
প্রচলিত সালাতের ১০০ টি ভুল এবং তার বিবরন সমূহ ২০ থেকে ২২ পর্যন্ত :
“ইসলামকে জানুন” নিজে জানুন, আমল করুন এবং অন্যকে পৌছে দিন।
( প্রচলিত ভুল ২০)
দাঁড়ানো অবস্থায় উভয় পায়ের মাঝে চার আঙ্গুল পরিমাণ ফাঁকা রাখা উচিত (খুলাসা, ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী-১৯৪) এজন্যই দেখা যায় প্রচলিত সলাতে মুক্তাদিগণ কাঁধের সাথে কাঁধ এবং একে অপরের পায়ের সাথে পা মিলিয়ে না দাঁড়িয়ে বরং ফাঁক ফাঁক হয়ে দাঁড়ান, এটা সহীহ হাদীসের পিরীত। আর উল্লিখিত মাসআলার অনুসরণে একজনের দু’পায়ের মাঝে, চার আঙ্গুল ফাঁক রাখলে কষ্মিনকালেও অন্যের পায়ের সাথে পা মিলানো সম্ভব নয়। অথচ ঐ চার আঙ্গুল ফাঁক রাখাটা একটা কিয়াস যা সহীহ্ হাদীসের বিরোধী।
(রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম)-এর পদ্ধতিঃ
নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম) বলেনঃ ‘‘তোমরা তোমাদের কাতার সোজা করে নাও। কেননা আমি আমার পিছন দিক থেকেও তোমাদেরকে দেখতে পাই। (রাবী আনাস-রাঃ- বলেন) আমাদের প্রত্যেকেই তার পার্শ্ববর্তী ব্যক্তির কাঁধের সাথে কাঁধ এবং পায়ের সাথে পা মিলাতাম। (সহীহুল বুখারী) তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম) আরো বলেনঃ ‘‘তোমরা তোমাদের কাতার সমূহের মধ্যে পরস্পর ঘাড়সমূহকে সোজা রাখ। সেই সমহান সত্তার কসম যার হাতে আমরা প্রাণ! শয়তানকে দেখি সে কাতারের ফাঁক সমূহে প্রবেশ করে যেন কালো ভেড়ার বাচ্চা। (আবু দাউদ, দেখুন সহীহ বুখারী-১০০ পৃঃ, সহীহ মুসলিম-১৮২ পৃঃ, আবু দাউদ-৯৭ পৃঃ, তিরমিযী-৫৩ পৃঃ, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ- ৭১ পৃঃ দারা কুতনী-১/২৮৩ পৃঃ)
( প্রচলিত ভুল ২১)
প্রচলিত সলাতে নারীগণ বুকের উপর এবং পুরুষগণ নাভির নীচে হাঁত বাঁধে যার কোন বিশুদ্ধ ভিত্তি নাই। এক্ষেত্রে আহমাদ ও আবু দাউদ বর্ণিত হাদিসটি দলীল হিসাবে পেশ করা হয়। আলী (রাঃ) বলেনঃ ‘‘সুন্নাত হচ্ছে সলাতে ডান হাতকে বাম হাতের উপর রেখে নাভীর নীচে রাখা।’’ কিন্তু হাদিসটির সনদ দুর্বল, তাই উহা আমলযোগ্য নয়, তার বিপরীত সহীহ হাদীস নিম্মে উল্লেখ করা হলো।
* রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম-এর পদ্ধতিঃ
সাহল বিন সা’য়াদ (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ সলাতে লোকদেরকে ডান হাত বাম হাতের বাহুর উপর স্থাপন করার নির্দেশ দেওয়া হতো। (সহীহ বুখারী আঃ প্রঃ হা/৬৯৬, সহীহ্ মুসলিম ২/হা/৭৮০, ইফাবা আবু দাউদ ১/হা-৭৫৯।
(প্রচলিত ভুল ২২)
আমাদের সলাতে মুক্তাদিগণ ইমামের পিছনে সূরা ফাতিহা পাঠ করে না। অথচ সূরা ফাতিহা ছাড়া সলাত হয় না। (মিশকাত মাদ্রাসার পাঠ্য-২/৩৩০ পৃষ্ঠায় বলা হয়েছে মুক্তাদিদের সূরা ফাতিহা পড়া জায়েজ নয়।)
* রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পদ্ধতিঃ
নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম) বলেনঃ ‘‘যে ব্যক্তি এমন সলাত পড়ল যাতে সূরা ফাতিহা পড়ে নাই সে সলাত ত্রুটিপূর্ণ, ত্রুটিপূর্ণ, ত্রুটিপূর্ণ তথা অসম্পূর্ণ’’ (সহীহ বুখারী, সহীহ মুসলিম)। রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম) একদা ফজরের সলাত শেষে বলেন, তোমরা কি ইমামের পিছনে পাঠ কর? আমরা বললাম, হাঁ দ্রুত পড়ে নিই। তিনি বললেন, এরূপ করো না। তবে সূরা ফাতিহা পড়ে নিও। কেননা যে ব্যক্তি এ সূরা পড়বে না তার সলাত হবে না। (আবু দাউদ, তিরমিযী) তিনি আরো বলেন, যে ব্যক্তি সলাতে সূরা ফাতিহা পড়ল না তার সলাত হল না। (সহীহ বুখারী ১/১০৪ পৃঃ)
No comments:
Post a Comment