Tuesday, May 26, 2015

প্রচলিত সালাতের ১০০টি ভুল এবং তার বিবরন সমূহ ১৪ থেকে ১৬ :




প্রচলিত সালাতের ১০০টি ভুল এবং তার বিবরন সমূহ ১৪ থেকে ১৬ :
প্রচলিত ভুল ১৪
আমাদের দেশে গ্রামে ও শহরে কিছু কিছু মাসজিদে আযানের আগে ও পরে মাইক ‘‘আস-সলাতু আসসালা-মু আলাইকা ইয়া রসূলুল্লাহ’’ বলা হয়। এতদ্ব্যতীত ঘুমের থেকে জাগার দু‘আ, সময় নিকটে, যিকির গজল, ওয়াজ ও কুরআন তিলাওয়াত, ইস্পিকার খুলেই আলহামদুলিল্লাহ ইত্যাদি শোনা যায়। অথচ এগুলি সবই বিদ‘আত এবং আযান ব্যতীত সব কিছুই পরিত্যাজ্য।
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম)-এর পদ্ধতিঃ
আযানের পরে পুনরায় ‘‘আস-সলাত’’ ‘‘আস-সলাত’’ বলে ডাকতে হযরত আবদুল্লাহ বিন ওমর (রাঃ) প্রমূখ ‘বিদ‘আত’ বলেছেন। (তিরমিযী, মিশকাত-হা/ ৬১৬ এর টিকা আলবানী, সলাতুর রসূল ৪৫ পৃঃ)। তবে ব্যক্তিগতভাবে যদি কেউ কাউকে সলাতের জন্য ডাকেন জাগিয়ে দেন, তাতে তিনি অবশ্যই নেকী পাবেন। (সহীহ্ বুখারী-১/৮৩)
প্রচলিত ভুল ১৫
আমাদের সমাজে এক শ্রেণীর মৌলবীগণ ফাতওয়া দিয়ে থাকে যদি কেউ কোন কারণবশত ফজরের সুন্নাত পড়তে না পারে তা‘হলে সূর্য উঠার পর পড়তে হবে। (বেহেস্তী জেওর)
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম-এর পদ্ধতিঃ
জামা‘আতের জন্য ইক্বামত হলে ফরয সলাত ব্যতীত অন্য কোন (সুন্নাত বা নফল) সলাত হবেনা (তিরমিযী, সহীহ্ মুসলিম, মিশকাত-হা/১০৫৬) অতএব ফজরের ইক্বামত হওয়ায় সুন্নাত না পড়ে আমা‘আতের সাথে ফরয পড়ে নিতে হবে। অতঃপর ফরয শেষ করে (সূর্য ওঠার আগেই) দু’রাক‘আত সুন্নাত পড়ে নিবে। এটাই সুন্নাতি নিয়ম। (তিরমিযী, আবু দাউদ, মিশকাত ৯৭ পৃঃ সহীহ্)
* যদি একান্ত কোন কারনে ফরজ সালাত শেষ হবার পর সময় না পায় যেমন যদি কারো টয়লেটে গিয়ে সময় পার হয়ে যাওয়া বা হঠাৎ অসুস্থ হয়ে যাওয়া বা যা ওজর বলে গন্য শরীয়তের দৃষ্টিতে এমন কারনে যদি কারো সময় পার হয়ে যায় তাহলে সূর্য উঠার পর তা আদায় করে নিবে। - বাংলা হাদিস
প্রচলিত ভুল ১৬
আমাদের সমাজে তাথাকথীত কিছু সংখ্যক নামধারী আহলে হাদীসকে ‘বিসমিল্লাহ’কে সূরা ফাতিহার অংশ হওয়ার পক্ষে সৌদি আরবের কুরআনের নাম্বারকে দলীল হিসাবে উপস্থাপন করতে দেখা যায়। অনুরূপ ‘‘জেহেরী’’ অর্থাৎ স্বশব্দে পড়া সলাতে ‘বিসমিল্লাহ’ জোরে বলার দুর্বল হাদীস দ্বারা দলীল দিতে দেখা যায়। অথচ এর স্বপক্ষে নির্ভযোগ্য কোন ভিত্তি নেই।
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম)-এর পদ্ধতিঃ
বিসমিল্লাহ সূরা ফাতিহার অংশ হওয়ার স্বপক্ষে কোন সহীহ্ দলীল নেই (নায়ল ৩/৫২ পৃঃ সলাতূর রসূল-৪৯) আনাস বিন মালেক (রাঃ) বলেনঃ ‘‘ আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম), আবু বক্বর, ওমর ও ওসমান (রাঃ)-এর পিছনে সলাত আদায় করেছি। কিন্তু তাঁদের কাউকে ‘‘বিসমিল্লাহ’’ জোরে পড়তে শুনিনি।’’ (সহীহ্ মুসলিম, আহমাদ, নায়ল ৩/৩৯, দারাকুতনী-হা/ ১১৮৮-৯৫) ইবনু খুযায়মার রেওয়ায়াতে স্পষ্টভাবে এসেছে যে, তারা চুপে চুপে পড়তেন। (সহীহ্ ইবুন খুযায়মাহ-হা/৪৯৪-৭) দারাকুতনী বলেনঃ ‘‘বিসমিল্লাহ’’ জোরে বলার বিষয়ে কোন হাদীস ‘সহীহ্’ প্রমাণিত হয়নি। (নায়ল-৩/৪৭, ফিকহুয় সুন্নাহ-১/১০২, স. রসূল-৫০)

No comments:

Post a Comment