
কুলক্ষনে বিশ্বাস:
----------------------------
ইসলামে কুলক্ষণে বিশ্বাস করা একটি কুসংস্কার- যা সম্পূর্ণ হারাম এবং একটি শিরকী কাজ।
فَإِذَا جَاءَتْهُمُ الْحَسَنَةُ قَالُوْا لَنَا هَـذِهِ وَإِنْ تُصِبْهُمْ سَيِّئَةٌ يَطَّيَّرُوْا بِمُوْسَى وَمَن مَّعَهُ-
‘যখন তাদের (ফের‘আউন ও তার প্রজাদের) কোন কল্যাণ দেখা দিত তখন তারা বলত, এটা আমাদের জন্য হয়েছে। আর যদি কোন অকল্যাণ হ’ত, তারা তখন মূসা ও তাঁর সাথীদের অলুক্ষণে বলে গণ্য করত’।
আরবরা যাত্রা ইত্যাদি কাজের প্রাক্কালে পাখি উড়িয়ে দিয়ে তার শুভাশুভ নির্ণয় করত। পাখি ডাইনে গেলে শুভ মনে করে সে কাজে নেমে পড়ত। আর বামে গেলে অশুভ মনে করে তা হতে বিরত থাকত।
মাস, দিন, সংখ্যা, নাম ইত্যাদিকে দুর্ভাগ্য বা অশুভ প্রতীক হিসাবে চিহ্নিত করাও তাওহীদ পরিপন্থী হারাম আক্বীদার অন্তর্ভুক্ত। শুভ অশুভ লক্ষন সম্বন্ধে সমাজে অবস্থানরত কিছু কুসংস্কারের নমুনা নিম্নে উল্লিখিত হলো:
অথচ এই রকম যত্তগুলো ভালো বা মন্দ / শুভ-অশুভ / মংগল-অমংগলের লক্ষণ আছে এই সবগুলো ভ্রান্ত শিরকি বিশ্বাস। তাকদীরের ভালো বা মন্দের একমাত্র মালিক আল্লাহ তাআ’লা। অন্য কোনো কিছু তাকদীরের জন্য ভালো বা মন্দের কারণ মনে করা ঈমান বিরোধী কুসংস্কার। অনেকে বলে, আমরা এইগুলো বিশ্বাস করিনা, আমিতো এইগুলো মজা করে বলছি। আপনার জানা থাকা উচিত, সব কিছু নিয়ে মজা করা চলেনা। কেউ যদি মজা করে দুর্গাকে সেজদা করে সেটা শিরক। কেউ যদি মজা করেও শিরকি কুফুরী কথা বলে সেটা শিরকি কুফুরী বলেই গণ্য হবে !। এজন্য যারা কুলক্ষণে বিশ্বাসী রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাদেরকে তাঁর উম্মতের অন্তর্ভুক্ত গণ্য করেননি।
কেউ কোন বিষয়ে কুলক্ষণে নিপতিত হলে তাকে এজন্য কাফফারা দিতে হবে। কাফফারা এখানে কোন অর্থ কিংবা ইবাদত নয়; বরং পাপ বিমোচক একটি দো‘আ।
اَللَّهُمَّ لاَ خَيْرَ إِلاَّ خَيْرُكَ وَلاَ طَيْرَ إِلاَّ طَيْرُكَ وَلاَ إِلَهَ غَيْرُكَ–
উচ্চারণ : আল্লা-হুম্মা লা খায়রা ইল্লা খায়রুকা ওয়ালা ত্বায়রা ইল্লা ত্বায়রুকা ওয়ালা ইলা-হা গায়রুকা।
অর্থ: ‘হে আল্লাহ! আপনার কল্যাণ ছাড়া কোন কল্যাণ নেই। আপনার সৃষ্ট কুলক্ষণ ছাড়া কোন কুলক্ষণ নেই। আর আপনি ছাড়া কোন (হক) মা‘বূদও নেই’।
তবে সুলক্ষণ-কুলক্ষণের ধারণা মনে জন্ম নেয়া স্বভাবগত ব্যাপার, যা সময়ে বাড়ে ও কমে। এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল বা নির্ভর করা।
– মুহাম্মাদ ছালেহ আল মুনাজ্জিদ
No comments:
Post a Comment