Tuesday, July 7, 2015

“অর্থ বুঝে নামায পড়ুন” (১ম পর্ব)



আনসারুস সুন্নাহ's photo.

“অর্থ বুঝে নামায পড়ুন” (১ম পর্ব)
আলহা’মদুলিল্লাহ। ওয়াস সালাতু ওয়াস সালামু আ’লা রাসুলিল্লাহ। আম্মা বাআ’দ। নামাযের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত দুয়া এবং ছোট কয়েকটি সুরার সহজ সরল তর্জমা ও শব্দার্থ।
১. তাকবীরে তাহরীমাঃ 
“আল্লাহু আকবার” 
অর্থঃ আল্লাহ সবচাইতে বড় / আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ / আল্লাহ সবচাইতে মহান।
“আল্লাহু আকবার” বলে নামায শুরু করাকে তাকবীরে তাহরীমা বলা হয়, কারণ এর পরে নামাযের কোনো কাজ ছাড়া অন্য যেকোন কথা বা কাজ বান্দার জন্য সম্পূর্ণ হারাম হয়ে যায়, যতক্ষণ না সে সালাম ফিরিয়ে নামায শেষ করছেন। তাকবীরে তাহরীমা দিয়ে নামায শুরু করা “ফরয”, তাই সাবধান! যেই সমস্ত ভাইয়েরা জামাতে পরে যোগ দেন, ইমাম রুকুতে থাকলেও প্রথমে “তাকবীরে তাহরীমা” বলে নামাযে ঢুকে এর পরে আবার তাকবীর দিয়ে রুকুতে বা অন্য জায়গাতে যেতে হবে, নয়তো নামায হবেনা। কারণ তাকবীরে তাহরীমা দিয়ে নামায শুরু করা হচ্ছে চাবির মতো, এটা করলে আপনি নামায শুরু করলেন, এটা না করেই রুকু বা সিজদাতে চলে গেলে আপনি নামায শুরু না করে রুকুতে চলে গেলেন, যেটা ভুল যার ফলে আপনার নামায বাতিল হয়ে যাবে।
২. সানাঃ নামাযের শুরুতে সানা বা আল্লাহর প্রসংশামূলক দুয়া পড়া সুন্নত।
«سُبْحانَكَ اللَّهُمَّ وَبِحَمْدِكَ، وَتَبارَكَ اسْمُكَ، وَتَعَالَى جَدُّكَ، وَلاَ إِلَهَ غَيْرُكَ».
উচ্চারণঃ সুবহা’-নাকাল্লা-হুম্মা ওয়া বিহা’মদিকা, ওয়া তাবা-রাকাসমুকা, ওয়া তাআ’-লা জাদ্দুকা, ওয়া লা- ইলা-হা গাইরুকা।
অর্থঃ হে আল্লাহ! আমরা প্রশংসার সাথে আপনার পবিত্রতা বর্ণনা করছি। আপনার নাম অত্যন্ত বরকতময়, আপনার সম্মান ও মর্যাদা সবার উপরে। আর আপনি ছাড়া সত্য কোন মাবূদ নেই।
শব্দার্থঃ
সুবহা’-নাকা = আমরা আপনার পবিত্রতা করছি
আল্লাহুম্মা = হে আল্লাহ!
ওয়া বিহা’মদিকা = এবং প্রশংসার সাথে
ওয়া = এবং, বি = সাথে, হা’মদিকা = প্রশংসার,
ওয়া তাবা-রাকাসমুকা = আর আপনার নাম অত্যন্ত বরকতময়।
ওয়া = এবং, তাবারাকা = বড়ই বরকতময়, ইসমুকা = আপনার নাম।
ওয়া তাআ’-লা জাদ্দুকা = এবং আপনার সম্মান ও মর্যাদা সবার উপরে।
ওয়া = এবং, তাআ’-লা =সবার উপরে, জাদ্দুকা = আপনার সম্মান ও মর্যাদা
ওয়া লা- ইলা-হা গাইরুকা = আর আপনি ছাড়া সত্য কোন মাবূদ নেই।
লা = নেই, ইলা-হা = কোন মাবূদ বা উপাস্য, গাইরুক = আপনি ছাড়া।
৪. আঊ’যু বিল্লা-হি…
নামাযের ভেতরে অথবা বাইরে, যেকোন সময় ক্বুরান মাজীদ তেলাওয়াত করার পূর্বে শুরুতে একবার ‘আঊ’যু বিল্লা-হি…’ পড়া সুন্নত।
«أَعُوذُ بِاللَّهِ مِنَ الشَّيطَانِ الرَّجِيمِ».
উচ্চারণঃ আঊ’যু বিল্লা-হি মিনাশ শাইত্বানির রাজীম।
অর্থঃ বিতাড়িত শয়তানের (কুমন্ত্রনা) থেকে আমি আল্লাহ্র কাছে আশ্রয় চাই।
আঊ’যু বিল্লা-হি = আমি আল্লাহ্র কাছে আশ্রয় চাই
আঊ’যু = আমি আশ্রয় চাই, বিল্লা-হি = আল্লাহর কাছে
মিনাশ শাইত্বানির রাজীম = (কুমন্ত্রনা) থেকে আমি আল্লাহ্র কাছে আশ্রয় চাই।
মিন থেকে মিনাশ অর্থ হচ্ছে থেকে, শাইতানির = শয়তানের, রাযীম = বিতাড়িত
৫. বিসমিল্লাহ…
নামাযের ভেতরে অথবা বাইরে, যেকোন সময় কোন সুরা শুরু থেকে তেলাওয়াত করলে বিসমিল্লাহ...এই দুয়া পড়া সুন্নত। সুরার মাঝখান থেকে (যেমন আয়াতুল কুরসী, সুরা বাক্বারার শেষ ২ আয়াত) তেলাওয়াত করলে বিসমিল্লাহ...পড়তে হবেনা।
بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ
বিসমিল্লাহ-হির রাহমানির রাহীম = পরম করুনাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু।
বা = শুরু করা, ইসমি = নামে, আল্লাহ
বা + ইসমি + আল্লাহ = বিসমিল্লাহ = আল্লাহর নামে শুরু
রাহমান = পরম করুণাময়, রাহীম = অসীম দয়ালু
৬. সুরা ফাতেহার অর্থঃ
i. আলহামদুলিল্লাহি রাব্বিল আ’লামিন
অর্থঃ সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি জগতসমূহের প্রতিপালক।
আল = সমস্ত, হা’মদ = প্রশংসা, লিল্লাহ = আল্লাহর জন্য
আল + হা’মদু + লিল্লাহ = আলহামদুলিল্লাহ = সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য
রব্ব = প্রতিপালক, পালনকর্তা, মালিক
আ’লামীন = জগতসমূহ।
ii. আর-রাহমানির রাহীম
অর্থঃ যিনি পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু।
রাহমান = যিনি স্বভাবে খুবই করুণাময়
রাহীম = যিনি কর্মে অত্যন্ত দয়ালু
iii. মালিকি ইয়াওমিদ্দীন
অর্থঃ যিনি বিচার দিনের মালিক।
মালিক = মালিক, প্রভু
ইয়াওম = দিন
আদ্দীন = বিচার, প্রতিদান
iv. ইয়্যাকানা’আবুদু ওয়া ইয়্যাকানাসতাঈ’ন
অর্থঃ আমরা শুধু তোমার ইবাদত করি এবং আমরা শুধু তোমার কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করি।
ইয়্যাকা = শুধু তোমার
নাআ'বুদ = আমরা ইবাদত করি
ওয়া = এবং
ইয়্যাকা = শুধু তোমার
নাসাতাঈ’ন = আমরা সাহায্য প্রার্থনা করি
v. ইহ দ্বীনাস-সিরাতাল মুস্তাকীম
অর্থঃ আমাদেরকে সরল সঠিক পথ দেখাও
ইহদিনা = আমাদেরকে দেখিয়ে দিন
সিরাত থেকে সিরাতাল = স্পষ্ট পথ বা রাস্তা
মুস্তাকীম = সোজা, একেবারে সরল
vi. সিরাতাল্লাযীনা আনআ’মতা আ’লাইহিম
অর্থঃ তাদের পথ যাদেরকে আপনি নেয়ামত দান করেছেন
সিরাত+আল্লাযীনা = সিরাতাল্লাযীনা
সিরাত থেকে সিরাতাল = স্পষ্ট পথ বা রাস্তা
আল্লাযীনা = যাদের
আন+আ’মতা আনআ’নমতা = আপনি নেয়ামত দান করেছেন
আন = আপনার, আ’মতা = নেয়ামত দান করেছেন
আ’লাইহিম = যাদের উপর
vii. গাইরিল মাগদুবি আ’লাইহিম ওয়ালা-দ্বোয়াল্লিন
অর্থঃ তাদের পথ নয় যারা আপনার অভিশাপপ্রাপ্ত হয়েছে আর তাদের পথও নয় যারা পথভ্রষ্ট হয়েছে। (আমিন)
গাইরিল = তাদের পথে নয়
মাগদুব = যারা অভিশাপপ্রাপ্ত (তারা হচ্ছে ইয়াহুদীরা)
আ’লাইহিম = যাদের উপর
ওয়া = এবং, লা = না, নয় = ওয়ালা
দ্বোয়াল্লিন = পথভ্রষ্ট (তারা হচ্ছে খ্রীস্টানরা)
আমিন = হে আল্লাহ তুমি আমাদের দুয়া কবুল করো।
৭. সুরা ইখলাসের শব্দার্থঃ
বিসমিল্লাহ-হির রাহমানির রাহীম।
আয়াত নাম্বার একঃ ক্বুল হুয়া-ল্লাহু আহা’দ।
ক্বুল = বলুন (say)
হুয়া = তিনি (he)
আল্লাহু = আল্লাহ্
আহাদ = এক/অদ্বিতীয় (one and only)
আয়াতের অর্থঃ (হে নবী) আপনি বলুন, তিনি আল্লাহ্, এক ও অদ্বিতীয়।
আয়াত নাম্বার দুইঃ আল্লাহুস-সামাদ।
আল্লাহু = আল্লাহ্,
আস-সামাদ = যার উপরে সমস্ত কিছু নির্ভরশীল কিন্তু তিনি সমস্ত কিছু হতে অমুখাপেক্ষী (absolute and eternal) – এটা আল্লাহর একটা নাম।
আয়াতের অর্থঃ আল্লাহ্ সমস্ত কিছু হতে অমুখাপেক্ষী, কিন্তু সকলেই তাঁর মুখাপেক্ষী।
আয়াত নাম্বার তিনঃ লাম ইয়ালিদ ওয়া-লাম ইউলাদ।
লাম = করেন নি বা দেন নি (did not)
ইয়ালিদ = জন্ম দেওয়া (to give birth)
ওয়া = এবং (and)
লাম = করেন নি বা দেন নি (did not)
ইউলাদ= জন্ম নেওয়া (born)
আয়াতের অর্থঃ তিনি কাউকে জন্ম দেন নি, তাঁকেও কেউ জন্ম দেয় নাই।
আয়াত নাম্বার চারঃ ওয়া-লাম ইয়া কুল্লাহু কুফুওয়ান আহা’দ।
ওয়া = এবং
লাম = করেন নি বা দেন নি (did not)
ইয়া কুল্লাহু = তার মতো বা তার সমান (like him)
কুফুওয়ান = সমান, (কুফু থেকে কুফুওয়ান, কুফু অর্থ হলো সমতা)
আহাদ = এক ও অদ্বিতীয়।
আয়াতের অর্থঃ এবং তাঁর মতো আর কেউ নেই।

No comments:

Post a Comment