Wednesday, August 5, 2015

মূর্তি পূজা বনাম কবর বা মাজার পূজার সূচনা




মূর্তি পূজা বনাম কবর বা মাজার পূজার সূচনা
হযরত আদম (আঃ) থেকে নূহ (আঃ) পর্যন্ত তৎকালীন পৃথিবীর সকল মানুষই মুসলিম ছিল, তাওহীদের উপর অটল ছিল, কোন ফেরক্বা বন্দী ছিলনা, এমন অবস্থা হযরত নূহ আঃ এর জমানা পর্যন্ত চলতে থাকে।
ইমাম বভবী (রঃ) বলেন, হযরত আদম (আঃ) ও নূহ (আঃ) এর মধ্যবর্তী সময়ে ৫ জন বিশিষ্ট মুত্তাকী ধমভীরু নেককার লোক ছিল, যার বর্ণনা সূরা নূহতে এ ভাবেই এসেছে , , ﻭﻓﺎﻟﻮﺍ ﻻ ﺗﺬﺭﻥ ﺍﻟﻬﺘﻜﻢ ﻭﻻ ﺗﺬﺭﻥ ﻭﺩﺍ ﻭﻻﺳﻮﺍﻋﺎ ﻭﻻ ﻳﻐﻮﺙ ﻭﻳﻌﻮﻕ ﻭﻧﺴﺮﺍ ﺍﻻﻳﺔ ﺳﻮﺭﺓ ﻧﻮﺡ এ ৫ জন যথাক্রমে ওয়াদ, সূয়া , ইয়াগুছ, ইয়াউক, ও নসর , এরা প্রকৃত পক্ষে সে জামানার মুত্তাকী পরহেজগার লোক বা সে জমানার অলী , সবাই এদের সন্মন করত, তাদের কৃত নছিহত শুনতো আমল করত. ভক্তরা সূদীঘকাল পযন্ত তাদের পদান্ক অনূসরন করে সঠিক ও তাওহীদের উপর অটল ছিল।
তাদের সকলেরে ইন্তেকালের পর শয়তান মানুষবেশী জুব্বা পাগড়ি পরিধান করে ভক্তদের কাছে এসে প্ররোচনার জাল আঁটল এভাবে যে,
১৷ তোমরা যে সকল মহাপুরুষদের পদান্ক অনূসরন করছ তাদের ছবি এঁকে উপাসানলয়ে রেখে এবাদত করলে, এবাদতে পূর্ণতা লাভ করবে, মানুষবেশী শয়তানের পরামর্শে তাই করল, এ ভাবে অনেক দিন চলতে থাকে।
২৷ পরবর্তীতে এদের মৃত্যুর পর অন্য প্রজন্মের কাছে অন্য আর একটি পন্দী আঁটল এ ভাবে যে তোমাদের মুরুব্বীদের মূর্তী তৈরী করে তোমদের সামনে রেখে দাও তাহলে আল্লাহর এবাদতে একাগ্রতা ও পূর্ণতা লাভ করবে, তারা শয়তানের ধোঁকা বুঝতে না পেরে প্রতিকৃতি উপাসনালয়ে রাখল, এদের স্মৃতি জাগরীত করে এবাদতে বিশেষ পুলক অনুভব করতে লাগল, এ ভাবে অনেক দিন চলতে লাগল ৷
তবে এখনও মূর্তি পুজা শুরু হয়নি সবে মাত্র রং দিতে আছে-
তৃতীয় ধাপে এসে পরবর্তী বংশধরদের কাছে এসে এমন ভাবে প্ররোচনা করল যে মালাউন শয়তান কামীয়াব হয়ে গেল যে, আর ভক্তরা পথভ্রষ্ট হয়ে ইতিহাসের সবনিন্ম আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হলো।
৩৷ শয়তান বলল যে, তোমাদের পূরুষরাই শুধু মাত্র এ সব মূর্তির সন্মানই করেনি বরং এ সকল মূর্তিরই এবাদত করেছে , এগুলোই হচ্ছে ওদের উপাসক বা খোদা।
সুতরাং তোমরা ও তোমাদের বাপ দাদার অনুসরণকল্পে এদেরই এবাদত কর। কাজেই শয়তানের পরামর্শে তাই করল।
এ ভাবে পৃথিবীতে সর্ব প্রথম মূর্তি পূজার সূচনা হয়।
এর ফলে তখনকার সময় প্রায় সকল মানুষই মুর্তি পূজায় লিপ্ত হয়ে এসকল মূর্তির কাছে মনোবসনা পূ্ন্যের কামনা করত।
কেউ কেউ এ সকল মূর্তিকেই স্বয়ং খোদাও মনে করতো। কেউ বা খোদাকে পাওয়ার মাধ্যম মনে করতো ৷
এ ভাবে যখন গোটা জাতিই শিরকে লিপ্ত হলো চতুরদিকে কূফরীর অন্ধকার চেয়ে গেছে ঠিক তেমনি সে মূহুর্তে মহান আল্লাহ তায়ালা তাদের হেদায়েতের জন্য হযরত নূহ (আঃ) কে রসুল হিসাবে প্রেরণ করলেন ৷
কিন্তু তিনি ৯৫০ বৎসর পর্যন্ত দাওয়াতের কাজ করার পর মাত্র ৪০ জন বা ৪০ জোড়া মহিলা পুরুষ মিলে তাঁর ধর্ম গ্রহণ করলেন।
অবশেষে তিনি ওহী মারফত জানতে পারলেন যে এ জাতি আর হেদায়েত পাবেনা তখনি আল্লাহর হুকুমে তিনি তাদের ধবংসের জন্য দোয়া করলেন এবং আল্লাহ তায়ালা মহাপ্লাবন দারা সকল কাফেরদের ধ্বংস করে দিলেন।
তেমনিভাবেই আজকাল আমাদের দেশের স্বার্থান্বেষী পেট-পূজারী গুটি কয়েক আলেমের ছত্রছায়ায় কবর কেন্দ্রিক লাল-সালু কাপড়, মোমবাতি-আগরবাতি জ্বালিয়ে গড়ে তুলছে শিরকের কারখানা। সেখানেই করা হচ্ছে ঈমান বিধংসী কর্মকান্ড।
বর্তমানে আমাদের দেশে কবরকে কেন্দ্র করে যা করা হচ্ছে, পূর্বেকার যুগে ও প্রাথমিকভাবে এমন কর্মকান্ড করা হতো যার ফলে গোটা জাতিকে কুফরের অন্ধকারে ফেলিয়ে ধ্বংস করা হয়েছিল। এখনও অদূর ভবিষ্যতের এ দেশের অবস্থা এমন হতে পারে বলে আশংকা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
মূর্তি পূজক দের অনূষ্ঠান
========================
মূর্তি পূজকরা সাধারনত ৪ টি কাজ করে থাকে
[১] বাৎসরিক ২ টি বড় অনূষ্ঠান দূর্গাপূজা ও কালীপূজা এ ছাড়াও আরও ছোট ছোট অনূষ্ঠান।
[২] প্রতিমাদের সামনে প্রদীপ,মোমবাতি-আগরবাতি ইত্যাদী প্রজ্বলিত করে।
[৩] এদের নামে পশু / পাঁঠা বলী দিয়ে থাকে
[৪] প্রতিমাদের সামনে মাথা নত ও সেজদা করে থাকে
দুর্গার পুষ্পাঞ্জলি মন্ত্র বলে, ‘আয়ুরারোগ্যং বিজয়ং দেহি দেবি নমস্তুতে। রূপং দেহি যশো দেহি ভাগ্যং ভগবতি দেহি মে। পুত্রান দেহি ধনং দেহি সর্ব্বকামাংশ্চ দেহি মে।।’ (হে ভগবতী, আপনাকে প্রণাম করি, আপনি আমাকে রোগমুক্ত করুন, বিজয়ী করুন, যশ ও সৌভাগ্য প্রদান করুন, পুত্র ও ধন দিন এবং আমার সকল কামনা পূর্ণ করুন।)
মাজার পন্থীদের অনুষ্ঠান
==========================
মাজার পন্থীদের ও ৪ টি কাজ
[১] বাৎসরিক ওরশ ও মিলাদ মাহফিল সহ আরও কত কি
[২] কবরের সামনে মোমবাতি-আগরবাতি প্রজ্বলনকরণ
[৩] পীরের / মাজারের নামে পশু কোরবানী /মান্নত করণ
[৪] কবরওয়ালার কাছে কিছু চাওয়া, মনোবাসনা পূর্ণের জন্য কবরকেন্দ্রিক দোয়া করা, ক্ষেত্র বিশেষে কবর কে সেজদা করা ইত্যাদি।
আর মাজার পন্থীরা মাজার/কবর/ পীরের কাছে ধন সম্পত্তি /সন্তান /রোগমুক্তি/ মনোবাসনা পূর্ণের দোয়া করে থাকে।

No comments:

Post a Comment