Tuesday, December 26, 2017

প্রশ্নঃ আমরা শুনেছি সূরা মুলক তেলাওয়াত করলে তা পাঠকারীর জন্য সুপারিশ করবে, এই হাদিস কি সহি?*



No automatic alt text available.



*প্রশ্নঃ আমরা শুনেছি সূরা মুলক তেলাওয়াত করলে তা পাঠকারীর জন্য সুপারিশ করবে, এই হাদিস কি সহি?*
------------------
উত্তরঃ সূরা মুলক (৬৭ নং সূরা) তেলাওয়াতের ফজিলত সমূহ বর্ণনা করা হলঃ
🌺1. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, সূরা মুলক তার পাঠকারীর জন্য কিয়ামতের দিন ততক্ষণ পর্যন্ত শাফায়াত করতে থাকবে যতক্ষণ না তাকে ক্ষমা করে হবে। -তিরমিযী
.
🌺2. আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘কুরআনের তিরিশ আয়াত বিশিষ্ট এমন একটি সূরা আছে , যা তার পাঠকারীর জন্য সুপারিশ করবে এবং শেষাবধি তাকেক্ষমা করে দেয়া হবে,সেটা হচ্ছে ‘তাবা-রাকাল্লাযী বিয়্যাদিহিল মূলক’ (সূরা মূলক)।- তিরমিযী (২৮৯১),সুনানে আবু দাউদ(১৪০০), ইবনে মাজাহ (৩৭৮৬)
.
🌺3. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সূরা মুলক পাঠ না করে কখনও ঘুমাতেন না। - তিরমিযী (২৮৯২), মুসনাদে আহমাদ (১৪৬৫৯)
.
🌺4. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, আমি প্রত্যেক মুমিনের অন্তরে সূরা মুলক থাকা পছন্দ করি। - ফতহুল বয়ান।
🌺5.প্রতিদিন সুরা মুলক তেলাওয়াত করলে আশা করা যায় আল্লাহর রহমতে কবরের আজাব ও কেয়ামতের দিন শাস্তি থেকে নিরাপদ থাকা যাবে।
আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) বলেছেনঃ *“যে ব্যক্তি প্রতিদিন রাতের বেলা তাবারাকাল্লাযী বিয়াদিহিল মুলক (সুরা মুলক) তেলাওয়াত করবে আল্লাহ তাকে কবরের আজাব থেকে রক্ষা করবেন।* রাসুলুল্লাহ সাঃ এর যামানায় এই সুরাটিকে আমরা “আল-মা’আনিয়াহ” বা সুরক্ষাকারী বলতাম। যে রাতের বেলা এই সুরাটি পড়বে সে খুব ভালো একটা কাজ করলো”।*
সুনানে আন-নাসায়ী ৬/১৭৯, শায়খ আলবানীর মতে হাদীসটি হাসান সহীহ, সহীহ আত-তারগীব ওয়াল তারহীব ১৪৭৫।
*ঘুমের পূর্বে সূরা সাজদাহ এবং সূরা মূলক পড়া মুস্তাহাব*
🍃🔹🔹
হাদীসে প্রখ্যাত সাহাবী জাবের রা. থেকে বর্ণিত হয়েছে যে,

{أنَّ النَّبيَّ صلَّى اللَّهُ عليهِ وسلَّمَ كانَ لا ينامُ حتَّى يقرأَ {الم تَنْزِيلُ} و{تَبَارَكَ الَّذِي بِيَدِهِ الملْكُ
*“নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আলিম লাম তানযীল (অর্থাৎ সুরা সাজদাহ) এবং তাবারাকাল্লাহ বি ইয়াদিহিল মুলক (অর্থাৎ সুরা মুলক) না পড়া পর্যন্ত ঘুমাতেন না।”*
(মুসনাদে আহমদ, তিরমিযী। অনেক মুহাদ্দিস উক্ত হাদীস দুটিকে সহীহ বলেছেন। তাদের মধ্যে ইমাম আলবানী রহ.। দ্রষ্টব্য, জামেউস সহীহ, হা/৪৮৭৩ আর ইবনে হাজার আসকালানী, এটিকে হাসান বলেছেন। দ্রষ্টব্য: তাখরীজ মিশকাতুল মাসাবীহ, ২/৩৮০)
সুতরাং উক্ত হাদীসের আলোকে ঘুমের পূর্বে উক্ত দুটি সূরা পাঠ করা মুস্তাহাব।
তবে সাধারণভাবে যে কোন সময় *সূরা মূলক* পড়লে কিয়ামতের দিন এটি পাঠকারীর জন্য শাফাআত করবে বলে হাদীস বর্ণিত হয়েছে।
(জামে তিরমিযী। ইমাম তিরমিযী ও ইমাম আলবানী এটিকে হাসান বলে সাব্যস্ত করেছেন)
🔹🔹🔹🍃
আল্লাহু আলাম।

No comments:

Post a Comment