Sunday, April 12, 2015

গায়েবানা জানাযাঃ



গায়েবানা জানাযাঃ
============
প্রশ্নঃ গায়েবানা জানাযার বিধান কি?
উত্তরঃ
=====
গায়েবানা জানাজা নিয়ে আলেমদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। ইমাম আবু হানীফা ও মালেক (রাহ:) এই নামাজকে নাজায়েজ বলেন এবং ইমাম শাফীই (র) এবং ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল (রহঃ) এর নিকট গায়েবানা জানাযা জায়েজ। তাদের দলীল হল- রাসূলুল্লাহ ﷺ হাবশার বাদশা নাজ্জাশীর গায়েবানা জানাযা পড়েছিলেন। হাদীসটি হলো-
إِنَّ أَخَاكُمُ النَّجَاشِيَّ قَدْ مَاتَ فَصَلُّوا عَلَيْهِ . قَالَ فَقَامَ فَصَلَّيْنَا خَلْفَهُ وَإِنِّي لَفِي الصَّفِّ الثَّانِي فَصَلَّى عَلَيْهِ
-তোমাদের ভাই নাজ্জাশী ইনতিকাল করেছেন। অতএব তোমরা তার জানাযার সালাত পড়ো। [মুসলীম হা/৯৫৩; তিরমিযী হা/১০৩৯; ইবনু মাজাহ হা/১৫৩৫, ১৫৩৬; আহমাদ হা/১৯৩৮৯, ১৯৪৬১; ১৯৫০৩। ইরওয়াহ ৩/১৭৬]
অপর হাদীসে বর্ণিত হয়েছে-
صَلُّوا عَلَى أَخٍ لَكُمْ مَاتَ بِغَيْرِ أَرْضِكُمْ . قَالُوا مَنْ هُوَ قَالَ " النَّجَاشِيُّ "
-রাসুল ﷺ বলেন, অন্য দেশে মৃত্যূবরণকারী তোমাদের এক ভাইয়ের জানাযা সালাত পড়ো। তারা বললেন, তিনি কে? তিনি বললেন, নাজাশী।[ইবনু মাজাহ হা/১৫৩৭; আহমাদ হা/১৫৭১২]
উপরোক্ত হাদীসসমূহের পরিপ্রেক্ষিতে গায়েবানা জানাযার ব্যাপারে ইমামগণের তিনটি মত দেখা যায়।
■ প্রথম মতঃ
=========
এই নামাজ একটি সাধারণ বিধান, যা উম্মতের জন্য করণীয়। অতএব যে কারো গায়েবানা জানাযার নামাজ পড়তে অসুবিধা নেই। ইমাম শাফেয়ী (রাহ.) ও ইমাম আহমদ বিন হাম্বল (রাহ.) এর মত এটি। তবে তাদের মতে মাইয়্যিত ভিন্ন শহরে থাকলে গায়েবানা জানাযা জায়েয। কিন্তু শহরের ভিতরে থাকার মাইয়্যেতের গায়েবানা জানাযা জায়েজ নয়। মাইয়্যেতকে উপস্থিত করতে হবে।
[আল-ফিকহুল ইসলামী ওয়া আদিল্লাতুহু- ১/৫০৪, মাকতাবাতুল হক্কানিয়্যাহ, পাকিস্তান, আল মাজমু- ৫/২৫৩]।
■দ্বিতীয় মতঃ
==========
এটি রাসুলুল্লাহ ﷺ এর সাথে সুনির্দিষ্ট একটি ঘটনা। এর অনুকরণ করা উম্মতের জন্য বৈধ নয়। ইমাম আবু হানীফা ও মালেক (রাহ:) প্রমুখ এ মত পোষন করেন। তাদের ফতোয়া মতে গায়েবানা জানাযা কখনই জায়েয নেই। চাই দাফনের আগে হোক বা পরে। মাইয়্যিত শহরের ভিতরে থাক বা বাইরে।
[মাবসূতে সারাখসী- ২/৬৭, দারুল কুতুবিল ইলমিয়া, বৈরুত, মানহুল জালীল- ১/৩৭৬ পৃষ্ঠা]
■ তৃতীয় মতঃ
===========
এটিই বিশুদ্ধতম মত। এ বিষয়ে বিশুদ্ধতম অভিমত হলো -যদি কোনো ব্যক্তি এমন কোনো স্থানে মারা যায়, যেখানে তার জানাযার নামাজ পড়া হয় নাই, তবেই তার গায়িবানা জানাযা নামাজ পড়া যাবে। এটা ইমাম ইবনু তাইমিয়্যাহ, ইবনে কাইয়ুম ও ইবনে উসাইমিন (রহ) প্রমুখ শায়েখদের এই মত।
►►উপরোক্ত মতগুলো পর্যালোচনা করলে বুঝা যায় যে, নাজ্জাশী (রা.) এর জানাযার দলিল দিয়েই গায়িবানা জানাযার নামাজ পড়ার সাধারণ সুন্নাত চালু করতে যাওয়া মোটেই সমীচীন নয়। কারন রাসুল ﷺ এর পুরো নবুওয়াতী জীবনে গায়িবানা জানাযার এ একটি ঘটনা ছাড়া অন্য কোনো ঘটেছে- তার কোনো বিশুদ্ধ প্রমান নেই।
তবে কতিপয় আলেম বলেছেন যে, মৃত ব্যক্তি যদি বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বের অধিকারী হয়, যেমন বড় আলেম, বড় দাঈ, ইসলাম প্রচারের ক্ষেত্রে যার বিশেষ অবদান রয়েছে, এরূপ ব্যক্তির ক্ষেত্রে গায়েবানা জানাযা পড়া যায ঐসব ক্ষেত্রে, যাদের জানাযা হয়নি বলে জানা যায়। কিন্তু যাদের জানাযা হয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া যায়, সেক্ষেত্রে গায়েবানা জানাযা না পড়ায়ই শ্রেয়।

No comments:

Post a Comment