Monday, June 1, 2015

শবে বরাত বিদ’আত কেন?




শবে বরাত বিদ’আত কেন?
=====================
প্রশ্নঃ শবে বারাত উৎযাপন বিদ’আত এটা আমার বিশ্বাস-ই হচেছ না, নামাজ-রোজা করা বিদ’আত হয় কি করে?
উত্তরঃ
=====
শবে বরাত রাতে যে আমলসমূহ করা হয়, পৃথক ভাবে চিন্তা করলে তার সবই ভালো কাজ। নিঃসন্দেহে আল্লাহ তা‘আলার সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য দুয়া-মুনাজাত, সালাত, সিয়াম, দান-ছাদাকাহ, কুরআন তিলাওয়াত, রাত্রি জাগরণ হলো নেক আমল। এতে কারও দ্বি-মত নেই। আমরা কখনো এগুলিকে বিদ‘আত বলি না।
এখন তাহলে প্রশ্ন থেকে যায় কোন আমলটি বিদ’আত, তাই না?
আসলে মধ্য সাবান মাসের এই দিবসটিকে ইবাদতের উপলক্ষ বানানোটাই হলো বিদ’আত। এটা বিদ’আত এই কারনেই যে এ রাতকে শবে বরাত বা সৌভাগ্য রজনী অথবা মুক্তি রজনী মনে করে বিভিন্ন প্রকার আমল ও ইবাদাত বন্দেগীর মাধ্যমে রাতটি উৎযাপন করা। এটা কুরআন ও সুন্নাহ পরিপন্থী, ধর্মে বাড়াবাড়ি। যা ধর্মে নেই তা উৎযাপন করা ও প্রচলন করার নাম বিদ‘আত।
নবী কারীম ﷺ তাঁর নবুওয়াতের ২৩ বছরের জীবনে কখনো তার সাহাবীগণকে সাথে নিয়ে মক্কায় মাসজিদুল হারামে অথবা মদীনায় মাসজিদে নবুবীতে কিংবা অন্য কোন মাসজিদে একত্র হয়ে উল্লিখিত ইবাদাত-বন্দেগীসমূহ করেছেন এমন কোন সহীহ বর্ণনা পাওয়া যায় না। তাঁর ইন্তেকালের পরে তাঁর সাহাবায়ে কিরাম (রাঃ) তথা খুলাফায়ে রাশেদীনের যুগে কেহ জানতো না শবে বরাত কি এবং এতে কি করতে হয়। তারা নবী ﷺ এর আমল সরাসরি প্রত্যক্ষ করেছেন। আমাদের চেয়ে উত্তম রূপে কুরআন অধ্যয়ন করেছেন। তারা তাতে শবে বরাত সম্পর্কে কোন দিক-নির্দেশনা পেলেন না। তাদের সোনালী যুগের বহু বছর পরে প্রচলন করা শবে বরাতকে তাই আমরা বিদ‘আত বলতে চাই। আমরা বলতে চাই, এটা একটা মনগড়া পর্ব। আমরা মানুষকে বুঝাতে চাই, এই সব প্রচলিত ও বানোয়াট মুক্তির রজনী উৎযাপন থেকে দূরে থাকতে হবে। আমরা উম্মতকে কুরআন ও সুন্নাহমুখী করতে এবং সেই অনুযায়ী আমল করাতে অভ্যস- করতে চাই।
মনে রাখা দরকার যে, ইবলীসের নিকট পাপের চেয়ে বিদ’আতই অধিকতর পছন্দনীয়। সূফইয়ান যওরী (রাঃ) বলেন,
-ইবলীসের নিকট পাপের চেয়ে বিদ’আতই অধিকতর পছন্দনীয়।কারন পাপ হতে তাওবার আশা থাকে কিন্তু বিদ’আত হতে তাওবার কোন সম্ভাবনা থাকে না। [ই’তিকাদু আহলিস সুন্নাহ পৃঃ১৩২]

No comments:

Post a Comment