Saturday, December 19, 2015

সহীহ বুখারী: 7235




আপনাকে যদি প্রশ্ন করা হয় সবচেয়ে বড় পাপ কোনটি , আপনি হয়ত বলবেন যিনা-ব্যভিচার , গীবত , অন্যের হক নষ্ট করা ইত্যাদি অথচ এগুলো করার পরও তওবা করার মাধ্যমে অনেকেই আল্লাহর পথে ফিরে আসতে পারে। কিন্তু এমন একটা পাপ আছে যেটা করলে আর কখনও তওবা করার সুযোগ থাকে না।
_____________
•৷• সেটি হলো আত্মহত্যা । 
আত্মহত্যা এমন একটা পাপ যা কিনা একজন আল্লাহর পথে যুদ্ধরত সাহাবীকেও ফেলে দিতে পারে জাহান্নামের অতল গহ্বরে ।
_____________
সহীহ বুখারিতে একটা ঘটনা উল্লেখ আছে যে, একবার যুদ্ধের ময়দানে এক সাহাবী খুব বীরত্বের পরিচয় দিল এবং শেষ পর্যন্ত চরমভাবে আহত হলো । অন্যান্য সাহাবীরা তার সম্পর্কে রাসুল (সঃ) এর কাছে প্রশংসা করতে লাগল কিন্তু রাসুল (সঃ) বললেন সে জাহান্নামী।
_____________
সাহাবীরা সবাই আশ্চর্য হয়ে গেল , এক সাহাবী তাই ওই সাহাবির পিছু নিলেন এবং দেখতে চাইলেন যে, সে কি এমন কাজ করবে যে ওই কারণে সে জাহান্নামী হয়ে যাবে!!! পরে দেখা গেল, আহত হওয়ার পর প্রচণ্ড ব্যথা সইতে না পেরে ওই সাহাবী আত্মহত্যা করেছে!!!
_____________
খুবই কষ্ট লাগে যখন আমাদের বর্তমান সমাজে কিছু মুসলিম তরুণ তরুণীও এই ভয়ঙ্কর পথ বেছে নেয় অথচ আত্মহত্যার পূর্বে একবার কুরআনটা খুলে দেখে না যেখানে রয়েছে তার সকল সমস্যার সমাধান!! _____________
আল্লাহ তা’লা বলেন:
আল্লাহ কাউকে তার সাধ্যাতীত কোন কাজের ভার দেন না
(সুরাহ বাকারাহ-২৮৬)
_____________
এবং অবশ্যই আমি তোমাদিগকে পরীক্ষা করব কিছুটা ভয়, ক্ষুধা, মাল ও জানের ক্ষতি ও ফল-ফসল বিনষ্টের মাধ্যমে। তবে সুসংবাদ দাও সবরকারীদের।(সূরা বাকারাহ-১৫৫)
_____________
“আর তোমরা নিজেদের হত্যা করো না। নিঃসন্দেহে আল্লাহ তা’আলা তোমাদের প্রতি দয়ালু।“ (সূরা নিসা-২৯)
_____________
“যারা ঈমান এনেছে, আল্লাহ তাদের অভিভাবক। তাদেরকে তিনি বের করে আনেন অন্ধকার থেকে আলোর দিকে” (সূরা বাকারাহ-২৫৭)
_____________
রাসূল সাঃ আত্মহত্যা করার ভয়াবহ শাস্তির কথা উল্লেখ করে ইরশাদ করেছেন-
_____________
عَنْ أبي هريرة , عَن النبي – صلى الله عليه وسلم – قال : من تردى من جبل , فقتل نفسه , فهو في نار جهنم يتردى فيها خالدا مخلدا فيها أبدا , ومن تحسى سما , فقتل نفسه , فسمه في يده يتحساه في نار جهنم خالدا مخلدا فيها أبدا , ومن قتل نفسه بحديدة , ثم انقطع علي شيء , يعني خالدا , كانت حديدته في يده يجأ بها في بطنه في نار جهنم خالدا مخلدا فيها أبدا
_____________
হযরত আবু হুরায়রা রাঃ থেকে বর্ণিত। 
রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেনঃ 
_____________
যে ব্যক্তি পাহাড়ের উপর থেকে লাফিয়ে পড়ে আত্মহত্যা করে, সে জাহান্নামের আগুনে পুড়বে, চিরদিন সে জাহান্নামের মধ্যে অনুরূপভাবে লাফিয়ে পড়তে থাকবে। যে ব্যক্তি বিষপান করে আত্মহত্যা করবে, তার বিষ জাহান্নামের আগুনের মধ্যে তার হাতে থাকবে, চিরকাল সে জাহান্নামের মধ্যে তা পান করতে থাকবে, 
_____________
যে ব্যক্তি লোহার আঘাতে আত্মহত্যা করবে, সে জাহান্নামের মধ্যে লোহা তার হাতে থাকবে, চিরকাল সে তার দ্বারা নিজের পেটে আঘাত করতে থাকবে। {সহীহ বুখারী, হাদীস নং-৫৪৪২, সুনানে নাসায়ী, হাদীস নং-১৯৬৪}
_____________
•৷• আত্মহত্যা তো দূরে থাক, মৃত্যু কামনা করাও বৈধ নয়
আল্লাহর নির্দেশ ব্যতিরেকে কোন বিপদ আসে না এবং যে আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস করে, তিনি তার অন্তরকে সৎপথ প্রদর্শন করেন। (সূরা তাগাবুন-১১)
_____________
আত্মহত্যা তো দূরের কথা কোনো বিপদে পড়ে বা জীবন যন্ত্রনায় কাতর হয়ে মৃত্যু কামনা করতে পর্যন্ত বারণ করেছে। যেমন আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
_____________
لاَ يَتَمَنَّيَنَّ أَحَدُكُمُ الْمَوْتَ لِضُرٍّ نَزَلَ بِهِ فَإِنْ كَانَ لاَ بُدَّ مُتَمَنِّيًا فَلْيَقُلِ اللَّهُمَّ أَحْيِنِى مَا كَانَتِ الْحَيَاةُ خَيْرًا لِى وَتَوَفَّنِى إِذَا كَانَتِ الْوَفَاةُ خَيْرًا لِى
_____________
‘তোমাদের কেউ যেন কোনো বিপদে পতিত হয়ে মৃত্যু কামনা না করে। মৃত্যু যদি তাকে প্রত্যাশা করতেই হয় তবে সে যেন বলে, ‘হে আল্লাহ আমাকে সে অবধি জীবিত রাখুন, যতক্ষণ আমার জীবনটা আমার জন্য কল্যাণকর। আর আমাকে তখনই মৃত্যু দিন যখন মৃত্যুই হয় আমার জন্য শ্রেয়।’ [বুখারী : ৫৬৭১; মুসলিম : ৬৯৯০]
_____________
এক কথায় আত্মহত্যা করা কবীরা গোনাহ। আর কবীরা গোনাহ তওবা না করলে মাফ পাওয়া যায় না। কিন্তু আত্মহত্যাকারী ব্যক্তির তওবার কোন সুযোগ নেই। তবে তওবা না করলেও আল্লাহ তাআলা ইচ্ছে করলেই উক্ত ব্যক্তিকে নিজ রহমাতে মাফ করে দিতে পারেন। কিংবা তাকে দীর্ঘস্থায়ী শাস্তি দিতে পারেন। তাই এখন-ই সাবধান হন!

No comments:

Post a Comment