
ঈদের সালাতে অতিরিক্ত তাক্ববীর সংখ্যা ১২:
======================
চার মাযহাবের চার ইমামের মধ্যে ইমাম আবু হানীফা (রহঃ) ছাড়া বাকী তিন ইমামই ১২ তাক্ববীরে ঈদের সালাত আদায় করতেন এবং উক্ত মর্মে ফায়সালা দিতেন। আজ প্রসিদ্ধ ইমামগণের ১২ তাক্ববীরে ঈদের সালাতের দলিল পেশ করবো ইন-শা-আল্লাহ!
======================
চার মাযহাবের চার ইমামের মধ্যে ইমাম আবু হানীফা (রহঃ) ছাড়া বাকী তিন ইমামই ১২ তাক্ববীরে ঈদের সালাত আদায় করতেন এবং উক্ত মর্মে ফায়সালা দিতেন। আজ প্রসিদ্ধ ইমামগণের ১২ তাক্ববীরে ঈদের সালাতের দলিল পেশ করবো ইন-শা-আল্লাহ!
❏ ইমাম মালেক (৯৩-১৭৯ হিঃ) :-
ইমাম মালেক (৯৩-১৭৯ হিঃ) তার হাদীস গ্রন্থ ‘মুয়াত্তা’ য় ১২ তাক্ববীরের হাদীস উল্লেখ করে বলেন,
-এটাই আমার নিকট পালনীয়।[আল-মুওয়াত্তা পৃঃ ১০৮-১০৯]
ইমাম মালেক (৯৩-১৭৯ হিঃ) তার হাদীস গ্রন্থ ‘মুয়াত্তা’ য় ১২ তাক্ববীরের হাদীস উল্লেখ করে বলেন,
-এটাই আমার নিকট পালনীয়।[আল-মুওয়াত্তা পৃঃ ১০৮-১০৯]
অন্যত্র তিনি বলেন,
-দুই ঈদের তাক্ববীর একই রকম হবে। ১ম রাকআতে ক্বিরআতের পূর্বে ৭ আর ২য় রাকআতে ৫।দুই রাকআতেই ক্বিরআতের পূর্বে তাক্ববীর দিতে হবে। [মুদওয়ানাতুল কুবরা খন্ড ২ পৃঃ ২৪৫; আল-মুওয়াত্তা পৃঃ ১০৯]
-দুই ঈদের তাক্ববীর একই রকম হবে। ১ম রাকআতে ক্বিরআতের পূর্বে ৭ আর ২য় রাকআতে ৫।দুই রাকআতেই ক্বিরআতের পূর্বে তাক্ববীর দিতে হবে। [মুদওয়ানাতুল কুবরা খন্ড ২ পৃঃ ২৪৫; আল-মুওয়াত্তা পৃঃ ১০৯]
✏উল্লেখ্য ইমাম মালেক (রাঃ) ১২ তাক্ববীর ছাড়া কোন বর্ণনা উল্লেখ করেন নি এবং গ্রহণও করেননি।
❏ ইমাম শাফেঈ (১৫০-২০৪ হিঃ) :-
তাঁর কিতাবুল উম্ম গ্রন্থে ১২ তাক্ববীরের হাদীস উল্লেখ করে বলেছেন,
-যখন ইমাম দুই ঈদের সালাত শুরু করবেন তখন সালাতে প্রবেশের জন্য তাক্ববীর দিবে।
অতপর সালাত শুরু করবেন যেমন ফরজ সালত শুরু করেন।... অতপর সাত তাক্ববীর দিবেন। এর মধ্যে তাক্ববীরে তাহ্রীমা থাকবে না। অতঃপর কিরআত পড়বেন, রুকু করবেন এবং সিজদা করবেন।
যখন দ্বিতীয় রাকআ’তেরর জন্য দাড়াবেন তখন তাক্ববীর সহ দাঁড়াবেন। অতঃপর পাঁচ তাক্ববীর দিবেন দাড়ানোর তাক্ববীর ছাড়াই [ কিতাবুল উম্ম, খন্ড ৭ পৃঃ ১৫৫]
তাঁর কিতাবুল উম্ম গ্রন্থে ১২ তাক্ববীরের হাদীস উল্লেখ করে বলেছেন,
-যখন ইমাম দুই ঈদের সালাত শুরু করবেন তখন সালাতে প্রবেশের জন্য তাক্ববীর দিবে।
অতপর সালাত শুরু করবেন যেমন ফরজ সালত শুরু করেন।... অতপর সাত তাক্ববীর দিবেন। এর মধ্যে তাক্ববীরে তাহ্রীমা থাকবে না। অতঃপর কিরআত পড়বেন, রুকু করবেন এবং সিজদা করবেন।
যখন দ্বিতীয় রাকআ’তেরর জন্য দাড়াবেন তখন তাক্ববীর সহ দাঁড়াবেন। অতঃপর পাঁচ তাক্ববীর দিবেন দাড়ানোর তাক্ববীর ছাড়াই [ কিতাবুল উম্ম, খন্ড ৭ পৃঃ ১৫৫]
‘বাদায়েউছ ছানা’ঈর লেখক মাওলানা আলাউদ্দীন আল-কাসানী হানাফী (রহ:) বলেন,
-ইমাম শাফেঈ (রহ:) বলেন, (ঈদের সালাতে) ১২ তাক্ববীর দিবে। প্রথম রাক’আতে সাত আর দ্বিতীয় রাক’আতে পাঁচ, তাক্ববীর তাহরীমা ছাড়াই। [আল কাসানী, বাদায়েউছ ছানাই, ১/৬২০ পৃঃ]
-ইমাম শাফেঈ (রহ:) বলেন, (ঈদের সালাতে) ১২ তাক্ববীর দিবে। প্রথম রাক’আতে সাত আর দ্বিতীয় রাক’আতে পাঁচ, তাক্ববীর তাহরীমা ছাড়াই। [আল কাসানী, বাদায়েউছ ছানাই, ১/৬২০ পৃঃ]
ইমাম নববী ( ৬৩১-৬৭৬হিঃ) বলেন,
-ইমাম শাফেঈ (রহ:) বলেন, ঈদের সালাতে তাক্ববীর হলো: প্রথম রাক’আতে তাক্ববীর তাহরীমা ছাড়া সাত তাক্ববীর আর দ্বিতীয় দাঁড়ানোর তাক্ববীর ছাড়া পাঁচ তাক্ববীর। [ইমাম নববী, শরহে সহীহ মুসলীম, ১/২৯০]
-ইমাম শাফেঈ (রহ:) বলেন, ঈদের সালাতে তাক্ববীর হলো: প্রথম রাক’আতে তাক্ববীর তাহরীমা ছাড়া সাত তাক্ববীর আর দ্বিতীয় দাঁড়ানোর তাক্ববীর ছাড়া পাঁচ তাক্ববীর। [ইমাম নববী, শরহে সহীহ মুসলীম, ১/২৯০]
❏ ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল (১৬৪-২৪১ হিঃ) :-
তাঁর বিশ্ববিখ্যাত হাদীস গ্রন্থ মুসনাদে আহমাদ-এ ১২ তাক্ববীরের হাদীস বর্ণনা করে বলেন,
-আমিও এর প্রতি আমল করি। [মুসনাদে আহমাদ, খ.২, পৃঃ১৮০, হা/৬৬৮৮]
তাঁর বিশ্ববিখ্যাত হাদীস গ্রন্থ মুসনাদে আহমাদ-এ ১২ তাক্ববীরের হাদীস বর্ণনা করে বলেন,
-আমিও এর প্রতি আমল করি। [মুসনাদে আহমাদ, খ.২, পৃঃ১৮০, হা/৬৬৮৮]
✏উল্লেখ্য ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল ১২ তাক্ববীর ছাড়া এ সংক্রান্ত অন্য কোন বর্ণনা গ্রহণ করেননি। ইমাম তিরমিযী (রহঃ) ১২ তাক্ববীরের হাদীস পেশ করে পর্যালোচনায় বলেন,
-মালেক ইবনু আনাস, শাফেঈ, আহমাদ এবং ইসহাক্ব ও এ কথাই বলেন। [তিরমিযী ১/১১৯-১২০পৃঃ, হা/৫৩৪-এর আলোচনা।]
-মালেক ইবনু আনাস, শাফেঈ, আহমাদ এবং ইসহাক্ব ও এ কথাই বলেন। [তিরমিযী ১/১১৯-১২০পৃঃ, হা/৫৩৪-এর আলোচনা।]
No comments:
Post a Comment