
মনের বদ্ধমূল ধারণা বা দৃঢ় বিশ্বাসকে " আক্বীদাহ বলে। ঈমানের দাবী হচ্ছে বিশুদ্ধ “ আক্বীদাহ।
বিশুদ্ধ আক্বীদাহ ছাড়া ঈমানের দাবী বৃথা। তাই এ সম্পর্কে কয়েকটি বিষয় তুলে ধরা হলো-
১. আল্লহ নিরাকার নন বরং আকার আছে, তবে এ আকার দুনিয়ার কোন কিছুর মতো নয়।
২. আল্ল-হ সর্বত্র বিরাজমান নন বরং তিনি সাত আকাশ মণ্ডলীর উপর, অর্থাৎ ‘আরশে ‘আযীমে আছেন।
৩. ঈমান স্থির থাকে না বরং বিভিন্ন কারণে ঈমান বাড়ে ও কমে।
৪. গায়িবের (অদৃশ্যের জ্ঞানের) মালিক একমাত্র আল্ল-হ, ওলী-আওলিয়া ও বুজুর্গরা নয়, তবে নাবী-রসূলগণ যা
বলতেন তা আল্ল-হর হুকুমে বা তার ইশারায় বলতেন।
৫. আল্ল-হ তাআলাই সকল ক্ষমতার উৎস, জনগণ নয়।
৬. জ্যোতিষী বা ভবিষ্যৎ বক্তাদের কথা বিশ্বাস করলে ঈমান নষ্ট হবে।
৭. রসূলুল্ল-হ (ছাঃ) নূরের তৈরি নন বরং আমাদের মতো রক্ত-মাংসে গড়া, তবে তার গুণ ও বৈশিষ্ট্য সর্বশ্রেষ্ঠ ।
৮. মুহাম্মাদ (ছাঃ)- কে সৃষ্টি না করলে দুনিয়া সৃষ্টি করতেন না এ মর্মে বর্ণিত হাদীসটি জাল।
৯. ওলী আওলিয়ারা পর জগতে দুনিয়াবী জীবনের মতো জীবিত নন, তারা কারো কথা শুনেন না এবং কাউকে
কিছু দিতেও পারেন না, তাই তাদের ওপর আশা ভরসা করা শির্ক।
১০. আল্ল-হ ছাড়া অন্য কারো নামে কসম বা শপথ করা শির্ক।
১১. কবর বা মাজারে মানৎ করা দান করা, ওরস করা, কোন কিছু কামনা করা বা শপথ করা এবং সাজদাহ দেয়া শির্ক।
১২. গাউসুল আযম (শ্রেষ্ঠ ত্রাণকর্তা) হচ্ছেন একমাত্র আল্ল-হ আর ‘ আব্দুল কাদির জিলানী (রহঃ) বা অন্য কাউকে
এ নামে বলা বা ডাকা শির্ক।
১৩. ইমামে আযম (শ্রেষ্ঠ ইমাম) হচ্ছে রসূলুল্ল-হ (ছাঃ), তাই অন্য কাউকে এ নামে ভূষিত করা মারাত্মক ভূল।
১৪. কোন অবস্থাতেই সাহাবীদের সমালোচনা করা যাবে না।
১৫. মাহরাম ছাড়া মৃত পুরুষ ও মহিলার লাশ দেখা স্পর্শ করা বা কবরে নামানো নিষেধ।
১৬. পীরের মুরিদ হওয়া বা তার কাছে বায়আত করা বিদ'আত।
১৭. প্রচলিত যিকর বা যে যিকর রসূলুল্ল-হ (সঃ) উচ্চৈঃস্বরে করেননি তা উচ্চৈঃস্বরে করা বিদ'আত।
১৮. শবেবরাত, শবে মিরাজ ও মীলাদুন্নাবী পালন করা বিদআত।
১৯. ইসতিস্কার (বৃষ্টির) ছালাত এবং বিতর ছালাত ব্যতীত ফারজ ছালাতের পর, দুই ঈদের ছালাতের পর, বিবাহ
পড়ানোর পর, সভা সম্মেলন শেষে, জানাযাহ ও মৃত ব্যক্তিকে দাফনের পর দলবদ্ধভাবে মুনাজাত করা বিদআত।
২০. জন্ম ও মৃত্যু বার্ষিকী শোক দিবস পালন করা এবং বিজাতীয় রীতিতে দিবস ও অনুষ্ঠান উদযাপন করা ইসলামে নিষিদ্ধ।
২১. প্রচলিত চার মাযহাব মানা আবশ্যক নয়।
২২. উপকারের আশায় তাবীয, রিং, আংটি, বালা, সুতা বা পাথর ব্যবহার করা শির্ক।
২৩. জানাযাহ নিয়ে যাওয়ার সময় তার পিছনে পিছনে উচ্চৈঃস্বরে তাকবীর দেয়া ও বিভিন্ন যিকর করা বা কবর যিয়ারত করতে গিয়ে সূরাহ ফাতিহা, সূরাহ ইখলাস বা অন্য কোন সূরাহু ও দরূদ পাঠ ইত্যাদি নিয়ম পালন করা বিদআত।
২৪. নির্দিষ্ট করে ২৭ রমাযানে, দুই ঈদের দিন কিংবা জুমআর দিন কবর যিয়ারত করা বিদআত।
২৫. মৃত ব্যক্তির নামে কুরআন পড়া , চাল্লিশা, চেহলাম ও কুলখানী ইত্যাদি আয়োজন করা বিদ'আত।
২৬. জাল ও য'ঈফ নয়, শুধুমাত্র সহীহ হাদীসই গ্রহণ করতে হবে।
২৭. ইসলামকে নিয়ে ঠাট্টাবিদ্রুপকারী কাফির।
No comments:
Post a Comment