Thursday, June 4, 2015

খুশী মনে আমরা ফরজ আর সুন্নত পালন করি না, কিন্তু খুশী মনে আমরা বিদআত পালন করি।




খুশী মনে আমরা ফরজ আর সুন্নত পালন করি না, কিন্তু খুশী মনে আমরা বিদআত পালন করি। শুধু বিদআত পালনই করি না, সেটা পালনে মানা করা হলে উল্টো তা
জাস্টিফাই করার জন্য যুক্তি তর্কের
আশ্রয় নেই।
শবে বরাতের কথাই ধরুন। যেই কাজ
আমাদের নবী (সাঃ) করেননি, সাহাবা
(রাঃ) করেননি, সেটা আমরা কেন
করবো ? তাহলে কি আমরা বলতে চাই
আমরা উনাদের থেকে বেশী ধার্মিক,
নাকি উনারা ধর্ম ঠিকমত পালন করেননি
(নাউজুবিল্লাহ) ?
বলা হয়, যে মানুষটা একদিনও নামায পড়ে
না সে তো একটু হলেও আল্লাহ্’র নাম নেয়
এই দিনে। কিছুটা হলেও তো সোওয়াব
পাবে। অথচ দ্বীনের ক্ষেত্রে নতুন কিছুই
তৈরি করা যাবে না। আবার বলি, শুধু
মাত্র দ্বীনের ক্ষেত্রে নতুন কিছুই তৈরি
করা যাবে না। সেটা যত ভালোই মনে
হোক না কেন। দ্বীনের ক্ষেত্রে এই নতুন
কিছু তৈরি করাই হচ্ছে বিদআত। যেখানে
নতুন কিছু তৈরি করলে ভালো ফল পাবো
না, সেখানে সোওয়াব আশা করাটা
বোকামি মাত্র।
বিদআত ব্যাপারটা অনেকটা বিষের মত।
খুব সুন্দর আর মজার একটা কেক বানানো
হলো, কিন্তু সেই কেকের ক্রিমে বিষ
দিয়ে দেওয়া হলো । সেই কেক খেয়ে কে
লাভবান হবে শুনি ? বিদআত এমন আমল,
যেটা করে আমরা সবাই ভাবি খুব
সোওয়াব কামাই করছি। অথচ সবচেয়ে
ভয়ংকর দিক হচ্ছে আমরা গুনাহ কামাই
করছি, কিন্তু গুনাহ যে করছি, তা বুঝতেও
পারছি না আর সেজন্য আল্লাহ্’র কাছে
মাফও চাচ্ছি না।
অনেকেই বলেন আমার বাবা-মায়েরা এসব
পালন করে আসছেন, আমরাও পালন করবো।
ইব্রাহিম (আঃ) এর বাবা ছিলেন মুর্তি
উপাসক। তাই বলে তিনি যদি তাঁর বাবার
মত কাজ করে যেতেন তাহলে কি হতো।
তিনি তো মুর্তি উপাসক ছিলেন না।
তিনি তো তাঁর বাবাকে বুঝিয়েছিলেন
যে ভুল পথ ছেড়ে সঠিক পথে আসতে।
আমাদের বাবা মায়েরা যদি এমনই কোন
ভুল কাজ করে থাকেন , তাহলে আমাদের
কি কাজ নয় তাঁদের সঠিক পথটা দেখিয়ে
দিতে, ঠিক যেমনটা ইব্রাহিম (আঃ)
করেছিলেন? কেউই ভুলের উর্ধ্বে নয়। তবে
ভুল করার পর যে সংশোধন করে নেয় সেই
সর্বোত্তম আর যে সংশোধন করে না সে
শয়তানের বন্ধু।
এ প্রসঙ্গে কোরআনের দুটো আয়াত
দিলাম, নিজেকে মিলিয়ে দেখি, আমরা
কি এমনই ?
" যখন তাদের বলা হয় তোমরা এসো
আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন সেদিকে
এবং রসূলের দিকে"তখন তারা বলে আমরা
আমাদের বাপ-দাদাদের কে যার উপর
পেয়েছি তাই আমাদের জন্য যথেষ্ট। যদি
তাদের বাপ-দাদারা কিছু না জানলেও
এবং তারা সঠিকপথ না পেলেও কিতারা
এরূপ করবে?"( সূরা-মায়িদা-আয়াত
নং-১০৪)
"তাদেরকে যখন বলা হয় আল্লাহ যা
অবতীর্ণ করেছেন তা অনুসরণ করো। তারা
বলে,বরং আমরা আমাদের বাপ-
দাদাদেরকে যাতে পেয়েছি তারই অনুসরণ
করব।যদিও শয়তান যদি তাদেরকে
জাহান্নামের শাস্তির দিকে আহ্বান
করে, তবুও কি?"(সূরা লুকমান-আয়াত
নং-২১)

No comments:

Post a Comment