Saturday, June 13, 2015

রমযানের পূর্বে সওমের নিষেধাজ্ঞাঃ


Abu Anas's photo.

রমযানের পূর্বে সওমের নিষেধাজ্ঞাঃ
========================
আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন,
لا يَتَقَدَّمَنَّ أحَدُكُم رَمَضَانَ بصَومِ يومٍ أو يومَينِ إلا أنْ يَكونَ رَجُلٌ كان يَصُومُ صَومَه فَليَصُمْ ذَلكَ اليَوم
-তোমাদের কেউ যেন একদিন বা দু’দিনের সওমের মাধ্যমে রমযানকে এগিয়ে না আনে, তবে কারো যদি পূর্বের অভ্যাস থাকে, তাহলে সে ঐ দিন সওম রাখবে।[বুখারি হা/১৮১৫; মুসলিম হা/১০৮২]
তিরমিযিতে হাদিসটি এভাবে এসেছে, নবী ﷺ বলেছেন,
لا تَقَدَّمُوا الشَّهرَ بِيَوْمٍٍ ولا بِيَومَين إلا أن يُوَافِقَ ذَلكَ صَوْماً كَانَ يَصُوُمُهُ أَحَدُكُم...
-তোমরা একদিন বা দু’দিনের মাধ্যমে (রমযান) মাস এগোবে না, তবে সেদিন যদি সওমের দিন হয়, যা তোমাদের কেউ পালন করত...।
■শিক্ষা ও মাসায়েলঃ
===============
✔১). রমযানের সতর্কতার জন্য তার পূর্বে সওমের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। ওলামায়ে কেরাম বলেছেন: হাদিসের অর্থ: তোমরা সওমের মাধ্যমে রমযানের সতর্কতার নিয়তে রমযানকে এগিয়ে আনবে না।[ ফাতহুল বারি (৪/১২৮)]
ইমাম তিরমিযি রাহিমাহুল্লাহু বলেন,
-আহলে ইলমের আমল এ হাদিস মোতাবেক। তারা রমযান মাস আসার আগে রমযান হিসেবে সওম পালন করা পছন্দ করতেন না। হ্যাঁ কেউ যদি পূর্ব থেকে নির্দিষ্ট দিন সওম পালন করে, আর সেদিন রমযানের আগের দিন হয়, তবে এতে তাদের নিকট কোন সমস্যা নেই।[সুনানে তিরমিযী হা/৬৮৪]
✔২). রমযানের পূর্বে [রমযানের সাথে লাগিয়ে] নফল সওম রাখা নিষেধ।[ফাতহুল বারি (৪/১২৮)]
✔৩). এ দিন যার সওমের দিন, সে এ থেকে ব্যতিক্রম, যেমন কাফফারা বা মান্নতের সওম, এবং যার এ দিন নফল সওমের অভ্যাস রয়েছে, যেমন সোমবার ও বৃহস্পতিবার।
✔৪). এ নিষেধাজ্ঞা সম্পর্কে সবচাইতে যৌক্তিক যে হিকমত বর্ণনা করা হয়েছে তা হলো, রমযানের সওম শরয়ি চাঁদ দেখার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট, সুতরাং যে শরয়িভাবে চাঁদ দেখার এক বা দু’দিন আগে সওম রাখল সে শরিয়তের এ বিধানে ত্রুটির নির্দেশ করল, এবং যেসব ‘নস’ বা দলিলে চাঁদ দেখার সাথে সওম সম্পৃক্ত করা হয়েছে, তা সে প্রত্যাখ্যান করল।[ফাতহুল বারি (৪/১২৮)]
✔৫). এ হাদিসে ‘রাফেযি’ সম্প্রদায়ের প্রতিবাদ রয়েছে, যারা চাঁদ না দেখে সওম পালন বৈধ বলে।[ফাতহুল বারি (৪/১২৮)]
✔৬). এ হাদিস থেকে জানা গেল, নফল ও ফরয ইবাদতের মাঝে প্রাচীর ও বিরতি রয়েছে, যেমন শাবানের নফল ও রমযানের ফরযের বিরতি সন্দেহের দিন সওম পালন করা হারাম। অনুরূপ রমযানের শেষ ও শাওয়ালের প্রথম দিন তথা ঈদের দিন সওম পালন করা হারাম। ইব্‌ন আব্বাস (রাঃ) ও একদল সালাফ ফরয ও নফল সালাতের মাঝে বিরতি সৃষ্টি করা মোস্তাহাব বলেছেন, যেমন কথাবার্তা বলা বা নড়াচড়ার করা বা সালাতের স্থানে আগ-পিছ হওয়া।[ আল-ইস্তেযকার (৩/৩৭১)]
✔৭). শরীয়ত আঁকড়ে ধরা ওয়াজিব, তাতে বৃদ্ধি বা হ্রাস করা বৈধ নয়, কারণ তা দ্বীনের মধ্যে বাড়াবাড়ি অথবা দ্বীন থেকে বিচ্যুতির আলামত। সতর্কতামূলক রমযানের আগে রমযানের নিয়তে সওমের নিষেধাজ্ঞা থেকে এ বিষয়টি স্পষ্ট হয়।

No comments:

Post a Comment