
সম্মানিত ৪টি মাসে করনীয় ও বর্জনীয় কি কি?
~~~~
বড়ই পরিতাপের বিষয় যে, সাধারণ মুসলিমদের অনেকে সম্মানিত মাস সম্পর্কে কোন ধারণাই রাখেন না। এমনকি নিয়মিত নামাজী লোকদেরও কাজেকর্মে অন্য মাসের সাথে সম্মানিত মাসসমুহের কোন পার্থক্য থাকে না।
যে মাসসমূহের আলোচনা আল্লাহ করেছেন কুরআনে, রাসুল সা: তার বিশ্লেষণ করেছেন বহু হাদীসে, সেগুলো সম্পর্কে ধারণা ও কর্মপন্থা নির্ধারণ করা একজন মুসলিমের জন্য অবশ্য কর্তব্য।
আল্লাহ তাআ'লা বলেন-"নিশ্চয়ই মাসসমূহের সংখ্যা হচ্ছে আল্লাহর নিকট বারো মাস আল্লাহর কিতাব (লওহে মাহফুজে), আল্লাহর যমীন ও আসমানসমূহ সৃষ্টি করার দিন হতেই, এর মধ্যে বিশেষরূপে চারটি মাস হচ্ছে সম্মানিত, এটাই হচ্ছে সুপ্রতিষ্ঠিত দ্বীন। অতএব তোমরা এমাসগুলোতে (অন্যায় কাজ করে ও এই মাসগুলোর সম্মানহানী করে) নিজেদের প্রতি নিজে অত্যাচার করো না।"
-সুরাতাওবা/আয়াত৩৬
সাহাবী আবু বাকরাহ রা: বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়সাসাল্লাম বিদায় হজ্জের ভাষণে বলেছেন-সম্মানিত ৪টি মাসের তিনটি হলো ধারাবাহিক। যথা-যিলক্বদ, যিলহাজ্জ ও মুহাররাম। এবং (অপরটি হলো) রজব। -বোখারী ও মুসলিম।
১/যুদ্ধবিগ্রহ না করা। -সুরা বাকারা/২১৭
২/ঝগড়া-বিবাদ না করা। সুত্র-প্রগুক্ত
৩/রমজান ছাড়া অন্যসব মাসের চেয়ে এগুলোর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া ও সম্মান করা।-সুরা তাওবা/৩৬
৪/অন্যমাসের চেয়ে এই মাসগুলোতে পাপাচার কম করার চেষ্টা করা।-সুত্র-সুরা হাজ্জ২৫
৫/অন্যমাসের চেয়ে এই মাসগুলোতে নেক আমলের গুরুত্ব বেশি দেওয়া।
৬/মহররম মাসের ১০তারিখে রোযা রাখা এবং তার পুর্বে বা পরে আরো একদিন রোযা রাখা।-মুসলিম।
১/কুরআন ও হাদীসে বর্ণীত হয়নি এমন কোন কাজ এমাসের কর্মসূচির গন্য করা।
২/মহররম মাসকে হযরত হুসাইন রা: এর শাহাদাতের কারণে অপয়া মনে করা।
৩/১০ই মহররম বা আশুরার দিনে হুসাইন রা: এর শাহাদাতের শোক পালনের নামে মেক মিছিল, মাতম, হাতপা রক্তাক্ত করণ সহ যেকোন কর্মসূচি পালন করা।
৪/আশুরার দিনে সংগঠিত কারবালার নির্মমতার সঙ্গে ইয়াহুদীদের বিকৃত ও মিথ্যা ইতিহাসের ভিত্তিতে আল্লাহর রাসুলের কোন সাহাবীকে জড়িয়ে সমালোচনা করা।
No comments:
Post a Comment