
এশা এবং ফজরের নামাজ জামাআতের সহিত পড়ার মর্যাদা সম্পর্কিত একটি হাদিস, বর্ণনাকারী সাহাবীর পরিচয়, এবং হাদিস থেকে শিক্ষাঃ
----------------
------------------------
ওসমান বিন আফফান [রাদিয়াল্লাহু আনহু] থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] কে আমি বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: “যে ব্যক্তি জামাতের সহিত এশার নামাজ পড়বে, সে যেন অর্ধেক রাত পর্যন্ত ইবাদত উপাসনাতেই রতো থাকা হিসেবে বিবেচিত হবে। আর যে ব্যক্তি ফজরের নামাজ জামাতের সহিত পড়বে, সে যেন সারা রাত নামাজ পড়াতেই রতো থাকা হিসেবে বিবেচিত হবে”। [সহীহ মুসলিম, হাদীস নং 260 - (656) ]।
* এই হাদীস বর্ণনাকারী সাহাবীর পরিচয়:
ওসমান বিন আফফান বিন আবুল আস আলকুরাশী। হস্তী বাহিনীর ছয় বছর পর তিনি মাক্কা শহরে জন্ম গ্রহণ করেন। আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] নবুওয়াত প্রাপ্ত হওয়ার পরে পরেই তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। তিনি হলেন আমীরুল মুমিনীন এবং খোলাফায়ে রাশেদীনের মধ্যে তৃতীয় খালীফা। তিনি নিজ স্ত্রী আল্লাহর রাসূলের মেয়ে রোকাইয়্যাকে সঙ্গে করে সর্ব প্রথমে আবুসিনিয়ায় বা ইথিওপিয়া দেশে হিজরত করেন। তিনি নিজের জান ও মাল দ্বারা ইসলামের সাহায্য করেন। তিনি তাবুক যুদ্ধে সৈন্য বাহিনী তৈরির জন্য 950টি উষ্ট্র এবং 50 টি ঘোড়া প্রদান করেন। 20 হাজার দিরহাম মুদ্রা দিয়ে মাদীনায় রোমা কুয়া ক্রয় করে মুসলমানদের জন্য তিনি সাদাকা জারিয়া হিসেবে দান করে দেন। মাসজিদে নবাবী প্রশস্ত করণেও তিনি 25 হাজার দিরহাম মুদ্রা দান করেন। ওমার [রাদিয়াল্লাহু আনহু] এর মৃত্যুর পর মুসলিম জাহানের তিনি তৃতীয় খালীফা নিযুক্ত হন। তিনি পবিত্র কুরআন একত্রিত করার কাজ সম্পন্ন করেন। তাঁর খেলাফতের সময় এশিয়া মহাদেশ ও আফ্রিকা মহাদেশে মহা বিজয়ের র্কাযক্রম সম্পাদিত হয়। তাঁর বর্ণিত হাদীসের সংখ্যা হচ্ছে 146 টি। তিনি মাদীনায় স্বীয় বাসভবনে দুষ্কৃতিকারী পাপাচারীদের হাতে সন 35 হিজরীতে 80 অথবা 90 বছর বয়সে শাহাদাত বরণ করেন [রাদিয়াল্লাহু আনহু] ।
* এই হাদীস হতে শিক্ষণীয় বিষয়:
1) যত্নসহকারে ফজর এবং এশার নামাজ জামাআতের সহিত পড়ার প্রতি প্রকৃত ইসলাম ধর্ম উৎসাহ প্রদান করে, যেমন অন্যান্য ফরজ নামাজ জামাআতের সহিত পড়ার প্রতিও প্রকৃত ইসলাম ধর্ম উৎসাহ প্রদান করে।
2) এই হাদীসটি যত্নসহকারে ফজর এবং এশার নামাজ জামাআতের সহিত পড়ার মহা মর্যাদার বিবরণ পেশ করে। সুতরাং যে ব্যক্তি জামাতের সহিত ফজর এবং এশার নামাজ পড়বে, সে ব্যক্তি যেন সারা রাত ইবাদত উপাসনার মাধ্যমেই অতিবাহিত করার মত বিবেচিত হবে। আর যে ব্যক্তি জামাতের সহিত উক্ত দুইটি নামাজের মধ্যে থেকে একটি নামাজ জামাতের সহিত পড়বে, সে ব্যক্তি যেন অর্ধেক রাত পর্যন্ত ইবাদত উপাসনার মাধ্যমেই অতিবাহিত করার মত বিবেচিত হবে।
No comments:
Post a Comment