
কন্যা সন্তান লালন পালনে অনেক ফযীলত রয়েছে।
এ ছাড়া কারো প্রথম সন্তান কন্যা সহ একাধিক কন্যা রয়েছে তার জন্য হাদীস শরীফে বিশেষ ফযীলতের কথা রয়েছে।
এ ছাড়া কারো প্রথম সন্তান কন্যা সহ একাধিক কন্যা রয়েছে তার জন্য হাদীস শরীফে বিশেষ ফযীলতের কথা রয়েছে।
মেয়ে সন্তানের ফযীলত বিষয়ে নিম্নে কয়কেটি হাদীস পেশ করা হলঃ
📘(১) হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলনে, রাসূল (সা.) ইরশ...াদ করনে, যার গৃহে কন্যা সন্তান জন্মগ্রহন করল,অতঃপর সে ঐ কন্যাকে কষ্টও দেয়নি,তার উপর অসন্তুষ্টও হয়নি এবং পুত্র সন্তানকে তার উপর প্রধান্য দেয়নি,তাহলে ঐ কন্যার কারনে আল্লাহ তায়ালা তাকে জান্নাতে প্রবশে করাবেন।(মুসনাদে আহমদ ১;২২৩)
📘(২) রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন,যে ব্যাক্তি দু’টি মেয়েকে বয়ঃপ্রাপ্ত হ্ওয়া পর্যন্ত লালন পালন করল সে কিয়ামতের দিন এরূপ অবস্থায় উঠবে যে আমি আর সে এরকম মিলিত অবস্থায় থাকব,এই বলে তিনি স্বীয় আঙ্গুলসমূহ মিলিয়ে দেখালেন।(মুসলিম শরীফ)
📘(৩) রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন,"কন্যা সন্তান হল উত্তম সন্তান। কেননা,তারা হচ্চে অধিক গুনের অধিকারিনী বিনম্র ও মিষ্টভাষী । এছাড়া তারা পিতা-মাতার সেবা -শুশ্রষার জন্য সদাসর্বদা প্রস্তুত থাকে এবং তারা মায়া মমতাকারীনী,স্নেহময়ী,বিনয়ী ও বরকতময়ী।"(ফিরদাউস ৪;২৫৫)
আর প্রথম সন্তান মেয়ে হ্ওয়ার ফযীলত সম্পর্কে হাদীস নিম্নে উল্লেখ করা হল,
📘(৪) হযরত আব্দুল্লাহ উমর (রা.) বর্ণনা করেন,রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন,ঐ মহিলা বরকতময়ী ও সৌভাগ্যশালী,যার প্রথম সন্তান মেয়ে হয়।কেননা,(সন্তানদানের নিয়ামত বর্ণনা করার ক্ষেত্রে )আল্লাহ তায়ালা মেয়েকে আগে উল্লেখ করে বলেন,তিনি যাকে ইচ্ছা কন্যা সন্তান দান করেন আর যাকে ইচ্ছা পুত্র সন্তান দান করেন।"(কানযুল উম্মাহ ১৬:৬১১)
📘(৪) হযরত আব্দুল্লাহ উমর (রা.) বর্ণনা করেন,রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন,ঐ মহিলা বরকতময়ী ও সৌভাগ্যশালী,যার প্রথম সন্তান মেয়ে হয়।কেননা,(সন্তানদানের নিয়ামত বর্ণনা করার ক্ষেত্রে )আল্লাহ তায়ালা মেয়েকে আগে উল্লেখ করে বলেন,তিনি যাকে ইচ্ছা কন্যা সন্তান দান করেন আর যাকে ইচ্ছা পুত্র সন্তান দান করেন।"(কানযুল উম্মাহ ১৬:৬১১)
📘(৫) কন্যাসন্তানের মা-বাবা ও অভিভাবককে সৌভাগ্যবান ঘোষণা দিয়ে মহানবী সা: বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি তিনটি কন্যাসন্তান কিংবা অনুরূপ তিনটি বোনকে লালনপালন করেছে, শিষ্টাচার শিা দিয়েছে এবং স্বাবলম্বী না হওয়া পর্যন্ত এদের সাথে সদয় ব্যবহার করেছে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব করে দেবেন। এক ব্যক্তি জিজ্ঞেস করল, হে আল্লাহর রাসূল! যদি কেহ দু’জনকে গ্রহণ করে? মহানবী সা: বললেন, দু’জনকে করলেও তাই হবে। ইবনে আব্বাস রা: বলেন, লোকটি এক মেয়ের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলেও মহানবী সা: অনুরূপ জবাবই দিতেন’ (আল-আদাবুল মুফরাদ)।
📘(৬) অসহায় কন্যাসন্তানের দেখাশোনা ও প্রয়োজনীয় ব্যয় বহন করাকে উত্তম সদকা আখ্যা দিয়ে মহানবী সা: বলেছেন, ‘আমি কি বলব তোমাদেরকে কোনটি উত্তম সদকা? শোনো, সেটা হচ্ছে, তোমার সেই মেয়েটির জন্য দান, যাকে স্বামীগৃহ থেকে তোমার কাছে ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে আর তুমি ছাড়া তার জন্য রোজগার করার কেউ নেই’ (সহিহ বুখারি)।
📘(৭) হজরত আয়েশা রা: বলেন, একবার এক মহিলা তার দু’টি মেয়েকে নিয়ে আমার কাছে ভিা চাইল। তখন আমার কাছে একটি খেজুর ছাড়া আর কিছুই ছিল না। আমি তাকে ওই খেজুরটিই দান করলাম। সে ওই খেজুরটি নিয়ে তার দুই মেয়ের মধ্যে (সমানভাগে) ভাগ করে দিলো এবং সে এর থেকে কিছুই গ্রহণ করল না। তার পর সে মেয়ে দু’টিকে নিয়ে বেরিয়ে গেল। অতঃপর মহানবী সা: আমার কাছে আগমন করলে আমি তাঁকে এ ঘটনাটি অবহিত করলাম। তিনি বললেন, ‘যে ব্যক্তি মেয়েদের লালন-পালন, শিা ও বিয়ে দেয়ার ঝামেলায় পড়ল এবং তাদের প্রতি তার দায়িত্ব যথাযথ পালন করলÑ কিয়ামতের দিন এ মেয়েরা তার জন্য দোজখের প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়াবে। (অর্থাৎ সে জান্নাতি হবে)’ (মুসলিম শরিফ)।
কন্যাসন্তান হত্যার বিরুদ্ধে মহানবী সা: সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে নবুওয়াত পূর্ব যুগের এ প্রথাকে চিরতরে বন্ধ করেন। তিনি কুরআনের আয়াতটি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা করেন,
📗‘নিশ্চয় ওই সব লোক তিগ্রস্ত, যারা তাদের সন্তানদের নির্বুদ্ধিতার দরুন ও অজ্ঞতাবশত হত্যা করে’ (সূরা আনয়াম :১৪০)। কন্যাসন্তান জীবন্ত মাটিতে পুঁতে ফেলাকে জঘন্যতম হত্যাকাণ্ড বলে ঘোষণা করে মহানবী সা: পরকালে এর জন্য জবাবদিহির অনুভূতি সৃষ্টি করেন এবং কন্যাসন্তান হত্যাকে চরম গুনাহের কাজ বলে ঘোষণা করেন।
📗কুরআনের ভাষায়, ‘যখন জীবন্ত সমাধিস্থ মেয়েকে জিজ্ঞাসা করা হবে, কী অপরাধে তাকে হত্যা করা হয়েছিল?’ (সূরা তাকভির : ৮-৯)।
মহানবী সা: এ জঘন্য প্রথা রোধে ঘোষণা করেন, সর্বাপো বড় চারটি গুনাহের একটি হলো সন্তান হত্যা করা’ (সহীহ বুখারি)।
এভাবেই মহানবী সা: কন্যাসন্তান হত্যা রোধে সফল হতে পেরেছিলেন।
এভাবেই মহানবী সা: কন্যাসন্তান হত্যা রোধে সফল হতে পেরেছিলেন।
প্রাগৈতিহাসিক যুগে জন্ম নেয়া কন্যাসন্তানকে অলণে ও দুর্ভাগ্যের প্রতীক মনে করা হতো। তাই কাউকে কন্যাসন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার সংবাদ প্রদান করলে তার চেহারা কালো বিবর্ণ করা হয়ে যেত। যার ফলে তারা সন্তানকে জীবন্ত হত্যা করতেও কুণ্ঠাবোধ করত না। মহানবী সা: এ পথকে চিরতরে বন্ধ করলেন। এ প্রথার নিন্দা জানিয়ে আল্লাহ বলেন, ‘তাদের কাউকে যখন কন্যাসন্তান জন্মের সুসংবাদ দেয়া হয়, তখন তার মুখমণ্ডল কালো হয়ে যায় এবং অসহ্য মনঃকষ্টে পতিত হয়। তাকে (কন্যাসন্তান হওয়ার) যে সুসংবাদ দেয়া হয়, তার লজ্জায় সে নিজের দলের লোকেদের কাছ থেকে পালিয়ে বেড়ায়। সে চিন্তা করে, লজ্জার কারণ হওয়া সত্ত্বেও সে তার কন্যাসন্তানকে বাঁচিয়ে রাখবে, নাকি মাটিতে পুঁতে ফেলবে! জেনে রেখ! তারা কতই না মন্দ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে’ (সূরা নাহ্ল : ৫৮-৫৯)।
আয়াত দু’টিতে কন্যাসন্তানসংক্রান্ত এ ধারণাকে নিকৃষ্ট বর্ণনা করে এ থেকে বিরত থাকতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
ইসলামপ্রদত্ত মেয়েশিশুর আর্থসামাজিক মর্যাদা ও অধিকার ন্যায়ানুগ, ন্যায়বিচার ও ন্যায্যতার নিরিখে যথার্থ। এর বেশি বা কম করা হলে তা মানবতা, মানব প্রজন্ম এবং স্বয়ং কন্যাসন্তানের জন্য অকল্যাণকর ও তিকর হতো। মহামানব মহানবী সা: কন্যাসন্তানের উন্নয়নে যে অবদান রেখে গেছেন, তা সর্বকালের, সর্বযুগের সব মানব জাতির জন্য অনুসরণীয় আদর্শ হয়ে থাকবে চিরকাল।
No comments:
Post a Comment