
সকল প্রকার ফিরকা বন্দী থেকে মুক্ত হয়ে একমাত্র কুরআন-সুন্নাহর পথে ফিরে আসা ছাড়া এ জাতির মুক্তি নেই:
---------------------
ইসলামে ফিরকা বন্দী কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। তাই আমাদের কর্তব্য, সকল প্রকার বিচ্ছিন্নতার পথ বর্জন করে সবাই একতাবদ্ধভাবে আল্লাহর রশিকে আঁকড়ে ধরা।
আল্লাহ তাআলা বলেন,
وَأَطِيعُوا اللَّـهَ وَرَسُولَهُ وَلَا تَنَازَعُوا فَتَفْشَلُوا وَتَذْهَبَ رِيحُكُمْ
“আর আল্লাহ তা’আলার নির্দেশ মান্য কর এবং তাঁর রসূলের। তাছাড়া তোমরা পরস্পরে বিবাদে লিপ্ত হইও না। যদি তা কর, তবে তোমরা ব্যর্থতায় পর্যবশিত হবে এবং তোমাদের শক্তি ও প্রভাব-প্রতিপত্তি শেষ হয়ে যাবে।” (সূরা আনফাল: ৪৬)
আল্লাহ তাআলা আরও বলেন:
وَاعْتَصِمُوا بِحَبْلِ اللَّـهِ جَمِيعًا وَلَا تَفَرَّقُوا ۚ وَاذْكُرُوا نِعْمَتَ اللَّـهِ عَلَيْكُمْ إِذْ كُنتُمْ أَعْدَاءً فَأَلَّفَ بَيْنَ قُلُوبِكُمْ فَأَصْبَحْتُم بِنِعْمَتِهِ إِخْوَانًا وَكُنتُمْ عَلَىٰ شَفَا حُفْرَةٍ مِّنَ النَّارِ فَأَنقَذَكُم مِّنْهَا ۗ
“আর তোমরা সকলে আল্লাহর রজ্জুকে সুদৃঢ় হস্তে ধারণ কর; পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ো না। আর তোমরা সে নেয়ামতের কথা স্মরণ কর, যা আল্লাহ তোমাদেরকে দান করেছেন। তোমরা পরস্পর শত্রু ছিলে। অতঃপর আল্লাহ তোমাদের মনে সম্প্রীতি দান করেছেন। ফলে, এখন তোমরা তাঁর অনুগ্রহের কারণে পরস্পর ভাই ভাই হয়েছ। তোমরা এক অগ্নিকুণ্ডের পাড়ে অবস্থান করছিলে। অতঃপর তা থেকে তিনি তোমাদেরকে মুক্তি দিয়েছেন।” (সূরা আলে ইমরান: ১০৩)
তবে রাসূল সা. সর্তক করে গেছেন মানুষ এক সময় দলেদলে বিভক্ত হয়ে পড়বে। সে সময় কী করণীয় তাও বলে দিয়ে গেছেন। এ মর্মে
একাধিক হাদিস বিদ্যমান। সবগুলোর মূল বক্তব্য হল, সকল অবস্থায় আমাদেরকে মুসলিম জামায়াতকে আঁকড়ে ধরে থাকতে হবে; কুরআন-সুন্নাহর পরিপন্থী দলীয়/মাযহাবী/ফিরকা বন্দীর অন্ধভক্তিতে হাবুডুবু খাওয়া যাবে না বরং তাঁর রেখে যাওয়া দুটি সংবিধান তথা আল কুরআন ও সুন্নাহকে মাড়ির দাঁত দ্বারা মজবুত ভাবে গ্রহণ করতে হবে।
এ ছাড়া আমাদের মুক্তির আর কোন পথ নাই।
আমরা যদি এ ঐক্যবদ্ধতা ও কুরআন-সুন্নাহর রাস্তা থেকে সরে বিভিন্ন ফিরকাবাজী, পীরের তরীকা, মাযহাবী দৃষ্টিভঙ্গি, দলীয় মতবিরোধ ইত্যাদিতে জড়িয়ে আল্লাহর কিতাব ও রাসুল সা .এর সুন্নাহ থেকে দুরে সরে যাই তাহলে আমাদের ধ্বংস অনিবার্য।
আপনি হয়ত কোন পীরে মুরিদ। কিন্তু যখনই আপনার কাছে এটা প্রমাণিত হবে যে, আপনার পীর আপনাকে কুরআন-সুন্নাহ বিরোধী বিষয়ের দীক্ষা দিচ্ছেন তখনই সেই পীরকে প্রত্যাখ্যান করে কুরআন-সুন্নাহর পথে ফিরে আসতে হবে।
আপনি হয়ত বিশেষ মাযহাবের অনুসারী। কিন্তু যখনই প্রমাণিত হবে যে, মাযহাবের কোন কথা কুরআন-সুন্নাহর দলীল পরিপন্থী তখনই তা প্রত্যাখ্যান করে সঠিক জিনিসটি গ্রহণ করতে হবে।
আপনি হয়ত কোন দলের সাথে জড়িয়ে আছেন। যখনই প্রমাণিত হবে যে, উক্ত দল কুরআন-সুন্নাহ পরিপন্থী কাজে লিপ্ত বা শরীয়ার সাথে সাংঘর্ষিক কোন বিষয়ের উপর প্রতিষ্ঠিত তখনই তা প্রত্যাখ্যান করতে হবে। এভাবে আমাদেরকে কুরআন-সুন্নাহ পরিপন্থী সকল কিছু থেকে ফিরে এসে মুসলিমদের জামাআত এবং কুরআন-সুন্নাহর পথে ফিরে আসতে হবে। আল্লাহ তাওফিক দান করুন। আমীন।
-------------
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল মাদানী
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ সেন্টার, সৌদি আরব
No comments:
Post a Comment