
বিসমিল্লা-হির রহমা-নির রহীম
সুদের ভয়াবহ পরিণাম
সুদ হারাম : যারা সুদ খায়, তারা সেই লোকের মত দাঁড়াবে যাকে শাইত্বন স্পর্শ দ্বারা বেহুশ করে দেয়, এ শাস্তি এজন্য যে, তারা বলে, ‘ক্রয়-বিক্রয় সুদের মতই’, অথচ ব্যবসাকে আল্ল-হ হালাল করেছেন এবং তিনি সুদকে হারাম করেছেন। সুতরাং যার নিকট তার প্রতিপালকের পক্ষ হতে উপদেশবাণী পৌঁছল এবং সে বিরত হল, পূর্বে যা (সুদের আদান-প্রদান) হয়ে গেছে, তা তারই, তার মীমাংসা আল্ল-হর জিম্মায় এবং যারা আবার আরম্ভ করবে তারাই অগ্নির বাসিন্দা, তারা তাতে চিরকাল থাকবে। (সূরাহ্ আল বাক্বার-হ, ২৭৫)
আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্ল-হ (সা.) বলেছেন : ৭টি ধ্বংসকারী বিষয় থেকে বেঁচে থাকবে। তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে সুদ খাওয়া। (সহীহুল বুখারী হাঃ ৬৮৫৭)
সুদ খাওয়ার গুনাহ : ‘আবদুল্ল-হ (রাযি.) যিনি মালাক (ফেরেশতা) কর্তৃক গোসল প্রদত্ত হানযালার পুত্র, তিনি বলেন, রসূলুল্ল-হ (সা.) বলেছেন : সুদের মাত্র একটি রৌপ্য মুদ্রাও যে ব্যক্তি জেনে-শুনে খায়, তার গুনাহ ৩৬ বার যিনা করা অপেক্ষা বেশী গুনাহ হয়। আহমাদ, দারাকুত্বনী এবং বায়হাকী শু‘আবুল ঈমানে ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) থেকে বর্ণনা করেছেন। তাতে অতিরিক্ত এও আছে- রসূলুল্ল-হ (সা.) বলেছেন : যে ব্যক্তির দেহের গোশ্ত হারাম মালে গঠিত, তার জন্য জাহান্নামই অধিক শ্রেয়। (মুসনাদ আহমাদ হাঃ ২১৯৫৭, ১৫২৮৪, মিশকাতুল মাসাবীহ হাঃ ২৮২৫)
সুদ খাওয়া মায়ের সাথে যিনার শামিল : আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) বলেন, রসূলুল্ল-হ (সা.) বলেছেন : সুদের গুনাহ ৭০ ভাগের ক্ষুদ্রতম ভাগ এই পরিমাণ যে, কোন স্বীয় মাতাকে বিবাহ করে। (মুসনাদ আহমাদ হাঃ ৭০২৯, মিশকাতুল মাসাবীহ হাঃ ২৮২৬)
রসূলুল্ল-হ (সা.) যাদের ওপর অভিশাপ দিয়েছেন : ‘আলী (রাযি.) থেকে বর্ণিত। তিনি রসূলুল্ল-হ (সা.)-কে অভিশাপ করতে শুনেছেন- সুদখোরের প্রতি এবং সুদ প্রদানকারীর প্রতি এবং সুদের ঋণপত্র লেখকের প্রতি। আরো অভিশাপ করেছেন দান-খয়রাতে বাধা দানকারীর প্রতি। আর তিনি (সা.) নিষেধ করতেন মৃতের জন্য বিলাপ করে কাঁদা থেকে। (নাসায়ী হাঃ ৫১০৩, মিশকাতুল মাসাবীহ হাঃ ২৮২৯)
সুদে অভাব আসে : ‘আবদুল্ল-হ ইবনু মাস‘ঊদ (রাযি.) বলেন, রসূলুল্ল-হ (সা.) বলেছেন : সুদের দ্বারা সম্পদ বেশী হলেও পরিণামে অভাব আসে।
(মুসনাদ আহমাদ হাঃ ৩৭৫৪, মিশকাতুল মাসাবীহ হাঃ ২৮২৭)
No comments:
Post a Comment