
আল্লাহ নাম ব্যবহার করে নতুন একটি প্রতারণা!
প্রতিদিন সকাল করে টিভিতে (Sony আট সহ বেশকিছু চ্যানেলে) একটি লকেটের প্রচারণা চালানো হচ্ছে।
লকেটের নাম- আল্লাহ বাররকাত লকেট।
সেখানে কিছু মনগড়া কিচ্ছা-কাহিনীর মাধ্যমে ১০০% গ্যারান্টি সহকারে বলা হচ্ছে- এই আল্লাহ ববারাকাতী লকেট বিশ্বাসের সঙ্গে গলায় ঝুলিয়ে রাখলে সব ধরণের বিপদ-আপদ,জিনের আছর,কুনজর, দুঃখ-কষ্ট, অভাব-অনটন, রোগ, যন্ত্রণা, পারিবারিক ঝামেলা ইত্যাদি সকল প্রকার ব্যর্থতা থেকে সাত দিনের মাথায় মুক্তি মিলবে।
ভাবখানা এমন, নামাজ কালামের দরকার নাই! কোন আমল-আখরকেরও প্রয়োজন নাই। কেবল, এই লকেট গলায় রাখলেই আলাউদ্দীনের চেরাগের মত আল্লাহপাক সব সমস্যার সমাধাণ করে দিবেন!
আচ্ছা!
ধরুন! প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনে যে সকল মন্ত্রী-মিনিস্টার, চেয়ারম্যান, মেম্বার ইত্যাদি প্রতিনিধিগণ দেশের উন্নয়নের জন্য কাজ করছেন! তারা যদি মনে করেন, প্রধানমন্ত্রীর আদেশগুলো বাস্তবায়ন না করে শুধু শেখ হাসিনা" লেখা একটি লকেট গলায় ঝুলিয়ে রাখলেই সব অটোমেটিক বাস্তবায়ন হয়ে যাবে।
তাহলে কি হবে?
কোশ্চেন কালেও হবে না।
তেমনই আল্লাহ পাকের আদেশ নিষেধ কুরআন সুন্নাহ্ মোতাবেক বাস্তবায়ন না করে শুধু " আল্লাহ নামের লকেট গলায় ঝুলিয়ে রাখলেই আল্লাহকে পাওয়া যাবে না। সব সমস্যার সমাধাণও হবে না।
যদি তাই হতো!
তাহলে রাসুলাল্লাহ (সাঃ) এবং তাঁর সাহাবাগণ কেন নিজের জীবন বিসর্জন দিয়ে কালিমার পতাকাকে উড্ডিন করতে গেলেন?
কেন নামাজ, রোজা, হজ্জ, যাকাত ইত্যাদি বিধানগুলোকে সমাজে প্রতিষ্ঠিত করতে গেলেন?
কেনই বা এত ইবাদাত এবং আমলিয়াতের উপর বিশ্বনবী তাগিদ দিলেন?
এজন্য যাঁরা টিভিতে বা অনলাইনে এই সমস্ত এ্যড দেখে এসব ক্রয় করে গলায় ঝুলিয়ে রাখছেন বা রাখার পরিকল্পনা করছেন! দয়া করে একটিবার কুরআন এবং সুন্নাহ এ ব্যাপারে কী বলে একটু জানার চেষ্টা করুন।
আমি সংক্ষিপ্ত ভাবে কিছু তুলে ধরলাম। বিস্তারিত জানবার দায়িত্ব আপনার!
★ নবী করীম (সা) বলেনঃ
إِنَّ الرُّقَى وَالتَّمَائِمَ وَالتِّوَلَةَ شِرْكٌ)
“ঝাড়-ফুঁক করা, তাবীজ লটকানো এবং স্বামী বা স্ত্রীর মাঝে ভালবাসা সৃষ্টির জন্যে যাদুমন্ত্রের আশ্রয় নেয়া শির্ক”।[১]
★ নবী করীম (সা) অন্য এক হাদীছে বলেনঃ
(مَنْ تَعَلَّقَ تَمِيمَةً فلا أتم الله له ومن علق ودعة فلا ودع الله له)
“যে ব্যক্তি তাবীজ লটকালো, আল্লাহ্ যেন তার উদ্দেশ্য পূর্ণ না করেন। আর যে ব্যক্তি রুগমক্তির জন্যে শামুক বা ঝিনুকের মালা লটকালো, আল্লাহ্ যেন তাকে শিফা না দেন”।[২]
★ তিনি অন্য এক হাদীছে বলেনঃ
(مَنْ تَعَلَّقَ تَمِيمَةً فَقَدْ أَشْرَكَ)
“যে ব্যক্তি তাবীজ লটকালো সে শিরিক করল”।[৩]
★ নবী (সাঃ) এক ব্যক্তির হাতে পিতলের একটি আংটা দেখে বললেনঃ এটি কী? সে বললঃ এটি দুর্বলতা দূর করার জন্যে পরিধান করেছি। তিনি বললেনঃ
(انْزِعْهَا فَإِنَّهَا لَا تَزِيدُكَ إِلَّا وَهْنًا فَإِنَّكَ لَوْ مِتَّ وَهِيَ عَلَيْكَ مَا أَفْلَحْتَ أَبَدًا)
“তুমি এটি খুলে ফেল। কারণ এটি তোমার দুর্বলতা আরো বাড়িয়ে দিবে। আর তুমি যদি এটি পরিহিত অবস্থায় মৃত্যু বরণ কর, তাহলে তুমি কখনই সফলতা অর্জন করতে পারবে না”।[৪]
★ হযরত হুজাইফা (রাঃ) দেখলেন এক ব্যক্তির হাতে একটি সুতা বাঁধা আছে। তিনি তা কেটে ফেললেন এবং কুরআনের এই আয়াতটি পাঠ করলেনঃ
وَمَا يُؤْمِنُ أَكْثَرُهُمْ بِاللَّهِ إلاَّ وَهُمْ مُشْرِكُون
“তাদের অধিকাংশই আল্লাহকে বিশ্বাস করে; কিন্তু সাথে সাথে শিরকও করে”। (৫)
তথ্যসূত্র -
[১] – আবু দাউদ, অধ্যায়ঃ কিতাবুত্ তিব্ব। শায়খ নাসির উদ্দীন আলবানী হাদীছ সহীহ বলেছেন। দেখুনঃ সিলসিলায়ে সহীহা হাদীছ নং- (৬/১১৬১)। এখানে যে ঝাড়ফুঁক করাকে শির্ক বলা হয়েছে, তা দ্বারা শির্কী কালামের মাধ্যমে ঝাড়ফুঁক উদ্দেশ্য। তবে ঝাড়ফুঁক যদি আল্লাহর কালাম, আল্লাহর সিফাত বা সহীহ হাদীছে বর্ণিত কোন বাক্যের মাধ্যমে হয়, তাতে কোন অসুবিধা নেই।
[২] – হাকেম, (৪/২১৯। ইমাম আলবানী (রঃ) হাদীছটিকে যঈফ বলেছেন। দেখুনঃ সিলসিলায়ে যঈফা, (৩/৪২৭)
[৩] – মুসনাদে আহমাদ, (৪/১৫৬) ইমাম আলবানী সহীহ বলেছেন, দেখুন সিলসিলায়ে সহীহা হাদীছ নং- (১/৮০৯)
[৪] – মুসনাদে আহমাদ, দেখুনঃ আহমাদ শাকেরের তাহকীক, (১৭/৪৩৫) তিনি হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন।
(৫) সূরা ইউসুফ, আয়াত-১০৬
No comments:
Post a Comment