। [নাসাঈ ফিল কুবরা হা/৩২৫৯; তায়ালিসি ২৩৬৭; (ইব্ন খুযাইমাহ হ/১৯৯৪ ও ইব্ন হিব্বান হা/৩৪৮৩ হাদিসটি সহিহ বলেছেন)]
«لا تساب وأنت صائم، وإن سابك أحد فقل : إني صائم، وإن كنت قائما فاجلس».
-সওম অবস্থায় তুমি গালি দেবে না, যদি কেউ তোমাকে গালি দেয় তাহলে তাকে বল: আমি রোযাদার। আর যদি তুমি দণ্ডায়মান থাক, বসে যাও। [নাসাঈ ফিল কুবরা হা/৩২৫৯; তায়ালিসি ২৩৬৭; (ইব্ন খুযাইমাহ হ/১৯৯৪ ও ইব্ন হিব্বান হা/৩৪৮৩ হাদিসটি সহিহ বলেছেন)]
আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,
«مَنْ لَم يَدَعْ قَوْلَ الزُّورِ وَالعَمَلَ بِهِ وَالجَهْلَ فَلَيسَ لله حَاجَةٌ أَنْ يَدَعَ طَعَامَهُ وشَرَابَهُ» رواه البخاري.
-যে মিথ্যা কথা ও তদনুরূপ কাজ এবং মূর্খতা পরিত্যাগ করল না, তার পানাহার বর্জনে আল্লাহর কোন প্রয়োজন নেই। [বুখারি হা/৫৭১০; আবু দাউদ হা/৩২৬২; নাসাঈ ফিল কুবরা হা/৩২৪৫-৩২৪৮; তিরমিযি হা/৭০৭]
«مَنْ لَم يَدَعْ قَوْلَ الزُّورِ وَالعَمَلَ بِهِ وَالجَهْلَ فَلَيسَ لله حَاجَةٌ أَنْ يَدَعَ طَعَامَهُ وشَرَابَهُ» رواه البخاري.
-যে মিথ্যা কথা ও তদনুরূপ কাজ এবং মূর্খতা পরিত্যাগ করল না, তার পানাহার বর্জনে আল্লাহর কোন প্রয়োজন নেই। [বুখারি হা/৫৭১০; আবু দাউদ হা/৩২৬২; নাসাঈ ফিল কুবরা হা/৩২৪৫-৩২৪৮; তিরমিযি হা/৭০৭]
আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) নবী ﷺ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন,
«الصِّيامُ جُنَّةٌ مِنَ النَّار، فَمَنْ أَصْبَحَ صَائِماً فلا يَجْهَلْ يومَئِذٍ، وإِنْ امْرُؤٌ جَهِلَ عَلَيهِ فلا يَشْتُمْهُ، ولا يَسُبُّه، وَلْيَقُلْ: إِني صائِم...» رواه النسائي .
-সিয়াম জাহান্নামের ঢাল, যে সওম অবস্থায় ভোর করল, সে যেন সেদিন মুর্খতার আচরণ না করে। কেউ যদি তার সাথে দুর্ব্যবহার করে, সে তাকে তিরষ্কার করবে না, গালি দেবে না, বরং বলবে: আমি রোযাদার। [নাসাঈ ৪/১৬৭; তাবরানি ফিল আওসাত হা/৪১৭৯, আলবানি সহিহ নাসায়িতে হাদিসটি সহিহ বলেছেন]
«الصِّيامُ جُنَّةٌ مِنَ النَّار، فَمَنْ أَصْبَحَ صَائِماً فلا يَجْهَلْ يومَئِذٍ، وإِنْ امْرُؤٌ جَهِلَ عَلَيهِ فلا يَشْتُمْهُ، ولا يَسُبُّه، وَلْيَقُلْ: إِني صائِم...» رواه النسائي .
-সিয়াম জাহান্নামের ঢাল, যে সওম অবস্থায় ভোর করল, সে যেন সেদিন মুর্খতার আচরণ না করে। কেউ যদি তার সাথে দুর্ব্যবহার করে, সে তাকে তিরষ্কার করবে না, গালি দেবে না, বরং বলবে: আমি রোযাদার। [নাসাঈ ৪/১৬৭; তাবরানি ফিল আওসাত হা/৪১৭৯, আলবানি সহিহ নাসায়িতে হাদিসটি সহিহ বলেছেন]
আবু হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত:
«أَنَّهُ كَانَ وأَصْحَابُهُ إِذَا صَامُوا قَعَدُوا في المَسْجِدِ، وقَالَوا: نُطَهِّرُ صِيَامَنَا».
-তিনি ও তার সাথীগণ যখন সিয়াম পালন করতেন মসজিদে বসে থাকতেন, আর বলতেন: আমাদের সওম পবিত্র করছি। [আহমদ ফিয যুহদ ১৭৮, আবু নুয়াইম ফিল হিলইয়াহ ১/৩৮২ ]
«أَنَّهُ كَانَ وأَصْحَابُهُ إِذَا صَامُوا قَعَدُوا في المَسْجِدِ، وقَالَوا: نُطَهِّرُ صِيَامَنَا».
-তিনি ও তার সাথীগণ যখন সিয়াম পালন করতেন মসজিদে বসে থাকতেন, আর বলতেন: আমাদের সওম পবিত্র করছি। [আহমদ ফিয যুহদ ১৭৮, আবু নুয়াইম ফিল হিলইয়াহ ১/৩৮২ ]
■শিক্ষা ও মাসায়েলঃ
=================
✔১). সিয়াম জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেয়, কারণ সে প্রবৃত্তি থেকে বিরত রাখে, আর জাহান্নাম প্রবৃত্তি দ্বারা আবৃত।
=================
✔১). সিয়াম জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেয়, কারণ সে প্রবৃত্তি থেকে বিরত রাখে, আর জাহান্নাম প্রবৃত্তি দ্বারা আবৃত।
✔২). রোযাদারের জন্য রাফাস হারাম, রাফাস হচ্ছে অশ্লীল কথা, কখনো সহবাস ও তার আনুষঙ্গিক কর্মকাণ্ডে ব্যবহার হয়।[44] এসব থেকে রোযাদার বিরত থাকবে, তবে যে নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখতে সক্ষম, তার জন্য চুম্বন ও স্ত্রীর সাথে মেলামেশা বৈধ।
✔৩). রোযাদারের জন্য মুর্খতাপূর্ণ আচরণ হারাম, যেমন চিৎকার ও শোরগোল করা, অযথা ঝগড়ায় লিপ্ত হওয়া ইত্যাদি।
✔৪). রোযাদার যদি করো গালমন্দ, চিৎকার ও ঝগড়ার সম্মুখীন হয়, তাহলে তার করণীয়:
→ গালমন্দকারীকে অনুরূপ প্রতি উত্তর করবে না, বরং ধৈর্য ও সহনশীলতা অবলম্বন করবে।
→ তার সাথে কথা পরিহার করবে, যেন সে মূর্খতার সুযোগ না পায়। কতক বর্ণনায় এসেছে:
«وإنْ شَتَمَهُ إِنسَانٌ فلا يُكَلِّمْهُ».
-যদি কেউ তাকে গালি দেয়, তার সাথে কথা বলবে না।[ফাতহুল বারি ৪/১০৪]
→ তাকে বলবে: “আমি রোযাদার”। উচ্চস্বরে বলবে, যেন সে মূর্খতা থেকে বিরত থাকে ও প্রতি উত্তর না করার কারণ বুঝতে পারে। ফরয-নফল সব সওমের ক্ষেত্রে অনুরূপ করবে। [এ বিষয়ে আলেমদের মাঝে মতবিরোধ রয়েছে]
→ যদি সে বিরত না হয়, তবে বারবার বলবে আমি রোযাদার, আমি রোযাদার।
→ এ পরিস্থিতিতে যদি সে দাঁড়ানো থাকে, বসার সুযোগ হলে বসে যাবে, যেরূপ অন্যান্য বর্ণনায় এসেছে, যেন গোস্বা নিবারণ হয়, প্রতিপক্ষ ও শয়তান পিছু হটে।
→ গালমন্দকারীকে অনুরূপ প্রতি উত্তর করবে না, বরং ধৈর্য ও সহনশীলতা অবলম্বন করবে।
→ তার সাথে কথা পরিহার করবে, যেন সে মূর্খতার সুযোগ না পায়। কতক বর্ণনায় এসেছে:
«وإنْ شَتَمَهُ إِنسَانٌ فلا يُكَلِّمْهُ».
-যদি কেউ তাকে গালি দেয়, তার সাথে কথা বলবে না।[ফাতহুল বারি ৪/১০৪]
→ তাকে বলবে: “আমি রোযাদার”। উচ্চস্বরে বলবে, যেন সে মূর্খতা থেকে বিরত থাকে ও প্রতি উত্তর না করার কারণ বুঝতে পারে। ফরয-নফল সব সওমের ক্ষেত্রে অনুরূপ করবে। [এ বিষয়ে আলেমদের মাঝে মতবিরোধ রয়েছে]
→ যদি সে বিরত না হয়, তবে বারবার বলবে আমি রোযাদার, আমি রোযাদার।
→ এ পরিস্থিতিতে যদি সে দাঁড়ানো থাকে, বসার সুযোগ হলে বসে যাবে, যেরূপ অন্যান্য বর্ণনায় এসেছে, যেন গোস্বা নিবারণ হয়, প্রতিপক্ষ ও শয়তান পিছু হটে।
✔৫). এ সকল হাদিস থেকে এ কথা বুঝে নেয়ার অবকাশ নেই যে, অশ্লীলতা, গালিগালাজ, মুর্খতার আচরণ, অসার ও অযথা বিতর্ক শুধু সওম অবস্থায় নিষেধ, অন্য সময় নয়, বরং সর্বাবস্থায় এগুলো নিষেধ ও হারাম, তবে সওম অবস্থায় এগুলোতে লিপ্ত হওয়া জঘন্য অন্যায়, কারণ এসব সওমের মূল উদ্দেশ্যকে নস্যাৎ করে। [আল-মুফহিম ৩/২১৪; ফাতহুল বারি ৪/১০৪ ]
✔৬). ইসলামি জীবন-দর্শনের পবিত্রতা, তার অনুসারীদের ভদ্র আচরণ শিক্ষা দেয়া ও মূর্খদের এড়িয়ে চলার অভিনব কৌশল।
✔৭). যদি রোযাদারের ওপর কেউ জুলুম করে, তাহলে সহজতর উপায়ে তার প্রতিকার করবে, এ থেকে রোযাদারকে নিষেধ করা হয়নি। [ফাতহুল বারি ৪/১০৫]
✔৮). সত্যিকারের সিয়াম পাপ থেকে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের সিয়াম, মিথ্যা ও অশ্লীলতা থেকে মুখের সিয়াম, পানাহার থেকে পেটের সিয়াম, স্ত্রীসহবাস ও যৌনতা থেকে লিঙ্গের সিয়াম। [দেখুন আহাদিসুস সিয়াম, আব্দুল্লাহ আল-ফাওযান ৭৫ ]
✔৯). অধিকাংশ আলেম একমত যে, গীবত, পরনিন্দা, মিথ্যা কথা, মূর্খতাপূর্ণ আচরণ ইত্যাদি কাজগুলো সিয়াম ভঙ্গ করে না, তবে তার সওয়াব অবশ্যই হ্রাস করে, এ জন্য সে গুনাহ্গার হবে। [ফাতহুল বারি ৪/১০৪, উমদাতুল কারি ১০/২৭৬]
✔১০). এ থেকে প্রমাণ হলো যে, সিয়ামের উদ্দেশ্য শুধু ক্ষুধা-পিপাসা সহ্য করা নয়, বরং মূল উদ্দেশ্য প্রবৃত্তি দুর্বল করা, গোস্বা নিবারণ করা, কু-প্রবৃত্তির চাহিদা নস্যাৎ করা ও নফসে মুতমায়িন্নার আনুগত্য করা, যদি সিয়াম দ্বারা এসব অর্জন না হয়, তাহলে সিয়াম রাখা না-রাখার মত, কারণ সিয়াম তার ওপর কোন প্রভাব ফেলতে পারেনি। [বায়যাবি থেকে উদ্ধৃত, দেখুন ফাতহুল বারি ৪/১১৭; ফায়যুল কাদির ৬/২২৪]
✔১১). এ হাদিস থেকে বুঝা যায় যে, মিথ্যা কথা, মিথ্যা নির্ভর কাজ সকল অন্যায়ের মূল। এ জন্য আল্লাহ মিথ্যাকে শির্কের সাথে উল্লেখ করেছেন:
فَٱجۡتَنِبُواْ ٱلرِّجۡسَ مِنَ ٱلۡأَوۡثَٰنِ وَٱجۡتَنِبُواْ قَوۡلَ ٱلزُّورِ
-সুতরাং মূর্তিপূজার অপবিত্রতা থেকে বিরত থাক এবং মিথ্যা কথা পরিহার কর। [সূরা হজ ৩০]
فَٱجۡتَنِبُواْ ٱلرِّجۡسَ مِنَ ٱلۡأَوۡثَٰنِ وَٱجۡتَنِبُواْ قَوۡلَ ٱلزُّورِ
-সুতরাং মূর্তিপূজার অপবিত্রতা থেকে বিরত থাক এবং মিথ্যা কথা পরিহার কর। [সূরা হজ ৩০]
এ আয়াতে আল্লাহ পৌত্তলিকতার অপরাধের সাথে মিথ্যাকে উল্লেখ করেছেন। এ থেকে মিথ্যার ভয়াবহতা প্রতীয়মান হয়। [মুনাভি আল্লামা তিবি থেকে বর্ণনা করেছেন, দেখুন ফায়যুল কাদির ৬/২২৪]
No comments:
Post a Comment