Saturday, July 29, 2017

ইমান ও আমল বিধ্বংসী শির্ক সম্পর্কে জানুন এবং নিজেকে যাবতীয় শির্ক থেকে বিরত রাখুন।



No automatic alt text available.



★[{(সময় থাকতে ইমান ও আমল বিধ্বংসী শির্ক সম্পর্কে জানুন এবং নিজেকে যাবতীয় শির্ক থেকে বিরত রাখুন। অন্যথায় আখিরাতে আফসোস করা ছাড়া কোন উপায় থাকবে না।)}]
===================>
# শির্ক কী?
----------------
@ রব ও ইলাহ হিসাবে আল্লাহর পাশাপাশি অন্য কাউকে বিশ্বাস এবং কর্মের দ্বারা আল্লাহর সমকক্ষ সাব্যস্ত করার নামই শিরক৷
অর্থাৎ আল্লাহকে ডাকার মত অন্যকে ডাকা, আল্লাহকে ভয় করার মত অন্যকে ভয় করা, যা আল্লাহর কাছে কামনা করা হয়, অন্যের কাছে তা কামনা করা, আল্লাহকে ভালোবাসার মত অন্যকেও ভালোবাসা।
.
*এ সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেন, 
“মানুষের মধ্যে এমন একদল লোক আছে যারা আল্লাহ ছাড়া অন্যদেরকে শরীক বানিয়েছে এবং তাদেরকে এমনভাবে ভালবাসে যেমন আল্লাহকে ভালোবাসা উচিত, আর যারা ঈমান এনেছে তারা আল্লাহকেই সর্বাধিক ভালবাসে।" --(সূরা আল বাকারা: ১৬৫)।
*শির্ক হলো সবচেয়ে বড় জুলুম। ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন এ আয়াত অবতীর্ণ হয়ঃ 
'যারা ঈমান এনেছে এবং তারা তাদের ঈমানকে যুলুম দ্বারা কলূষিত করেনি' (আল-আন্‘আম ৮২)। 
তখন আমরা বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের মধ্যে কে এমন আছে, যে নিজের উপর জুলুম করেনি? তিনি বললেন, তোমরা যা বলছ ব্যাপারটি তা নয়। বরং তাদের ঈমানকে ‘জুলুম’ অর্থাৎ শির্ক দ্বারা কলূষিত করেনি। তোমরা কি লুকমানের কথা শুননি? তিনি তাঁর পুত্রকে বলেছিলেন, 
‘হে বৎস! আল্লাহর সঙ্গে কোন রকম শির্ক করো না। নিশ্চয় শির্ক একটা বিরাট জুলুম।' (লুকমানঃ ১৩)।"
[সহীহ বুখারী (তাওহীদ),৩৩৬০ আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩১১১, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৩১১৯)]
#শির্কের ভয়াবহতা: 
------------------------------
শির্ক সবচেয়ে ভয়ঙ্করী পাপ। এর ভয়াবহতা সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেনঃ
“কেউ আল্লাহর সাথে শরীক করলে আল্লাহ তার জন্য জান্নাত অবশ্যই হারাম করবেন; এবং তার আবাস হবে জাহান্নাম; যালিমদের জন্য কোন সাহায্যকারী নেই ”
--(সুরা মায়িদা : ৭২)
.
*মহান আল্লাহ আরো বলেনঃ
" আর যে আল্লাহর সাথে শরীক করে সে যেন আকাশ হতে পড়লো, এরপর পাখি তাকে ছোঁ মেরে নিয়ে গেল কিংবা বায়ু তাকে উড়িয়ে নিয়ে গিয়ে এক দূরবর্তী স্থানে নিক্ষেপ করলো ” --( সুরা হাজ্জঃ ৩১)
.
*মহান আল্লাহ আরো বলেনঃ
" যারা আল্লাহ্ তাআলার উপর ঈমান এনেছে এবং নিজ ঈমানকে শির্ক দারা কলুষিত করেনি প্রকৃত পক্ষে তাদের জন্যই রয়েছে শান্তি ও নিরাপত্তা এবং তারাই সঠিক পথপ্রাপ্ত ” --(সুরা আন্আমঃ ৮২)
.
*শির্ক পিছনের সমস্ত আমল নষ্ট করে দেয়। এ সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেন,
“আর যদি তারা শিরক করে তাহলে তাদের সকল আমল বিনষ্ট হয়ে যাবে।” --(সুরা আনআম: ৮৮)
"আপনার প্রতি এবং আপনার পূর্ববর্তীদের পতি প্রত্যাদেশ হয়েছে, যদি আল্লাহর শরীক স্থির করেন, তবে আপনার কর্ম নিষ্ফল হবে এবং আপনি ক্ষতিগ্রস্তদের একজন হবেন।" --(সূরা যুমার: ৬৫)।
.
* শির্ক সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (সঃ) বলেনঃ
"যে ব্যক্তি এমতাবস্থায় মৃত্যু বরন করলো যে—সে আল্লাহর সাথে কোন বস্তু বা ব্যক্তিকে শরিক করেছে তাহলে সে নিশ্চিতভাবে জাহান্নামে প্রবেশ করবে,,,।" --(বুখারী, হা:১২৩৮, ৪৪৯৭, ৬৬৮৩, মুসলীম হা: ৯২)
.
* রাসুলুল্লাহ (সঃ) আরো বলেনঃ
"তুমি আল্লাহর সাথে কোন ব্যক্তি/বস্তুকে শরিক করোনা! যদিও তোমাকে হত্যা করে জালিয়ে দেওয়া হয়" --(মুসলীম হা:৯৩/তাবরানী কাবীর হা:৪৭৯/ আওসাত হা:১৫৬/বায়হাকী হা:১৪৫৫৪)
.
* রাসুলুল্লাহ (সঃ) আরো বলেনঃ
"তোমরা সাত প্রকার সর্বনাশী কর্ম থেকে দূরে থাক।’’ লোকেরা বলল, ‘সেগুলো কি কি হে আল্লাহর রসূল!’ তিনি বললেন, 
[১] ‘‘আল্লাহর সাথে শির্ক করা। 
[২] যাদু করা। 
[৩] অন্যায়ভাবে এমন জীবন হত্যা করা, যাকে আল্লাহ হারাম করেছেন। 
[৪] সুদ খাওয়া। 
[৫] এতীমের ধন-সম্পদ ভক্ষণ করা। 
[৬] ধর্মযুদ্ধ কালীন সময়ে [রণক্ষেত্র] থেকে পৃষ্ঠ প্রদর্শন করে পলায়ন করা। 
[৭] সতী-সাধ্বী উদাসীনা মু’মিনা নারীদের চরিত্রে মিথ্যা কলঙ্ক আরোপ করা।’’ (বুখারী-মুসলিম)
.
আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি যে, আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘‘হে আদম সন্তান! যখন তুমি আমাকে ডাকবে ও আমার ক্ষমার আশা রাখবে, আমি তোমাকে ক্ষমা করব, তোমার অবস্থা যাই হোক না কেন; আমি কোন পরোয়া করি না। হে আদম সন্তান! তোমার গোনাহ যদি আকাশ পর্যন্ত পৌঁছে যায়, অতঃপর তুমি আমার নিকট ক্ষমা চাও, তবুও আমি তোমাকে ক্ষমা করব; আমি কোন পরোয়া করি না। হে আদম সন্তান! তুমি যদি পৃথিবী পরিমাণ পাপ নিয়ে আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ কর; কিন্তু আমার সঙ্গে কাউকে শরীক না করে থাক, তাহলে পৃথিবী পরিমাণ ক্ষমা নিয়ে আমি তোমার নিকট উপস্থিত হব।’’ (তিরমিযী ৩৫৪০ -হাসান)
# শির্কের প্রকারভেদঃ
------------------------------
@শিরক দুই প্রকার।
১. শিরকে আকবার (বড় শিরক): যে শির্ক বান্দাহকে মুসলিম মিল্লাতের গন্ডী থেকে বের করে দেয়৷ এ ধরণের শিরকে লিপ্ত ব্যক্তি যদি শিরকের উপরই মৃতু্যবরণ করে, এবং তা থেকে তওবা না করে থাকে, তাহলে সে চিরস্থায়ী ভাবে জাহান্নামে অবস্থান করবে৷
২. শিরকে আসগার (ছোট শিরক): শিরকে আসগার বান্দাহকে মুসলিম মিল্লাতের গন্ডী থেকে বের করে দেয়না, তবে তার একত্ববাদের আক্বীদায় ত্রুটি ও কমতির সৃষ্টি করে৷ এটি শিরকে আকবারে লিপ্ত হওয়ার অসীলা বা মাধ্যম৷ 

No comments:

Post a Comment