🌹অসুস্থ ব্যক্তির স্বালাত(নামাজ)
🌹
🌴একটি গুরুত্তপুর্ণ বিষয় আজ আপনাদের সামনে উপস্থাপন করতে যাচ্ছি ইনশা-আল্লাহ। সরাসরি হাদিস বিরোধী একটি কাজ, একদম হুবুহু হাদিসে যেটা নিষেধ করা হয়েছে সেটাই আমাদের সমাজে চালু রয়েছে।
🌴বৃদ্ধ বা অসুস্থ লোকদের স্বালাতে সিজদা করার জন্য বালিশ, বা উঁচু কাঠ বা সিজদার সুবিধার জন্য তৈরি সিজদার স্থানযুক্ত বিশেষ চেয়ার ব্যবহার করা শরিয়ত বিরোধী কাজ।
🌴স্বালাতে হুবুহু যে কাজটি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) করতে বাঁধা দিয়েছেন ঠিক হুবহু সেই কাজটিই আমরা করি ! এমন কি নানা যুক্তিও তুলি । রাসূলু্ল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর নিষেধের উপরে কি নিজের যুক্তি চলে?
🌴অসুস্থ বা দুর্বল মানুষের স্বালাত আদায়ে বালিশ বা কাঠ ইত্যাদি ব্যবহার নিষিদ্ধ! আর ঠিক এই নিষিদ্ধটাই আমরা বেশি করছি ভাবছি এটাই বরং সওয়াব বেশি!
🌴ইশারা দিয়ে রুকু থেকে বেশি ঝুকে সিজদা দিবে এটাই নিয়ম। বালিশ বা কাঠ বা নতুন আবিষ্কৃত চেয়ার যেটাতে সিজদার জন্য কাঠ লাগানো থাকে এগুলো ব্যবহার নিঃসন্দেহে বিদআত ও রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর নির্দেশের পরিপন্থী! ঠিক যেটা না করতে বলা হয়েছে ঠিক সেটাই করলে স্বালাত কি হবে এটাই বড় প্রশ্ন? অসুস্থ ব্যক্তির এত কষ্টের স্বালাত?
🌴হাদিসঃ
ইমরান ইবনে হুসাইন (রাঃ) বালেন, আমার অর্শ রোগ ছিল। আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে এ ব্যাপারে প্রশ্ন করলে তিনি বললেন, ‘তুমি দাঁড়িয়ে স্বালাত আদায় করবে । যদি দাঁড়াতে সক্ষম না হও তাহলে বসে স্বালাত আদায় করবে । যদি তাও না পার তবে কাত হয়ে শুয়ে স্বালাত আদায় করবে’ (বুখারী, মুসলিম)।
🌴ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত এক হাদীসে আছে, একদা নবীজি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)কোনো এক অসুস্থ সাহাবীকে দেখতে গেলেন। সেখানে যাওয়ার পর তিনি দেখলেন, ঐ অসুস্থ সাহাবী বালিশের উপর (সিজদা দিয়ে) স্বালাত আদায় করছেন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বালিশটি নিয়ে দূরে ফেলে দিলেন। অতঃপর ঐ সাহাবী সিজদা দেওয়ার জন্য একটি কাঠের ঢাল নিলেন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সেটিও নিয়ে দূরে নিক্ষেপ করলেন এবং বললেন, যদি তুমি পার তাহলে জমিনেই সিজদা দাও। আর জমিনে সিজদা দিয়ে স্বালাত আদায় করতে না পারলে ইশারা করে স্বালাত আদায় করো । আর ইশারা করে স্বালাত আদায় করার সময় সিজদা আদায়কালে রুকুর চাইতে একটু বেশি পরিমাণে ঝুঁকবে (বাইহাকী, আলবানী হাদীসটি হাসান বলেছেন)।
🌴আপনি আপনার স্বালাত দাঁড়িয়েই আদায় করুন । যদি পারেন তাহলে রুকুও দাঁড়িয়ে করুন। যদি দাঁড়িয়ে রুকু করা আপনার জন্য কষ্টকর হয় তাহলে আপনি বসে ইশারা করে রুকু আদায় করুন। অর্থাৎ আপনি এখন নিয়ত করুন যে, আপনি রুকু বা সিজদা করছেন। আর সিজদার সময় রুকুর চাইতে একটু বেশি মাথা ঝুঁকান। যাতে রুকুটি সিজদা থেকে আলাদা হয়।
🌴যদি আপনি রুকু-সিজদার সময় মাথা দিয়ে ইশারা করতেও অক্ষম হন তাহলে চোখ দিয়ে ইশারা করবেন। অবশ্য এ অবস্থায়ও রুকুর সময় অল্প এবং সিজদার সময় বেশি ইশারা করবেন।
🌴কোনো কোনো রোগীকে দেখা যায়, তারা রোগাক্রান্ত অবস্থায় আঙ্গুল দিয়ে ইশারা করেন। এরূপ করা সঠিক নয়। কেননা কুরআন ও হাদীসের কোনো স্থানে এমন কথা নেই। এমনকি কোনো আলেমও একথা বলেননি।
🌴এই হাদিসে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে,
সাহাবী বালিশ নিয়েছিলেন সিজদা দেওয়ার জন্য রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তা সরিয়ে নিলেন দূরে ফেলে দিলেন, সাহাবী কাঠের ঢাল নিলেন সেটাও রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দূরে নিক্ষেপ করলেন।
🌴আর আমরা ঠিক এই দুইটাই বরং আমাদের অসুস্থ ব্যক্তিদের জোগাড় করে চিচ্ছি !! কাজটা কি খুব ভালো করছি?
এমন কি সওয়াবের কাজ মনে করে কাঠের স্পেশাল চেয়ার বানিয়ে দিচ্ছি ! মানুষের স্বালাতগুলো বিদআত ও নাজায়েজ কাজ দিয়ে ঘিরে দিয়ে স্বালাত গুলো নষ্ট করার ব্যবস্থা করছি!
🌴নিজের অতি আপন লোকদের স্বালাতকে নষ্ট করে দিচ্ছি! আমরা ভাবছি অনেক সওয়াবের কাজ করে দিচ্ছি আসলে উলটা করছি!
🌴শুধু চেয়ার অংশে বসে সালাত আদায় করা যায় কেননা বসে সালাত আদায়ের কথা হাদিসে অনুমোদিত। এক্ষেত্রে রুকু করতে একটু ঝুঁকতে হবে আর সিজদার জন্য রুকু থেকে একটু বেশি ঝুঁকতে হবে কিন্তু কোন উঁচু স্থান বানিয়ে নেয়া যাবে না।
🌴আশা করি আমরা আমাদের পরিবারে দাদা দাদী নানা নানী কিংবা বয়স্ক অসুস্থ সবাইকে এই বিষয়টা সম্পর্কে সচেতন করব ইনশা আল্লাহ।
No comments:
Post a Comment