Wednesday, May 13, 2015

আমলনামা দেখে অপরাধীগণ ভীত সম্ভ্রস্ত হয়ে উঠবে।




আমলনামা দেখে অপরাধীগণ ভীত
সম্ভ্রস্ত হয়ে উঠবে।
****************************
মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন সূরা
কাহ্ফ-এর ৪৯ নং আয়াতে বলেন-
আর যখন আমল নামা সম্মুখে রেখে দেয়া
হবে, তখন তোমরা দেখবে অপরাধীগণ
ভীত সম্ভ্রস্ত হয়ে উঠেছে। আর বলছে,
হায়রে আমাদের দুর্ভাগ্য! এটা কেমন বই,
আমাদের ছোট বড় এমন কোন কাজ বাদ
যায়নি (যা এই বইতে) লেখা হয়নি। তারা
যে যা কিছু করেছিল তা সমস্তই নিজের
সামনে (লেখা ও ছবিসহ) উপস্থিত দেখতে
পাবে। আর তোমার রব কারো প্রতি
কোন জুলুম করবেন না। (সূরা কাহ্ফ)
পবিত্র কোরআনের অন্যত্র বলা হয়েছে-
আজ প্রত্যেকটি প্রাণীকেই তার
(পৃথিবীতে জীবিত থাকতে) উপার্জনের
প্রতিফল দেয়া হবে। আজ কারো প্রতি
জুলুম করা হবে না। আর আল্লাহ অত্যন্ত
দ্রুত হিসাব গ্রহণ করবেন। (আল-মু’মিন- ১৭)
আল্লাহর কোরআনে সূরা যুমারের ৬৯ নং
আয়াতে এসেছে-
(প্রত্যেকের) আমলনামা (কর্মলিপি)
সামনে উপস্থিত করা হবে। নবী রাসূল ও
সকল সাক্ষীদেরকে উপস্থিত করা হবে।
মানুষদের মধ্যে যথাযথভাবে (সত্য
সহকারে) ফয়সালা করে দেয়া হবে।
কারো উপর কোন জুলুম করা হবে না।
(সূরা যুমার)
এই আয়াতে সাক্ষী বলতে যারা মানুষের
মধ্যে নানাভাবে ইসলামের বিধান প্রচার
ও প্রসার করেছে তাদেরকে ও সেসব
সাক্ষী ও যারা মানুষের কর্মের
ব্যাপারে সাক্ষ্য প্রদান করবে। এ সমস্ত
সাক্ষী শুধু মাত্র মানুষই হবে না,
ফেরেশ্তা, জ্বিন, অন্যান্য প্রাণীসমূহ,
মানুষের নিজের অঙ্গ প্রত্যঙ্গ তথা
পৃথিবীর যাবতীয় বস্তু সাক্ষী প্রদান
করবে কিয়ামতের দিন। পৃথিবীতে যা
কিছু আছে, সবকিছু সৃষ্টি করা হয়েছে
মানুষের সেবা করার জন্যে- আর মানুষের
প্রতি নির্দেশদান করা হয়েছে, আমার
নেয়ামত ভোগ করো এবং আমার দাসত্ব
করো। কিন্তু কোন কিছুকেই মহান
আল্লাহ মানুষের দাস করে সৃষ্টি করেননি।
এমনকি মানুষের নিজ দেহের অঙ্গ-
প্রত্যঙ্গও নয়। হাদিস শরীফে এসেছে
প্রতিদিন সূর্য উদয়ের পূর্বে মানুষের
শরীরের প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ মানুষের
আত্মার কাছে অত্যন্ত বিনীতভাবে
অনুরোধ করে বলে- দেখো, আমাকে তুমি
ব্যবহার করতে পারো, সে স্বাধীনতা
তোমার আছে। কিন্তু অনুরোধ,
আমাদেরকে ইসলাম বিরোধী কোন
কাজে ব্যবহার করো না। যদি করো,
তাহলে কিয়ামতের দিন তোমার বিরুদ্ধে
আমরা সাক্ষী দিতে বাধ্য হবো। কারণ
আমরা তোমার শরীরের অঙ্গ প্রত্যঙ্গ
হলেও আমরা ওই মহান আল্লাহর দাস।

No comments:

Post a Comment