
তাওহীদ শব্দের অর্থ একত্ববাদ। মহান আল্লাহ তায়ালার একত্ববাদের বর্ণনাই হলো তাওহীদ। যা তিন প্রকার।
১) তাওহীদে রুবুবিয়্যাহ (আল্লাহর প্রভুত্বে তাওহীদ)।
২) তাওহীদে উলিহীয়্যাহ (ইবাদাতে তাওহীদ)।
৩) তাওহীদে আসমা ওয়া সিফাত (আল্লাহর নাম ও গুনাবলিতে তাওহীদ)।
১- প্রভুত্বে তাওহীদঃ
===============
প্রভুত্বে তাওহীদ এর অর্থ এই বিশ্বাস স্থাপন করা যে,আল্লাহ তায়ালাই সব কিছুর স্রষ্টা এবং সব কিছুর নিয়ন্ত্রন কারী তিনি। এতে তার কোনো শরীক নেই।
২- ইবাদাতে তাওহীদঃ
=================
ইবাদাতে তাওহীদ এর অর্থ এই বিশ্বাস করা যে আল্লাহ তায়ালাই সত্যিকারের মা'বুদ তার কোনো শরীক নেই। এটাই কালেমা লা ইলাহা ইল্লাহর মর্মার্থ। কেননা এর প্রকৃত অর্থ হলো আল্লাহ তায়ালা ব্যাতিত সত্যিকারের আর কোনোইই মা'বুদ বা উপাস্য নেই সর্ব প্রকারের ইবাদাত যেমনঃ নামায, রোজা, ইত্যাদী একমাত্র আল্লাহর উদ্দেশ্যে নিবেদিত করা অপরিহার্য। কোনো প্রকার ইবাদাত কারো জন্য নিবেদিত করা বৈধ নয়।
৩- নাম ও গুনাবলিতে তাওহীদঃ
========================
নাম ও গুনাবলিতে তাওহীদ এর অর্থ এই যে কুরআনুল কারীমে এবং বিশুদ্ধ হাদীছে আল্লাহ তায়ালার যত নাম ও গুনাবলির উল্লেখ রয়েছে, সেগুলোর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা। এগুলোকে আল্লাহ তায়ালার শানের উপযোগী পর্যায়ে এমন ভাবে প্রতিষ্ঠা করা যাতে কোনো অপব্যাখ্যা, নিষ্ক্রিয়তা, উপমা, অথবা বিশেষ কোনো ধরন বা সাদৃশ্যপনার লেশ না থাকে। যেমন আল্লাহ তায়ালা বলেনঃ
قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ.اللَّهُ الصَّمَدُ.لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ.وَلَمْ يَكُنْ لَهُ كُفُوًا أَحَدٌ.
অর্থঃ (হে রাসূল), বলঃ তিনি আল্লাহ, এক, আল্লাহ অমুখাপেক্ষী, তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং কেউ তাকে জন্ম দেয়নি, এবং তার সমতুল্য কেউ নেই। (সূরাঃ ইখলাস)
আল্লাহ তায়ালা আরো বলেনঃ
لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ ۖ وَهُوَ السَّمِيعُ الْبَصِيرُ.
অর্থঃ তার মত কোনো কিছুই নেই। তিনি সব শুনেন, সব দেখেন। (সূরাঃ শুরা ১১আয়াত)।
অর্থাৎ পবিত্র কুরআনুল কারীম এবং সহীহ হাদীছ মহান আল্লাহ তায়ালা যেভাবে তার গুনবলী ও তার সত্ত্বার বর্ণনা দিয়েছেন তা ওইভাবেই বিশ্বাস করতে হবে। তার সাথে কোনো অপব্যাখ্যা বা কোনো সাদৃশ্য বা উদাহরন পেশ করা যাবে না। যেমনঃ মহান আল্লাহ তায়ালা কুরআনুল কারীমে তার হাতের বর্ণনা দিয়েছেন।
.بَلْ يَدَاهُ مَبْسُوطَتَانِ يُنْفِقُ كَيْفَ يَشَآء
বরং তাঁর (আল্লাহর) উভয় হাত উম্মুক্ত। তিনি যেরূপ ইচ্ছা ব্যয় করেন। (সূরাঃ মায়েদা ০৫/৬৪আয়াত)
َوَمَا قَدَرُوا اللَّهَ حَقَّ قَدْرِهِ وَالْأَرْضُ جَمِيعًا قَبْضَتُهُ يَوْم الْقِيَامَةِ وَالسَّمَاوَاتُ مَطْوِيَّاتٌ بِيَمِينِهِ ۚ سُبْحَانَهُ وَتَعَالَىٰ عَمَّا يُشْرِكُونَ
তারা আল্লাহকে যথার্থরূপে বোঝেনি। কেয়ামতের দিন গোটা পৃথিবী থাকবে তাঁর (আল্লাহর) হাতের মুঠোতে এবং আসমান সমূহ ভাঁজ করা অবস্থায় থাকবে তাঁর ডান হাতে। তিনি পবিত্র। আর এরা যাকে শরীক করে, তা থেকে তিনি অনেক উর্ধ্বে।(সূরাঃ যুমার ৩৯/৬৭আয়াত)
এখানে মহান আল্লাহ তায়ালা তার হাতের বর্ণনা দিয়েছেন। তিনি আল্লাহ তার হাতের যেভাবে বর্ণনা দিয়েছেন আমাদের সেভাবে সে অবস্থাতেই বিশ্বাস করতে হবে। তার সাথে কোনো অপ্যাখ্যা বা সাদৃশ্য স্থাপন করা যাবে না। এভাবেই মহান আল্লাহ তায়ালা কুরআনে তার আকার বা অংগের বর্ণনা দিয়েছেন আমাদের সেভাবেই তা বিশ্বাস করতে হবে। যদি কোনো বিশ্বাসে শৈথিল্যতা বা অস্বীকার প্রকাশ পায় তাহলে তা আল্লাহর তাওহীদে কুফরী হবে। আর কোনো সাদৃশ্য স্থাপন করতে চাইলেই তা শির্ক হবে।তাই মহান আল্লাহ যেভাবে তার আকারের বর্ণনা করেছেন সেভাবেই বিশ্বাস করতে হবে। আর এই বিশ্বাসের নামই হলো হলো তাওহীদ।
No comments:
Post a Comment