Saturday, January 6, 2018

প্রশ্ন:- কোনো সময়ে বা স্থানে দুয়ার প্রমাণ থাকলেই কি সম্মিলিত ভাবে দুয়া করা বৈধ হয়?





প্রশ্ন:- কোনো সময়ে বা স্থানে দুয়ার প্রমাণ থাকলেই কি সম্মিলিত ভাবে দুয়া করা বৈধ হয়?
=================
উত্তর:- হাদিস দ্বারা কোথাও দুয়ার প্রমাণ থাকলেই তা সম্মিলিত ভাবে করা বৈধ হবে না; যতক্ষণে সম্মিলিত আকারে করার প্রমাণ না পাওয়া যায়।
উদাহারণ স্বরূপ জুমআর খুত্ববায় দুয়া করা। এই সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রায় সব খুত্ববাতে দুয়া করতেন কিন্তু তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাত তুলতেন না আর না নামাযীগণ তুলতেন।
কিন্তু এই স্থানেই যখন ইস্তিসকা তথা বৃষ্টি চাওয়ার দুয়া করলেন, তখন তিনি ও উপস্থিত সাহাবীগণ সকলে হাত তুলে দুয়া করলেন। তাই যেখানে ও যেই সময়ে তিনি সম্মিলিত ভাবে দুয়া করলেন, আমাদের সেখানে সম্মিলিত আকারে করা সুন্নত আর যেখানে তিনি একা একা করলেন সেখানে একা একাই করা সুন্নত।

হাদিস থেকে প্রমানিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাজারো সাহাবীকে সাথে নিয়ে হজ্জ পালন করছেন এবং বলছেন “তোমরা আমার কাছ থেকে হজ্জের নিয়ম জেনে নাও” [মুসলিম১২৯৭]
এই হজ্জ পালনের সময় তিনি বহু স্থানে দুয়া করেছেন। তন্মধ্যে ৬য় স্থানে তাঁর হাত তুলার প্রমাণ এসেছে। ১-সাফাতে ২-মারওয়াতে ৩-আরাফার দিনে সন্ধায় ৪-মুযদালিফায় ফজরের পর ৫- তাশরীকের দিনগুলিতে ছোট জামরায় পাথর মারার পর ৬- মধ্যম জামরায় পাথর মারার পর। [তাস্বহীহুদ দুয়া/৪৩৭]
লক্ষণীয় হচ্ছে, উক্ত স্থান সমূহে দুয়ার প্রমাণ রয়েছে এবং হাত তুলারও প্রমাণ রয়েছে কিন্তু সম্মিলিত ভাবে দুয়ার প্রমাণ মিলে না; অথচ সাহাবাদের একটি বড় সংখ্যা তাঁর সাথে রয়েছেন। না নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের সাথে নিয়ে দুয়া করছেন আর না সাহাবাগণ তাঁর সাথে দুয়ায় শরীক হয়ে আমীন আমীন বলছেন।
যা দ্বারা বুঝা যায় যে, দুয়া করার সময় ও স্থান এবং তাতে হাত তুলার প্রমাণ থাকলেও সম্মিলিত রূপ দেওয়া বৈধ নয়। যেমন আমাদের অনেক অজ্ঞ ভাই বিশেষ বিশেষ সমাবেশের সময় বলে থাকেঃ বহু লোকের সমাগম হয়েছে আল্লাহ কারো না কারো দুয়া কবূল করবে তাই দুয়া করে দিন বা এই ধরণের খোঁড়া যুক্তি।
অথচ এসব বৈঠক ও সমাবেশ দুয়া কবূলের স্থান হিসাবে প্রমাণিত নয়। আর তা না হলে হাত তুলে দুয়া করা ও সম্মিলিত ভাবে দুয়া করা দূরের প্রশ্ন!

No comments:

Post a Comment