
প্রচলিত সালাতের ১০০ টি ভুল এবং তার বিবরন সমূহ:
প্রচলিত ভুল ১৭ থেকে ১৯পর্যন্ত :
“ইসলামকে জানুন” নিজে জানুন, আমল করুন এবং অন্যকে পৌছে দিন। ⭐⭐
প্রচলিত ভুল ১৭
আমাদের সমাজে অনেক মুসল্লিদের ‘তাকবীরে তাহরীমার’ সময় কানের লতি স্পর্শ করতে দেখা যায়, এবং অনেক কথীত মৌলবীদের সতর্কতা বসত কানে হাত লাগানোর কথা বলতে শুনা যায়।
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম-এর পদ্ধতিঃ
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম) হস্তদ্বয়কে কাঁধ বরাবর উঠাতেন। (সহীহ্ বুখারী-২ হা/৬৯৯-৭০০-৭০১-৭০২-৭০৩, সহীহ্ মুসলিম-২ হা/ ৭৪৫-৭৪৬-৭৪৮) আবার কখনও বা কানের লতি বরাবর উঠাতেন (আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ, নাসাঈ, সহীহ্ মুসলিম-২/১৪২ হা/৭৪৯-৭৫০)
প্রচলিত ভুল ১৮
প্রত্যেক ওয়াক্ত ফজর, যোহর, আছর, মাগরিব, এশা এবং বিত্র, জুমুআ, ঈদ ও অন্যান্য সলাত ফরয, সুন্নাত নফল এর জন্য পৃথক পৃথক আরবী নিয়্যাত পড়া হয়। (বেহেশতী জেওর ২/১৩০-১৩২ মাসআলা) অনুবাদে বলা হয়েছে ‘তবে বুযুর্গানে দ্বীন আরবী নিয়্যাত পছন্দ করিয়াছেন’ তাই আরবী নিয়্যাত করিতে পারিলে ভাল। নিম্মে আরবী নিয়্যাত লিখিয়া দেওয়া হইয়াছে। কিন্তু মূল কিতাবে নিয়্যাত লেখা নাই।
* রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম)-এর পদ্ধতিঃ
কোন জিনিষ সম্পন্ন করার ব্যাপারে মনের দৃঢ় সংকল্প এবং অন্তরের গভীর ইচ্ছা পোষণ করাকে শরীয়াতের পরিভাষায় নিয়্যাত বলে। আর উহার স্থান হলো-অন্তর বা কলব, এর সাথে মুখে উচ্চারণ করার কোন সম্পর্ক নেই। (ইগাছাতুল লুহফান-১/১৫৬ পৃঃ) সলাতে নিয়্যাত ফরয এবং শর্ত বটে, কিন্তু মৌখিক বলার অবকাশ নেই। মনে মনে খেয়াল করিয়া আল্লাহু আকবার বলিয়া হাত বাঁধিবে, ইহাতে সলাত হইয়া যাইবে। সাধারণের মধ্যে যে লম্বা চওড়া নিয়্যাত মাশহুর আছে, উহা বলার কোন প্রয়োজন নাই। (বেহেশতী জেওর-২/১৩০) হাফেয ইবনে কাইয়িম (রহঃ) লিখিয়াছেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন সলাতে দাঁড়াইতেন, তখন আল্লাহ আকবার বলিতেন এবং পূর্বে কিছুই বলিতেন না এবং মুখে কোন নিয়্যাত উচ্চারণ করিতেন না এবং একথাও বলিতেন না যে, আমি অমুক চার রাক’আত সলাত কিবলা মুখ করিয়া ইমাম অথবা মুক্তাদি হইয়া পড়িতেছি এবং আদা ও কাযা বা কোন ওয়াক্তের নাম নেন নাই। এইরূপ করা সম্পূর্ণরূপে বিদ’আত। এ ব্যাপারে একটি শব্দও রাসূলে কারীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম) কর্তৃক সহীহ্ সনদে বা যঈফ সনদে অথবা মুরছাল কোন হাদীসে বর্ণিত হয় নাই বরং এইরূপ কোন কার্য তাহার কোন সাধারণ সাহাবী কর্তৃক বর্ণিত হয় নাই, এবং এটা একজন তাবেঈনও পছন্দ করেন নাই। এমনকি ইমাম চতুষ্টয়ও মনপুতঃ মনে করেন নাই। (যাদুল মা’আদ ১/৫১ পৃঃ) নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম) বলেনঃ ‘আমলসমূহ নিয়্যাতের উপর নির্ভরশীল, আর প্রত্যেক ব্যক্তি তাই পাবে যা সে নিয়্যাত করবে।’ (১/৪১ সহীহ বুখারী, ৯/৪৬ সহীহ মুসলিম) আল্লামা মোল্লা কারী হানাফী বলেন, রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম) ত্রিশ হাজার সলাত পড়েছেন। তথাপি তাঁর থেকে একথা বর্ণিত নেই যে, আমি অমুক অমুক সলাতের নিয়্যাত করছি। তাঁর এই নিয়্যাত না পড়াটা সুন্নাত। যেমন তাঁর কাজ করা সুন্নাত। (মিশকাত১/৩৭ পৃঃ) তিনি অন্যত্র বলেন, শব্দ উচ্চারণ করে নিয়্যাত করা নাজায়িয। কারণ এটা বিদ’আত। অতএব, যে কাজ নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম) করেন নি সে কাজ সর্বদা যে করে সে বিদআতী।
প্রচলিত ভুল ১৯
প্রচলিত সলাতে তাকরীরে তাহরীমার পূর্বে মুসাল্লাহ্র দু’আ [জায়নামাজের দু'আ] হিসাবে ‘ইন্নি ওয়াজ্জাহাতু’-পড়া হয়।
(রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পদ্ধতিঃ
কোন সহীহ হাদীসে এইরূপ পড়ার নির্দেশ নাই। সহীহ হাদীসে আছে রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ‘‘সলাত শুরু হয় তাকবীর তাহরীমা বা আল্লাহু আকবার বলে এবং শেষ হয় সালামের মাধ্যমে। ‘ইন্নি ওয়াজ্জাহতু’- তাকবীরে তাহরীমার পর (সানা হিসাবে) পড়ার কথা হাদীসে আছে। (সহীহ বুখারী-১/১৩ পৃঃ, সহীহ মুসলিম-২১৯, ২৬৩, ২৬৪ পৃষ্ঠা, আবু দাউদ ১/১১০ পৃঃ তিরমিযী-২/১৭৯, ১৮০ পৃঃ, নাসাঈ -১/১৪২ পৃঃ, মিশকাত মাদ্রাসার পাঠ্য-২/৭৫৭, ৭৬৪
No comments:
Post a Comment