
নামাজে বুকের উপর হাত বাঁধা
----------------------------------------------
নামাজে বুকের উপর হাত বাঁধা হল সুন্নাহ। নাভীর নিচে হাত বাধাঁর হাদীস গুলো সব জইফ।
বুকের উপর হাত বাঁধা হল সুন্নাত তা হাদীস থেকে প্রমান করছি:
বুকের উপর হাত বাঁধা হাদীস বর্নিত হয়েছে যথাক্রমে ওয়াইল ইবনে হুজর, হালব আত-তায়ী এবং তাউস থেকে। কিছু মানুষ হয়তো প্রশ্ন তুলতে পারে ওয়াইল ইবনে হুজরের বুকের উপর হাত বাঁধা নিয়ে যা শুধু মুয়াম্মল থেকে বর্নিত হয়েছে এবং হালব আত-তায়ী যা শুধু সুফিয়ান থেকে বর্নিত হয়েছে। কিন্তুু উভয় হাদীস একে অপরের সহায়ক হওয়ায় হাসান হয়ে গেছে এবং মুরসাল হাদীস ততক্ষণ পযন্ত বাতিল হয়না যদি এর শাহেদ থাকে। কিন্তুু আমরা দেখি এই ক্ষেত্রে যথেষ্ট শাহিদ আছে যা এই হাদীস গুলো সহিহ হয়ে যায়। এমনকি মুহাদ্দিসরা হালবের হাদীসটা গ্রহণ করেছে।
শেইখ আবদুর রাহমান মুবারকপুরী (রাহ:) এই হাদীসের সনদ সহিহ হওয়ার বিশুদ্ধত নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন তার বিক্ষ্যত বই "আবকার উল-মুনান ফি তানকীদ আতাহার আস - সুন্নাহ "।
আরো প্রমাণ দেখুন বুকে হাত বাঁধার:
যেরা অর্থ কনুই থেকে মধ্যমা আঙ্গুলের অগ্রভাগ পর্যন্ত দীর্ঘ হাত’
📚(গরীব উল-হাদীস ১/২৭৭, লিসান উল-আরব ৮/৯৩, তাজ উল-উরস ১/৫২১৭, কিতাবুল আইন ২/৯৬, আল-মু'জাম আল-ওয়াসিয়াত ১/৩১১, তাহদীব আল-লুগাহ ২/১৮৯, কিতাব আল-কুলিয়াত ১/৭৩০)
এই হাদীসটা মারফু বর্ননাকারী হলেন আবু হাজিম। এই কারণে হাফিজ ইবনে হাজার আসকালানি তার ফাতউল বারীর ২/১২৪ পেইজে এবং আল্লামা আইনী তার উমদাতুল কারীর ৮/২৭৮ পেইজে বলেন, এই বর্ননা মারফু এবং এই হাদীস হল প্রমাণ বুকে হাত বাধার কারণ যখন বাম হাতের বাহু এবং কনুইর উপর ডান হাত রাখা হয় তখন হাত বুকের নিচে আসার সমর্থ হবেনা।
প্রিয় পাঠক, এই পদ্ধতি আপনি পরীক্ষা করেন আল্লাহর ইচ্ছায় হাত বুকে এসে যাবে।
○○○~~~~○○○~~~~○○○~~~~○○○
এই হাদীস অনুসারে যদি ডান হাত দিয়ে পুরো অংশ ধরা হয় তাহলে হাত এমনিতে বুকের উপর উঠে যাবে।
এই হাদীসের সাথে ওয়াইলের অন্য হাদীস যেখানে বলা আছে হাত বুকে বাধার। এই থেকে পরিস্কার হয় যে হাত বুকে বাধতে হবে।
○○○~~~~○○○~~~~○○○~~~~○○○
○○○~~~~○○○~~~~○○○~~~~○○○
○○○~~~~○○○~~~~○○○~~~~○○○
○○○~~~~○○○~~~~○○○~~~~○○○
○○○~~~~○○○~~~~○○○~~~~○○○
○○○~~~~○○○~~~~○○○~~~~○○○
○○○~~~~○○○~~~~○○○~~~~○○○
○○○~~~~○○○~~~~○○○~~~~○○○
○○○~~~~○○○~~~~○○○~~~~○○○
পুরো বাহু অন্য বাহুতে রাখলে হাত বুকের নিচে নামবেনা।
○○○~~~~○○○~~~~○○○~~~~○○○
○○○~~~~○○○~~~~○○○~~~~○○○
ক) ইফতারের জন্য দ্রুত করা
খ) দেরিতে সেহেরি খাওয়া
গ) বাম হাতের উপর ডান হাত রেখে বুকে হাত।বাধা।
📚(আল আওসাত ১২৩৯)
○○○~~~~○○○~~~~○○○~~~~○○○
এখন, উপরে বর্নিত কিছু হাদীস সনদের কারণে দুর্বল মনে হলেও সে গুলো হাসান লিগাহরিহ হয়না "জইফ+জইফ=হাসান"।
আল সিন্দী আল হানাফী তার হাশিয়াত ইবনে মাজাহাতে বলেন, এটা প্রমাণিত যে হাত বুকে বাধতে হবে অন্য কোথাও নয় এবং আলেমরা এই বিষয়ে একমত যে নাভীর নিচে হাত বাধা হাদীস জইফ। বিখ্যাত মুহাদ্দিস ও ফকিহ ইমাম ইসহাক বিন রাহয়াই (রাহ:) সিনায় হাত বাধতেন অথবা সিনার একটু নিচে হাত বাধতেন (মা'সাইল পেইজ ২২২) অথচ এক মিথ্যাবাদী বলল ইসহাক বিন রাহয়াই (রাহ:) নাকি নাভীর নিচের হাদীস কে শক্তিশালী বলেছে!! আমি বলি তাহলে ইসহাক বিন রাহুয়াই (রাহ:) কেন সিনায় হাত বেঁধেছেন?কাদী লিয়াদ আল মালেকী বলেন, হাত বুকে বাধতে হবে (আল ইলাম পেইজ ১৫)।
উপরোক্ত ছহীহ হাদীছ সমূহে ‘বুকের উপরে হাত বাঁধা’ সম্পর্কে স্পষ্ট বক্তব্য এসেছে।
উল্লেখ্য যে, বাম হাতের উপরে ডান হাত রাখা সম্পর্কে ১৮ জন ছাহাবী ও ২ জন তাবেঈ থেকে মোট ২০টি হাদীছ বর্ণিত হয়েছে। ইবনু আব্দিল বার্র বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) থেকে এর বিপরীত কিছুই বর্ণিত হয়নি এবং এটাই জমহূর ছাহাবা ও তাবেঈনের অনুসৃত পদ্ধতি।
📚(নায়লুল আওত্বার ৩/২২; ফিক্বহুস সুন্নাহ (কায়রো : ১৪১২/১৯৯২) ১/১০৯))
নাভির নীচে হাত বাঁধা’ সম্পর্কে আহমাদ, আবুদাঊদ, মুছান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ প্রভৃতি হাদীছ গ্রন্থে চারজন ছাহাবী ও দু’জন তাবেঈ থেকে যে চারটি হাদীছ ও দু’টি ‘আছার’ বর্ণিত হয়েছে, সেগুলি সম্পর্কে মুহাদ্দেছীনের বক্তব্য হ’ল-لاَ يَصْلُحُ وَاحِدٌ مِنْهَا لِلْاِسْتِدْلاَلِ ‘(যঈফ হওয়ার কারণে) এগুলির একটিও দলীল হিসাবে গ্রহণযোগ্য নয়।
📚(মির‘আতুল মাফাতীহ দিল্লী: ৪র্থ সংস্করণ, ১৪১৫/১৯৯৫) ৩/৬৩; তুহফাতুল আহওয়াযী ২/৮৯)
প্রকাশ থাকে যে, ছালাতে দাঁড়িয়ে মেয়েদের জন্য বুকে হাত ও পুরুষের জন্য নাভীর নীচে হাত বাঁধার যে রেওয়াজ চালু আছে, হাদীছে বা আছারে এর কোন প্রমাণ নেই।
📚(মির‘আত লাহোর ১ম সংস্করণ, ১৩৮০/১৯৬১) ১/৫৫৮; ঐ, ৩/৬৩; তুহফা ২/৮৩)
এটাই স্বতঃসিদ্ধ যে, ছালাতের মধ্যকার ফরয ও সুন্নাত সমূহ মুসলিম নারী ও পুরুষ সকলে একই নিয়মে আদায় করবে।
📚(মির‘আত ৩/৫৯ পৃঃ; ফিক্বহুস সুন্নাহ ১/১০৯; নায়লুল আওত্বার ৩/১৯)
বুকে হাত বাঁধার তাৎপর্য : ত্বীবী বলেন, ‘হৃৎপিন্ডের উপরে বুকে হাত বাঁধার মধ্যে হুঁশিয়ারী রয়েছে এ বিষয়ে যে, বান্দা তার মহা পরাক্রান্ত মালিকের সম্মুখে দাঁড়িয়েছে হাতের উপর হাত রেখে মাথা নিচু করে পূর্ণ আদব ও আনুগত্য সহকারে, যা কোনভাবেই ক্ষুণ্ণ করা যাবে না।
📚(মির‘আত ৩/৫৯ পৃঃ, হা/৮০৪-এর আলোচনা দ্রষ্টব্য)।
No comments:
Post a Comment