Monday, August 3, 2015

শিশুদের প্রতি পিতা-মাতার কিছু দায়িত্ব ও কর্তব্য :




শিশুদের প্রতি পিতা-মাতার কিছু দায়িত্ব ও কর্তব্য :
১ – তাওহীদ তথা একত্ববাদের ভিত্তিতে কথা বলার উপর শিশুকে অভ্যস্ত করানো এবং তার প্রাণে উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন বিষয়াদির বীজ বপন করা; বিশেষ করে প্রথম পাঁচ বছরের মধ্যেই তা করতে হবে। সুতরাং গবেষকদের কেউ কেউ উল্লেখ করেন যে, শিশু তার প্রথম বছরগুলোতেই তার পূর্বপুরুষদের অধিকাংশ চিন্তাচেতনার আলোকে শিক্ষা গ্রহণ করে থাকে; কারণ, ৯০% শিক্ষা-বিষয়ক কার্যক্রম তার প্রথম বছরগুলোতেই সম্পন্ন হয়।
২.শিশুকে যিকিরসমূহ উচ্চারণে অভ্যস্ত করা: কালেমা, সুবহানআল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহু আকবর, লা হওলা ওয়াতা কুল্লা বিল্লাহ ইত্যাদি।
৩- শিশুর মনে আল্লাহর ভালবাসার বীজ রোপন করা।
৪- শিশুর মনে আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব ও তার ভয়ের অপরিহার্যতার বীজ বপন করা।
৫- শিশুর মনে মানুষের উপর আল্লাহর নজরদারী ও খবরদারীর বীজ রোপন করা।
৬- শিশুকে ভাল কথা বলার অভ্যাসে অভ্যস্ত করা, যেমন: শুকরিয়া বা জাযাকাল্লাহ খাইরান।
৭-গুরুত্বপূর্ণ দো‘আসমূহ,ঘুম খাওয়ার (পূর্বাপর) এবং বিভিন্ন স্থানে প্রবেশের যিকির তথা দো‘আসমূহ পাঠ অভ্যস্ত করা।
৮- শিশুদেরকে (আল্লাহর) আশ্রয়ে দেয়া, যেমনটি করেছেন রাসূলুল্লাহﷺ হাসান ও হোসাইন রা .-এর সাথে, যেমন অভিভাবক বলবে: “আমি আল্লাহর পরিপূর্ণ কালেমাসমূহের অসীলায় প্রত্যেক শয়তান, বিষাক্ত প্রাণী এবং প্রত্যেক কুদৃষ্টিসম্পন্ন চোখ থেকে নিরাপদ আশ্রয়ে দিচ্ছি।”যাতে শয়তান তাদেরকে শিকার করতে পারে না।
৯- আল-কুরআনুল কারীম মুখস্থ করাবে এবং তাকে তা শুনাবে। আর অনুরূপভাবে হাদিস থেকে কিছু মুখস্থ করাবে, বিশেষ করে ছোট ছোট হাদিসসমূহ।
১০ – শিশুদের সাথে গুরুত্বপূর্ণ কিচ্ছা-কাহিনীসমূহ থেকে কিছু আলোচনা করা; বিশেষ করে নবীর জীবনী থেকে যা শিশুর মধ্যে বড় রকমের শিক্ষামূলক প্রভাব ফেলবে এবং তার মনে উন্নত ও শক্তিশালী চরিত্রের বীজ বপন করবে।
১১– শিশুর আগ্রহ ও ইচ্ছাসমূহ প্রকাশ করতে এবং তার আল্লাহ প্রদত্ত মেধাসমূহের বিকাশে উদ্যোগ গ্রহণ করা।
১২– আর সাত বছর বয়সের সময় শিশুর সাথে আচার-আচরণের ক্ষেত্রে নতুন আরেক ধাপের সূচনা হয়; রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:“তোমাদের সন্তানদেরকে তোমরা সালাতের নির্দেশ দাও, যখন তারা সাত বছর বয়সে উপনীত হয় এবং তার কারণে তাদেরকে প্রহার কর, যখন তারা দশ বছর বয়সে উপনীত হয়। আর তাদের শোয়ার স্থান পৃথক করে দাও।” (আহমদ ও আবূ দাউদ)
আল্লাহ্ তায়ালা প্রতিটা মুসলিম পিতা-মাতাকে আল্লাহ্র দেয়া সবচেয়ে বড় নেয়ামত তার সন্তানকে নেক ভাবে গড়ে তোলার তৌফিক দান করুক ,এবং এ সন্তান যেন দুনিয়াতে এবং আখিরাতে শান্তি দেয় ও সম্মানিত করে —আমীন

No comments:

Post a Comment