Sunday, July 5, 2015

জান্নাতের চেয়ে বড় প্রতিদান আর কি হতে পারে!




জান্নাতের চেয়ে বড় প্রতিদান আর কি হতে পারে!
--------------------------------------------------------
এ জান্নাতেরই ওয়াদা করা হয়েছে ধৈর্য্যশীলদের জন্য।
যেমন মৃগী রোগী মহিলার জন্য জান্নাতের ওয়াদা করা
হয়েছে- ধৈর্য্যধারণের শর্তে। আতা বিন আবি রাবাহ বর্ণনা
করেন, একদা ইবনে আব্বাস রা. আমাকে বলেন, আমি কি
তোমাকে জান্নাতি মহিলা দেখাবো? আমি বললাম অবশ্যই। তিনি
বললেন, এই কালো মহিলাটি জান্নাতি।
ঘটনাটি এরূপ- একবার সে
রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নিকট এসে বলে, হে
আল্লাহর রসূল আমি মৃগী রোগী, রোগের দরুন ভূপাতিত
হয়ে যাই, বিবস্ত্র হয়ে পড়ি।
আমার জন্য দোয়া করুন। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
বলেন : ‘ ইচ্ছে করলে ধৈর্য্যধারণ করতে পার, বিনিময়ে জান্নাত
পাবে, আর বললে সুস্থ্যতার জন্য দোয়া করে দেই। সে
বলল, আমি ধৈর্য্যধারণ করব। তবে আমি বিবস্ত্র হয়ে যাই, আমার
জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করুন, যাতে বিবস্ত্র না হই। অতঃপর
তিনি তার জন্য দোয়া করে দেন”। (বুখারী : ৫২২০ মুসলিম :
৪৬৭৩)
অনুরূপ জান্নাতের নিশ্চয়তা আছে দৃষ্টিহীন ব্যক্তির জন্য। রসূল
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন : “আল্লাহ তাআলা বলেছেন
: আমি যখন আমার বান্দাকে দুটি প্রিয় বস্তু দ্বারা পরীক্ষা করি, আর
সে ধৈর্য্যধারণ করে, বিনিময়ে আমি তাকে জান্নাত দান করি”।
(বুখারী : ৫২২১)
আরো জান্নাতের ওয়াদা আছে, প্রিয় ব্যক্তির মৃত্যুতে
ধৈর্য্যধারণকারীর জন্য। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ
করেন, আল্লাহ তাআলা বলেছেন, আমি যখন আমার মুমিন বান্দার
অকৃত্রিম ভালোবাসার পাত্রকে দুনিয়া থেকে উঠিয়ে নেই। এবং
তাতে সে ধৈর্য্যধারণ করে, ছওয়াবের আশা রাখে, আমার কাছে
তার বিনিময় জান্নাত বৈ কি হতে পারে?” (বুখারী : ৫৯৪৪)
অর্থাৎ নিশ্চিত জান্নাত।
শোক সন্তপ্ত পিতা-মাতার জন্য আরেকটি হাদিস। আশা করি এর দ্বারা
সান্ত্বনা লাভ হবে, দুঃখ ঘুচে যাবে। এরশাদ হচ্ছে :
“যখন বান্দার কোন সন্তান মারা যায়, আল্লাহ তাআলা
ফেরেস্তাদের বলেন :তোমরা আমার বান্দার সন্তান কেড়ে
নিয়ে এসেছো? তারা বলে হ্যাঁ। তোমরা আমার বান্দার কলিজার
টুকরো ছিনিয়ে এনেছো? তারা বলে হ্যাঁ। অতঃপর জিজ্ঞাসা
করেন, আমার বান্দা কি বলেছে? তারা বলে, আপনার প্রসংশা
করেছে এবং বলেছে আমরা আল্লাহ তাআলার জন্য এবং তার
কাছেই প্রত্যাবর্তন করব। আল্লাহ তাআলা বলেন, আমার বান্দার
জন্য একটি ঘর তৈরী কর এবং তার নাম দাও বায়তুল হামদ্ বা প্রশংসার ঘর
বলে”।
( তিরমিযী : ৯৪২)

No comments:

Post a Comment