
প্রচলিত সালাতের ১০০ টি ভুল এবং তার বিবরন সমূহ ১১ থেকে ১৩ পর্যন্ত :
প্রচলিত ভুলঃ(১১)
ভারত, পাকিস্তান থেকে আগত ব্রেলভীও রেজভী- বিদ‘আতীদের অনুকরণে আমাদের দেশের এক শ্রেণীর তথাকথিক ধার্মিক মুসলিমদেরকে আযানের ইক্বামতের সময় ‘‘আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রসূলুল্লাহ’’ বাক্যটি শুনলেই দুই হাতের আঙ্গুলে চুমু খেয়ে তা দিয়ে চোখ মুছেন। এই মর্মে একটি মিথ্যা ও জাল হাদীসকে সত্য মনে কইে তারা এই কাজ করেন বলে মনে হয়। (তাহের ফাতনী, তাযকিরাতুল মাউযূয়াত, ৩৬-৩৭ পৃঃ, মোল্লা আলী ক্বারী হানাফী, আল-আসরার, ১১৩ পৃঃ, হাদীসের নামে জালিয়াত, ৩৬৬ পৃঃ)
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম)-এর পদ্ধতিঃ
রসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম) বলেনঃ ‘‘যে ব্যক্তি খালেস অন্তরে আযানের জবাব দেয়, তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হয়ে যায়। (সহীহ্ মুসলিম, হা/৩৮৫) আযানের জবাব হ’ল মুয়ায্যিন যা বলবে তাই বলতে হবে। কেবল মাত্র ‘‘হাইয়্যা আলাস সাল্লাহ ও ফালাহ’’ এর জবাবে ‘‘লা-হাওলা ওয়ালা কুওয়্যাতা ইল্লা-বিল্লাহ’’ বলতে হবে। (সহীহ্ মুসলিম, আবু দাউদ, নাইনুল আউতার ২য় খন্ড-৫৩ পৃঃ)
প্রচলিত ভুলঃ(১২)
আমাদের দেশে ফজরের আযানে ‘‘আস-সালা-তু খঅয়রুম মিনান নাউম’’ এর জওয়াবে ‘‘সাদ্দাক্বতা ওয়া বারাকতা’’ বলার কোন সহীহ্ ভিত্তি নেই। অনুরূপভাবে ইক্বামতের সময় ‘‘ক্বাদক্বা-মাতিস সালাহ’’ এর উত্তরে ‘‘আক্বা-মাহাল্লা-হুওয়া আদা-মাহা’’ বলার সম্পর্কে আবু দাউদে বর্ণিত হাদীসটি যঈফ। (আলবানী, ইরাওয়াউল গালীল-১/২৫৮-৫৯, মিশকাত-হা/ ৬৭০)
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম)-এর পদ্ধতিঃ
উপরিউল্লিখিতি আযানের যবাবই সুন্নাত। (সহীহ্ মুসলিম, মিশকাত-হা/ ৬৫৭ আযানের যওয়াব দান অধ্যায়)
প্রচলিত ভুলঃ (১৩)
আমাদের দেশে সাহরীর জন্য সুন্নাতি পদ্ধতি পরিহার করে বিভিন্ন বিদ‘আতী ও ইয়াহুদী- নাসারাদের অনুকরণে ঢোল, বাঁশি নিয়ে মধ্যরাত থেকে ডাকা ডাকি শুরু হয়। এবং মাসজিদ থেকে লাউডস্পিকার ও সাইরেন এর মাধ্যমে অব্যাহতভাবে ও কিছুক্ষণ পর পর (গজল, নাআত, তাক্বরীর সেহরীর অনুষ্ঠান ইত্যাদির মাধ্যমে) ডাকা হয় যা সম্পূর্ণরূপে বিদ‘আদ এবং ইবাদরত ব্যক্তি ও পিড়িত লোকজনকে কষ্ট দেওয়া হয় যা একেবারেই পরিত্যক্ত।
* রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম-এর পদ্ধতিঃ
নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম) এর যুগে তাহাজ্জুদ ও সাহারীর আযান বেলাল (রাঃ) দিতেন, এবং ফজরের আযান অন্ধ সাহবী আবদুল্লাহ ইবনে উম্মে মাকতুম (রাঃ) দিতেন। তাই সাহারী প্রসঙ্গে রসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম) বলেনঃ‘‘ বেলাল রাত্রি থাকতে আযান দিলে তোমরা খানা পিনা কর, যতক্ষণ না ইবনে উম্মে মাকতূম আযান দেয়। কেননা সে ফজর না হওয়া পর্যন্ত আযান দেয়না। (সহীহ্ বুখারী, সহীহ্ মুসলিম, মিশকাত-হা/ ৬৮০-৮১) তিঁনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম) আরো বলেনঃ ‘‘ বেলালের আযান যেন তোমাদেরকে সাহারী খাওয়া থেকে বিরত না করে। কেননা সে রাত্রি থাকতে আযান দেয় এজন্য যে, যেন তোমাদের তাহাজ্জুদ গোজার মুসল্লীগণ (সাহারীর জন্য) জেগে ওঠে। (কুতুবে সিত্তাহর সকল গ্রন্থ, তিরমিযী ব্যতীত, নায়ল-২/১১৭)
No comments:
Post a Comment