
জ্বীন শায়ত্বান ও যাদুটোনার আছর এবং বদনযর থেকে বাচার উপায়।
-------------------------------------------
এ জাতীয় রোগে আক্রান্ত হাজার হাজার রুগী রয়েছে যারা চিকিত্সার জন্য ফাসেক মার্কা কবিরাজদের নিকট যায়, তখন ঐ সব মুশরেকী আক্বীদার যাদুকার ও কবিরাজগণ তখন শির্কি মন্ত্র তন্ত্র ও বিভিন্ন কুফরী কাজকর্ম করায় ফলে উভয়েই ঈমান হারা হয়! তাই আসুন আমরা ইসলামী শরীঈ পদ্ধতিতে তা জেনে নিয়।
(1) আপনাকে তাওহীদবাদী তথা বিশুদ্ধ আক্বীদায় বিশ্বাসী মুসলিম হতে হবে তথা সকল প্রকার ছোট বড় শির্ক থেকে বেঁচে থাকতে হবে ।
(2) খালেছ মনে সকল পাপ পঙ্কীলতা থেকে আল্লাহ্ তাআলার নিকট তাওবা করতে হবে।
(3) আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল (সাঃ) কেই একক ভাবে আনুগত্য ও অনুসরণ করতে হবে ।
(4) বাড়িতে ঈমানী পরিবেশ তৈরি করতে হবে, তথা ঘর থেকে সকল প্রকার ছবি মূর্তি থেকে ঘর বাড়ি পাক পবিত্র করতে হবে যাতে আল্লাহ্ তাআলার ফেরেস্তারা বাড়িতে চলাচল করতে পারেন।
এ প্রসঙ্গে রাসূলে আকরাম (সাঃ) বলেছেনঃ যে ঘরে ছবি থাকে সে ঘরে ফেরেস্তারা প্রবেশ করে না ( বুখারী ও মুসলিম )
(5) বাড়ি ঘরকে গান বাজনা থেকে পবিত্র রাখতে হবে।
(6) রোগাক্রান্ত ব্যক্তি সহ বাড়িতে সবাইকেই শরীর থেকে তাবীজ কবয সূতা তাগা কড়ি এ জাতীয় কিছু বাঁধা থাকলে তা খুলে আগুনে জ্বালিয়ে দিতে হবে, এমনকি কোন বড় হুজুর হাদীছ কুরআনের তাবীজ দিলেও তা চলবে না বরং সকল প্রকার তাবীজ ব্যবহার করাকে হাদীছে শির্ক বলা হয়েছে ( দ্রঃ মুসনাদে আহমদ হাদীছ ছহীহ )
(7) বাড়িতে কেউ শরীয়াতের হুকুম অমান্য করবে না, যেমন ছালাত পরিত্যাগ করা, জামাতের সাথে ছালাত আদায় না করা, অসময়ে ছালাত আদায় করা, মহিলারা বেপর্দায় চলাচল করা, পুরূষেরা দাড়ি চেচে ফেলা ইত্যাদি ।
( 8) সফলতার জন্য নিজেকে একমাত্র আল্লাহ্ তাআলার নিকটেই সাহায্য চাইতে হবে ।
(9) অধিক সংখ্যায় আল্লাহ্ তাআলার যিকির করতে হবে, এ ব্যাপারে কুরআন হাদীছে বহু আদেশ উপদেশ করা হয়েছে এবং বড়ই ফযীলতের কথা বলা হয়েছে, যেমন এরশাদ হচ্ছেঃ
জেনে রাখুন্ আল্লহর যিকিরই অন্তরসমূহ প্রশান্তি পায় (সুরা আর রাআদ 28) ।
অন্যত্রে যিকির আযকার না করার কুফল সম্পর্কে বলেনঃ
আর যে পরম করুণাময় এর যিকির থেকে বিমুখ থাকে আমি একজন শায়ত্বানকে তার জন্য নিয়োজিত করি ফলে সে হয়ে যায় তার সঙ্গি ( সুরাহ যুখরূফ 36)
( বিঃ দ্রঃ যিকিরের শব্দ "
سبحان الله، الحمد لله، لا اله إلا الله، الله اكبر،
সুবহানাল্লাহি আল হামদুলিল্লাহ, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু , আল্লাহু আকবার, )
(10) প্রত্যেক মুসলিম নর নারীর উচিত বেশি বেশি কুরআন তেলাওয়াত করা বিশেষ করে সুরাহ বাকারাহ কেননা যে গৃহে সুরাহ বাক্বারাহ পাঠ করা হয় শায়ত্বান সে গৃহ থেকে পালায়ন করে (বুখারী ও মুসলিম )।
তাছাড়া কুরআন মু'মীনদের জন্য রোগের ঔষধ ও রহমত স্বরুপ ( সুরাহ ইসরা 82)।
(11) পাঁচ ওয়াক্ত ফরয ছালাতের পর যিকির সমূহ গুলি গুরুত্ব সহকারে পাঠ করা এবং সকাল সন্ধ্যায় পঠিত দুআ যিকির গুলো নিয়মিত পাঠ করা, যা প্রিয় নবী (সাঃ) তাঁর উম্মতকে শিক্ষা দিয়েছেন, আর ঐ সব দুআ যিকির আযকার গুলো নিয়মিত পাঠ করলে যেমন পরকালে জান্নাত লাভে ধন্য হবে, ঠিক তেমনিই দুনিয়ার জীবনে জ্বীন শায়ত্বান, যাদুটোনার আছর থেকে আল্লাহ্ তাআলা সম্পূর্ণ হিফাযতে রাখবেন ইনশা আল্লাহ্ ।
(12) ঐ সমস্ত দুআ যিকির আযকার হইতে কয়েকটি এখানে বাংলা উচ্চারণ দেওয়া হলো।যিকির আযকার সম্পর্কে
বিস্তারিত জানতে " হিসনুল মুসলিম পকেট সাইজের বইটি (40 টাকা দাম) পড়ুন , অথবা আব্দুর রাযযাক বিন ইউসুফের লেখা আইনে রাসূল দুআর অধ্যায় বইটি কিনুন ।
(13) লক্ষ করুন! সকল কাজকর্ম "বিসমিল্লাহ" বলে শূরু করবে।
(14) প্রত্যেক দিন কিছু আয়াত হলেও কুরআন তেলাওয়াত করবে।
(15) বাড়ি হতে বের হওয়ার সময় এ দুআ পাঠ করবে, " বিসমিল্লাহি তাওয়াক্কালতু আলাল্লাহি ওয়ালা হাওলা ওয়ালা কুউয়াতা ইল্লা বিল্লাহ)।
(16) রাতে ঘুমানোর সময় উযূ করবে এবং গামছা দ্বারা বিছানা ঝেড়ে ডান করাতে শয়ন করবে এবং হাতের কর গুনে 33 বার সুবহানাল্লাহ, 33 বার আল হামদূলিল্লাহ, 34 বার আল্লাহু আকবার পাঠ করবে।
(15) আয়াতুল কুরসী এক বার পড়ার পর সুরাহ ইখলাস ফালাক্ব ও নাস পাঠ করে দুহাতের তালুতে ফুক দিয়ে মাথা থেকে সমস্ত শরীর মাসাহ করবে , এরুপ তিন বার করবে।
অতঃপর সুরাহ বাক্বারার শেষের দুই আয়াত পাঠ করবে।আর এ দুআ পাঠ করে ঘুমাবে "বিসমিকা আল্লাহুম্মা আমুতূ ওয়া আহ'য়্যা "।
আবার যখন ঘুম থেকে উঠবে তখন এ দুআ পাঠ করবে " আলহামদুলিল্লাহিল্লাযি আহ'য়্যা বাআদা মা আমাতানা ওয়া ইলাইহিন নুশুর "।
স্বয়ং বিশ্ব নবী (সাঃ) এরুপ করে ঘুমাতেন।
( বুখারী ও মুসলিম )
(16) পায়খানায় প্রবেশেরসময় এ দূআ পড়বে " আল্লাহুম্মা ইন্নী আউযুবিকা মিনাল খুবসি ওয়াল খাবায়িছ"
এবং বের হওয়ার সময় বলিবে " গুফরানাকা "।
(17) প্রতি দিন সকাল ও সন্ধায় 100 বার পাঠ করবে " সুবহানাল্লাহী ওয়াবি হামদিহী।
(18) সকাল সন্ধ্যায় এ দুআ টাও তিন বার পাঠ করবে " আউযুবি কালিমাতিল্লাহী ত্বাম্মাতী মিন শাররিমা খালাক্বা "।
(19) এটাও সকাল সন্ধ্যায় তিন বার " বিসমিল্লাহিল্লাযী লা ইয়াদুররু মাআসমিহি শায়উন ফিল আরদি ওয়ালা ফিস সামায়ি ওয়াহূয়াস সামীউল আলীম"।
(20) জ্বীনে ধরা বা যে কোন রুগির এ দুআ পাঠ করে ঝাড়বে " আল্লাহুম্মা রব্বিন নাস, আযহিবিল বাস,ইশফি ওয়া আনতা শাফী, লা শিফায়া ইল্লা শিফাউকা, শিফাউন লা ইউগাদীরু সাক্বামা" (বুখারী )।
(21) বদনযর লাগা রূগিকে এ দুআ পড়ে ঝাড়বে " আউযুবি কালিমাতিল্লাহি তাম্মাহ মিন কুল্লি শায়ত্বানি ওয়া হাম্বা, ওয়া মিন কুল্লি আয়নীল লাম্মা" (বুখারী )।
(22) জ্বীনে ধারা রুগি নিজে বা অন্য কেউ এ মহা মূল্যবান আয়াত গুলো পাঠ করে ঝাড়বে অথবা ভালো ক্বরীর তেলাওয়াত শূনবেঃ
সুরাহ ফাতেহা, বাক্বারার প্রথম 5 টি আয়াত, এবং 102/ 164/255/285/286,।
সুরাহ ইমরান 190/191,।
সুরাহ আরাফ 54/117/118/119,।
সুরাহ ইউনুস 79/80/81,।
সুরাহ ইসরা 82,।
সুরাহ ত্বাহা 65/66/67/68/69,।
সুরাহ মু'মীন 115 /116/117/118,।
সুরাহ সফফাত প্রথম হতে 10টি আয়াত,।
সুরাহ হাশর 22/23 ,।
সুরাহ ক্বলম 51, সুরাহ জ্বীন 3, সুরাহ কাফীরূন/ইখলাস/ ফালাক্ব/ নাস।
হে আল্লাহ্! আপনি সমস্ত মুসলিমদেরকে শায়ত্বান ও যাদুটোনার অনিষ্ট থেকে রক্ষা করুন আল্লাহুম্মা আমীন ।
(রচনায়: ওয়াহীদুল ইসলাম সালাফী)
No comments:
Post a Comment