Monday, August 3, 2015

মসজিদ পরিষ্কার রাখা, মসজিদ সুগন্ধময় রাখা এবং মসজিদ সংরক্ষণ করা




মসজিদ পরিষ্কার রাখা, মসজিদ সুগন্ধময় রাখা এবং মসজিদ সংরক্ষণ করা
_________________________________________________
আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা হতে হাদিস বর্ণিত, তিনি বলেন,
« أمر رسول الله صلى الله عليه و سلم ببناء المساجد في الدور وأن تنظف، وتطيب »
“রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে বিভিন্ন বাড়ীতে বাড়ীতে (তথা এলাকায়) মসজিদ বানানো [1] এবং মসজিদকে পরিষ্কার করা ও সুগন্ধময় করার নির্দেশ দেন”।[2]
সামুরা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত তিনি তার ছেলের নিকট এ বলে চিঠি লেখেন-
((أما بعد، فإن رسول الله صلى الله عليه و سلم كان يأمرنا بالمساجد أن نصنعها في دورنا، ونصلح صنعتها، ونطهرها)).
“অতঃপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে আমাদের এলাকায় মসজিদ বানানো এবং মসজিদের সংস্কার করা ও পবিত্র করার নির্দেশ দিতেন”।[3]
আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত তিনি বলেন,
أن رجلاً أسودَ أو امرأة سوداء كان يقمُّ المسجد فمات ولم يعلم النبي صلى الله عليه و سلم بموته، فذكره ذات يوم، فقال: « ما فعل ذلك الإنسان »؟ قالوا: مات يا رسول الله، قال: « أفلا آذنتموني » ؟ فقالوا: إنه كان كذا وكذا قصته، قال: فحقروا شأنه، قال: « دلّوني على قبره » أو قال: « على قبرها » فأتى قبرها فصلى عليها، [ثم قال: « إن هذه القبور مملوءة ظلمة على أهلها، وإن الله تعالى ينوِّرها لهم بصلاتي عليهم ».
“একজন কালো ব্যক্তি বা মহিলা মসজিদ পরিষ্কার করত।[4] লোকটি মারা গেল কিন্তু তার মৃত্যু সম্পর্কে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জানানো হয়নি। একদিন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার আলোচনা করে তার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে বললেন, ঐ লোকটি কি করলেন? তারা বলল, হে আল্লাহর রাসূল লোকটি মারা গেল। তিনি বললেন, তোমরা আমাকে জানাওনি কেন? তারা বলল, সে ছিল এমন এবং তার ঘটনা এই। মোট কথা তারা তার বিষয়টিকে খাট করে দেখলেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা আমাকে তার কবর দেখাও অথবা বললেন, তার [মহিলার] কবর দেখাও। তারপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার কবরের উপর এসে তার জন্য দু'আ করল। তারপর তিনি বললেন, কবরসমূহ কবর বাসীর জন্য অন্ধকারে পরিপূর্ণ। আর আল্লাহ তা‘আলা কবরসমূহের উপর আমার দু'আ করা দ্বারা আলোকিত করবেন।[5]
আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন,
بينما نحن في المسجد مع رسول الله صلى الله عليه و سلم، إذ جاء أعرابي فقام يبول في المسجد، فقال أصحاب رسول الله صلى الله عليه و سلم: مه، مه ؟ قال: قال رسول الله صلى الله عليه و سلم: « لا تزرموه دعوه » فتركوه حتى بال، ثم إن رسول الله صلى الله عليه و سلم دعاه فقال له: « إن هذه المساجد لا تصلح لشيء من هذا البول والقذر، إنما هي لذكر الله تعالى والصلاة، وقراءة القرآن » أو كما قال رسول الله صلى الله عليه و سلم، قال: فأمر رجلاً من القوم فجاء بدلوٍ من ماءٍ فشنَّه عليه)).
“একদিন আমরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে মসজিদে বসা ছিলাম তখন একজন গ্রাম্য লোক এসে মসজিদে দাড়িয়ে পেশাব করা আরম্ভ করলে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাহাবীগণ তাকে বলল, থাম থাম! রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা তাকে বাধা দিও না। তাকে তোমরা আপন অবস্থায় ছেড়ে দাও। তারপর তাকে তারা বাধা দিলেন না। সে নিরাপদে পেশাব করার পর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে ডেকে বললেন, নিশ্চয় মসজিদসমূহ আল্লাহ যিকর, কুরআন তিলাওয়াত ও সালাত আদায়ের জন্য। এখানে পেশাব-পায়খানা করা চলবে না। অথবা রাসূল যেভাবে বলেছেন। বর্ণনাকারী বলেন, তারপর এক লোককে এক বালতি পানি এনে তার উপর ঢেলে দেয়ার নির্দেশ দেন এবং পানি ঢেলে দেন।[6]
আনাস বিন মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,«البزاق في المسجد خطيئة، وكفَّارتها دفنه » “মসজিদে থু থু ফেলা অন্যায় আর তার কাফ্ফারা হল, তা দাফন করে দেয়া”। মুসলিমের অপর শব্দে হাদিসটি এভাবে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, «التفل في المسجد خطيئة وكفارتها دفنها» “মসজিদে থু থু ফেলা অন্যায়, আর তার কাফ্ফারা হল, তা দাফন করে দেয়া (অর্থাৎ পা মাড়িয়ে ঢেকে ফেলা)”।[7]
আবু যর রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
«عُرضت عليّ أعمال أمتي: حسنها وسيئها، فوجدت في محاسن أعمالها، الأذى يُماط عن الطريق، ووجدت في مساوئ أعمالها النخاعة تكون في المسجد ولا تدفن »
“আমার উম্মতের নেক আমল এবং বদ-আমলসমূহ আমার নিকট পেশ করা হল। আমি তাদের নেক আমলসমূহের মধ্যে দেখতে পেলাম রাস্তা হতে কষ্টদায়ক বস্তু সরানো। আর তাদের খারাব আমলসমূহে দেখতে পেলাম মসজিদে থু থু ফেলা হয়েছে অথচ তা দাফন করা হয়নি”।[8] ইমাম নববী রাহিমাহুল্লাহু বলেন, এ কথা স্পষ্ট এখানে যে খারাবী ও দুর্নামের কথা বলা হয়েছে, তা শুধু যে ব্যক্তি থু থু ফেলে তার সাথে খাস নয়; বরং যে ব্যক্তি দেখা সত্ত্বেও তা ঢেকে দয়ে দাফন করেনি অথবা খোঁচা ইত্যাদি দিয়ে পরিষ্কার করেনি সবই তার অন্তর্ভুক্ত।[9]
[1] বাড়ীতে বাড়ীতে মসজিদ বানানো বিষয়ে আলোচনা : সুফিয়ান রাহিমাহুল্লাহু বলেন, অর্থাৎ বিভিন্ন গোত্রে মসজিদ বানানো। দেখুন: আল্লামা ইবনুল আসীর রাহিমাহুল্লাহু এর জামেউল উসুল ২০৮/১১।
[2] আহমদ মুসনাদ ২৭৯/৬; আবু দাউদ, কিতাবুস সালাত, পরিচ্ছেদ: বাড়ীতে মসজিদ বানানো বিষয়ে আলোচনা, হাদীস নং ৪৫৫; তিরমিযি, কিতাবুল জুমুআ, মসজিদকে সু-গন্ধী লাগানো বিষয়ে আলোচনা, হাদিস নং ৫৯৪; ইবনে মাযা, কিতাবুল মাসাজেদ ওয়াল জামা‘আত, হাদিস নং ৭৫৮, ৭৫৯; আর আল্লামা আলবানী হাদিসটিকে সহীহ সূনানে আবু দাউদে সহীহ বলে আখ্যায়িত করেন, হাদিস নং ৯২/১।
[3] আবু দাউদ, সালাত অধ্যায়, পরিচ্ছেদ: বাড়ি বাড়ি মসজিদ বানানো বিষয়ে আলোচনা, হাদিস নং ৪৫৬। আল্লামা আলবানী রাহিমাহুল্লাহু সহীহ সূনানে আবু দাউদে হাদিসটিকে সহীহ বলে আখ্যায়িত করেন। ৯২/১।
[4] قَمُّ المسجد অর্থাৎ, পরিস্কার করা, দেখুন: আল্লামা মুনযিরির, আত-তারগীব ও আত-তারহীব: ২৬৮/১।
[5] বুখারি ও মুসলিম : বুখারি, কিতাবুস সালাত, পরিচ্ছেদ: كنس المسجد والتقاط الخرق، والأذى، والعيدان، হাদিস নং ৪৫৮; কিতাবুল জানায়েয, পরিচ্ছেদ: দাফনের পর কবরের উপর সালাত আদায়, হাদিস নং ১৩৩৭; মুসলিম, কিতাবুল জানায়েয, পরিচ্ছেদ: দাফনের পর কবরের উপর সালাত আদায়, হাদিস নং ৯৫৬।
[6] বুখারি ও মুসলিম: কিতাবুল ওজু অধ্যায়, পরিচ্ছেদ: মসজিদের ভিতরে পেশাবের উপর পানি ঢেলে দেয়ার আলোচনা, হাদিস নং, ২২১; মুসলিম, তাহারাত অধ্যায়, পেশাব ইত্যাদি নাপাক বস্তু যখন মসজিদে পাওয়া যায়, তা ধোয়া ওয়াজিব হওয়া প্রসঙ্গে, আর যমিন পানি দ্বারা পরিস্কার হয়ে যায়, কোন প্রকার খনন করা ছাড়াই, হাদিস নং ২৮৫।
[7] বুখারি ও মুসলিম: বুখারি, কিতাবুস সালাত, মসজিদে থু থু ফেলার কাফফরাহ, হাদিস নং ৪১৫; মুসলিম, কিতাবুল মাসাজিদ ও সালাতের স্থানসমূহ, সালাত ইত্যাদিতে মসজিদে থু থু ফেলা নিষিদ্ধ হওয়া এবং মুসল্লি তার সামনে বা ডানে থু থু ফেলা নিষিদ্ধ হওয়া বিষয়ে আলোচনা হাদিস নং ৫৫২।
[8] মুসলিম, কিতাবুল মাসাজেদ, পরিচ্ছেদ, মসজিদে থু থু ফেলা নিষিদ্ধ হওয়া বিষয়ে আলোচনা হাদিস নং ৫৫৩।
[9] সহীহ মুসলিমের উপর ইমাম নববীর ব্যাখ্যা ৪৫/৫।

No comments:

Post a Comment